আগুনে পুড়ে যাওয়ার পরে। —নিজস্ব চিত্র।
একটি বাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ায় অগ্নিদগ্ধ হলেন ছ’জন। আহতদের মধ্যে একটি বালিকা ও তিন মহিলা রয়েছেন। সকলকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পুড়ে যায় বাড়ির যাবতীয় আসবাবপত্র, জামাকাপড়, দরজা-জানলা। রবিবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে বাগনানের বাড় ভগবতীপুর এলাকায়। দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। দমকলের হাওড়া ডিভিশনের আধিকারিক সমীর চৌধুরী জানান, সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক করার ফলেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দোতলা বাড়িটি ভ্যানচালক মসিয়ার রহমানের। বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান থাকায় সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ তাঁর স্ত্রী হাফেজা বেগম রান্নার তোড়জোড় করতে রান্নাঘরে ঢোকেন। তিনি গ্যাস জ্বালাতেই আগুন জ্বলে ওঠে। তাঁর কাপড়ে আগুন লেগে যায়। তাঁর চিৎকার শুনে দোতলার ঘর থেকে নেমে আসেন মসিয়ার। তাঁরও জামাকাপড়ে আগুন লাগে। ওই অবস্থাতেই স্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে তিনি গ্যাস সিলিন্ডারটি বাড়ির বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মূল গেটের সামনে পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আর পারেননি। আগুন থেকে বাঁচতে তিনি পাশের পুকুরে ঝাঁপ মারেন। বাড়িটির নীচের তলায় একটিই ঘর। সেই ঘরেও আগুন ছড়ায়। ঘরে ছিলেন মসিয়ারের ছেলে শেখ আমিরুল, পুত্রবধূ ইয়াসমিনা বেগম, দিদি সাহানারা বেগম এবং তাঁর আত্মীয় বছর দশেকের বানু খাতুন। তাঁরাও অগ্নিদগ্ধ হন। কোনও রকমে বিছানার চাদর, কাঁথা জড়িয়ে তাঁরা আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন।
ওই বাড়ি থেকে গল গল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখে এবং চিৎকার শুনে কিছু ক্ষণের মধ্যেই জড়ো হয়ে যান পড়শিরা। কিন্তু ঘরের সামনে সিলিন্ডারটি জ্বলতে থাকায় তাঁরা ঢুকতে পারেননি। বাড়ির লোকজনও বেরোতে পারেননি। বাইরে থেকে জল-বালি ছুড়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা হয়। দরজা-জানলা ভেঙে অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া বাগনান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মসিয়ার, ইয়াসমিনা এবং বানুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করানো হয়।
ওই বাড়ির পাশেই মসিয়ারের ভাই শেখ নুর ইসলাম থাকেন। দাদার বাড়িতে ওই কাণ্ড দেখে তিনিও চলে আসেন। নুর ইসলাম বলেন, ‘‘গ্যাস সিলিন্ডারটা এমন জায়গায় ছিল যে আমরা কিছুতেই ঢুকতে পারিনি। জল-বালি ছুড়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি।’’
ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পড়শিরা বাড়ি থেকে পোড়া জিনিসপত্র বাইরে বের করছেন। চলছে আগুন নেভানোর কাজ। হাজির পুলিশ এবং দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আসে।