ধান-আলু লাভ দেয়নি, ফের বর্ষায় পেঁয়াজ চাষে উদ্যোগ

হুগলিতে বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষ চালু হয়েছে বছর তিনেক আগেই। কিন্তু চাষিরা সে ভাবে আগ্রহ দেখাননি। এ বছর ধান এবং আলুর দাম না-থাকায় দিশাহারা চাষিদের কিছুটা আলো দেখাতেই ফের বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষ নিয়ে ব্লক ধরে বিশেষ প্রচার এবং শিবিরের আয়োজন করছে জেলা উদ্যানপালন দফতর।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০১৫ ০১:৫৪
Share:

হুগলিতে বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষ চালু হয়েছে বছর তিনেক আগেই। কিন্তু চাষিরা সে ভাবে আগ্রহ দেখাননি। এ বছর ধান এবং আলুর দাম না-থাকায় দিশাহারা চাষিদের কিছুটা আলো দেখাতেই ফের বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষ নিয়ে ব্লক ধরে বিশেষ প্রচার এবং শিবিরের আয়োজন করছে জেলা উদ্যানপালন দফতর। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে বলাগড়-হরিপাল-গোঘাটের পর বুধবার আরামবাগ ব্লকে সেই কর্মসূচি হল। ৫০ জন চাষিকে নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবিরে বীজতলা তৈরি থেকে পেঁয়াজ তোলা পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

Advertisement

জেলা উদ্যানপালন দফতরের আধিকারিক মানসরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, ‘‘বর্ষায় পতিত উঁচু জমি ব্যবহার করে পেঁয়াজ চাষ করলে চাষিরা উপকৃত হবেন। সেচের উপর নির্ভরশীল আমন ধানের বিকল্প হিসেবে অত্যন্ত লাভজনক এই চাষ চাষিদের নতুন দিশা দেখাবে।’’

অবশ্য বছর তিনেক আগে এই বিকল্প চাষ শুরুর সময়েও একই দাবি ছিল ওই দফতরের। প্রথম দু’বছর চাষিদের উত্‌সাহিত করতে নিখরচায় বীজ সরবরাহ করা হয়েছিল। ছিল সরকারি অনুদানও। কিন্তু গত বছর থেকে সরকার ভর্তুকি এবং অনুদান কমিয়েছে। চাষিদের বীজ কিনতে হচ্ছে। কমেছে চাষের এলাকাও।

Advertisement

মানসবাবু অবশ্য মনে করছেন, যে হেতু পেঁয়াজ চাষ লাভজনক, তাই ধান এবং আলুতে ক্ষতির পরে এ বার চাষিরা উৎসাহিত হবেন। ওই দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর ৩৭৫ বিঘা জমিতে বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এক শতক জমি চাষ করার জন্য চাষির ২০০ টাকা খরচ হলে ৮০ টাকা ভর্তুকি দেবে সরকার। তবে, ‘এগ্রি ফাউন্ড ডার্ক রেড’ প্রজাতির বীজ ব্যবহার করতে হবে চাষিকে। নাসিক থেকে ওই প্রজাতির বীজ যাতে চাষিরা পান, তার জন্য যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেবে দফতর। বীজ বপনের সময় জুন মাসের শেষ থেকে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ। দু’মাস পরেই দুর্গাপুজোর সময় গাছ-সহ পেঁয়াজ ভাল দামে বিক্রি করতে পারবেন চাষিরা।

ওই দফতরের উদ্যোগে ‘রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা’র আওতায় ২০১২ সালে জেলার মধ্যে পরীক্ষামূলক ভাবে মাত্র ১৫ বিঘা জমিতে বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন বলাগড়, পোলবা এবং চুঁচুড়া-মগরা ব্লক এলাকায় জনা কয়েক চাষি। চাষে সাফল্য মেলায় পরের বছর চাষের এলাকা বেড়ে প্রায় ১১০ হেক্টরে পৌঁছয়। চাষ শুরু হয় আরামবাগ, গোঘাট, তারকেশ্বর, হরিপাল এবং ধনেখালি ব্লক এলাকাতেও। সেই সব এলাকাকেই বাছা হয়, যেখানে জমি উঁচু হওয়ায় সেচ দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে আমন ধান ফলাতে হয় চাষিদের। অতিরিক্ত খরচ করেও যেখানে চাষিরা সে ভাবে লাভ পান না। কেউ কেউ জমি ফেলেও রাখেন। সেই সব জমিতে বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষের প্রচলন করে বিকল্প চাষে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প বলে দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন।

Advertisement

উদ্যানপালন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষে বিঘাপিছু খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা। মূল খরচ হয় সার ও অনুখাদ্য প্রয়োগে এবং আগাছা ও রোগপোকা নিয়ন্ত্রণ করতে। এ ছাড়া রয়েছে পেঁয়াজ রোপণ এবং তোলার শ্রমিক-খরচ। বর্ষায় আমন ধানে জমি তৈরি থেকে ধান তোলা অব্দি এক বিঘায় খরচ হয় প্রায় ৯ হাজার টাকা। বিঘায় ২০ মণ বা ৮ কুইন্টাল ধানের ফলন পেলেও বড় জোড় ১২০০ টাকা কুইন্টাল দরে বিক্রি করা যায়। লাভ থাকে মাত্র ৬০০ টাকা। সেখানে পেঁয়াজ চাষ করে যদি ১০০ মণের বদলে ৮০ মণও ফলন পাওয়া যায়, তা হলেও খরচ বাদ দিয়ে বিঘায় লাভ থাকবে ৬০ হাজার টাকা। বর্ষায় সাধারণত পেঁয়াজের দাম থাকে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement