স্কুলে শিকেয় উঠেছে স্বচ্ছ মিশন

ছাত্রছাত্রীদের জন্য খান সাতেক শৌচাগার রয়েছে স্কুলে। কিন্তু মাত্র দু’টি ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা হয়ে রয়েছে বাগনান উত্তর চক্রের চাকুর হরিশ সেমিনারি হাইস্কুলে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০১:১৪
Share:

এমনই অবস্থা স্কুলের শৌচাগারগুলির। —নিজস্ব চিত্র

ছাত্রছাত্রীদের জন্য খান সাতেক শৌচাগার রয়েছে স্কুলে। কিন্তু মাত্র দু’টি ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা হয়ে রয়েছে বাগনান উত্তর চক্রের চাকুর হরিশ সেমিনারি হাইস্কুলে।

Advertisement

স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, কোনও শৌচাগারের দরজা নেই, নোংরা আবর্জনায় ভর্তি। কোনও শৌচাগারে দরজা থাকলেও পাইপে জল পড়ে না। ফলে পড়ুয়াদের ছুটতে হয় স্কুলের পাশে কারও বাড়িতে বা নিজের ঘরে দৌড়তে হয়। অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বা পরিচালন সমিতির হুঁশ নেই নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক থেকে পড়ুয়া সকলেই। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কয়েকবার কয়েকটি শৌচাগার সংস্কার করেছে। কিন্তু স্কুলের চারপাশে পাঁচিল না থাকায় দুষ্কৃতীরা এসে শৌচাগারের ক্ষতি করে দিচ্ছে। সমস্যার কথা শিক্ষা দফতর, বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতি-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েও সুরাহা হয়নি বলে পাল্টা অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের। প্রধান শিক্ষক আশিসকুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘পাঁচিল দিয়ে স্কুলটি ঘেরা হয়ে গেলে আশা করছি এই সমস্যা আর হবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সাহায্য ছাড়া কোনও সুরাহা হওয়া সম্ভব নয়।’’ স্কুলের বর্তমান পরিচালন সমিতির সভাপতি তৃণমূলের রবীন হাজরা একধাপএগিয়ে আবার পূর্বতন বোর্ডের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আগে যারা ছিল তারা উদ্যোগী হয়নি। তবুও আমরা দু’টি শৌচাগার সংস্কার করেছি। বাকিগুলি সংস্কার করা, জল-সহ পরিকাঠামোর উন্নতি করব।’’ পূর্বতন কংগ্রেস বোর্ডের প্রাক্তন সম্পাদক হাসান আলির দাবি, ‘‘প্রথমে ক্লাসরুম তৈরি করার চেষ্টা করেছি। কিছু শৌচাগারও হয়েছে। ক্লাসরুম করার টাকায় তো পাঁচিল দেওয়া যায় না।’’

এ দিকে, এ সব তরজা-যুক্তি মানতে নারাজ অভিভাবকেরা। শৌচাগারের এই বেহাল অবস্থার জন্য তাঁরা কয়েকবার বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। তার পরেই দু’টি শৌচাগারের দরজা লাগিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, পরিবেশ সুস্থ রাখতে কেন্দ্র সরকার যেখানে স্বচ্ছ ভারত মিশন এবং রাজ্য সরকার স্বচ্ছ বাংলা মিশন নামে প্রকল্প চালু করেছে, সেখানে এই স্কুলের এমন হাল হবে কেন? স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন কেন উদাসীন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহু অভিভাবক বলেন, ‘‘আমরা চাই স্কুলের উন্নতি। সেটা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন যে ভাবে হোক করুক।’’ বাগনান ১ ব্লকের বিডিও ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে হাওড়ার স্কুল পরিদর্শক তাপস বিশ্বাস জানান, এই অবস্থা কাম্য নয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement