সব ঠিকঠাক চললে আর দু’দিনেই দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে বর্ষা। — ফাইল চিত্র।
খাতায়-কলমে যে দিন ভারতের মূল ভূখণ্ডে তার প্রবেশ করার কথা ছিল, সে দিন করেনি। তবে বেশি দিন অপেক্ষাতেও রাখেনি। ভারতীয় মৌসম ভবন (আইএমডি) জানিয়ে দিল, সব ঠিকঠাক চললে ৪ জুন কেরলে প্রবেশ করতে পারে বর্ষা। সপ্তাহান্তে সেখানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও রয়েছে। বর্ষা প্রবেশের পরে ছ’দিন রাজ্যের কিছু কিছু অংশে অতি ভারী (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গবাসীর মনে প্রশ্ন, এ রাজ্যে কবে আসবে বর্ষা। এমনিতে উত্তরবঙ্গে ১০ জুন খাতায়-কলমে বর্ষা আসার দিন। তার পরে ক্রমে দক্ষিণবঙ্গের দিকে এগিয়ে যায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। তবে এ বছর কবে রাজ্যে বর্ষা প্রবেশ করবে, তা নিয়ে এখনও কিছু স্পষ্ট করেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। খাতায়-কলমে যে দিন বর্ষা রাজ্যে প্রবেশের কথা থাকে, তার থেকে চার দিন আগে বা পরে তা প্রবেশ করতে পারে বলে ধরে নেওয়া হয়।
এমনিতে দেশের মূল ভূখণ্ডে খাতায়-কলমে বর্ষা প্রবেশ করে ১ জুন। কেরলের মধ্যে দিয়েই মূল ভূখণ্ডে ঢোকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এ বার ৪ জুন তা প্রবেশ করছে বলে মনে করছেন আবহবিদেরা। মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকের কিছু অংশেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুর কারণেই সেখানে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু উত্তরের দিকে অগ্রসর হবে। এ দেশে বর্ষার প্রবেশ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কারণ দেশের বড় অংশে কৃষিকাজ এই বর্ষার উপরে নির্ভর করে হয়ে থাকে।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কেরলে বর্ষা চলবে। তা ছাড়া দেশের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য এবং পূর্ব অংশেও বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে আগামী কয়েক দিন। বৃষ্টির পাশাপাশি ওই সব অংশে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ঝড় হতে পারে। দেশের ওই সব অংশের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ভারতে দিল্লি, এনসিআর, রাজস্থান, পঞ্জাবে আগামী কয়েক দিন বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গেও বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বেশ কিছু অংশে ইতিমধ্যে প্রাকবর্ষার বৃষ্টির কারণে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
প্রথমে মনে করা হয়েছিল, এ বছর দেশে সময়ের আগেই প্রবেশ করতে পারে বর্ষা। সেই মতো মৌসম ভবন জানিয়েছিল, ৬ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। তার পরে সেই দিনক্ষণ পিছিয়ে মৌসম ভবন জানায়, ২৮ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। পরে সেই আগমনের দিন আবার পিছিয়ে যায়। পূর্বাভাস ছিল, ১ জুন, নির্ধারিত দিনেই ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। শেষপর্যন্ত তা পিছিয়ে গেল আরও তিন দিন।
গত বছর সময়ের আগে দেশে এসেছিল বর্ষা। ২৪ মে কেরলে প্রবেশ করেছিল। ২০২৪ সালে দেশে বর্ষা প্রবেশ করে সরকারি ভাবে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে। ৩০ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে।