সাম্প্রদায়িকতা সব সময়ই বড় বিপদ। সেই বিপদের মোকাবিলায় বৃহত্তর গণতান্ত্রিক মঞ্চের কথা বলতেন প্রাক্তন সিপিএম এবং পরে পিডিএসের প্রতিষ্ঠাতা-নেতা সৈফুদ্দিন চৌধুরী। প্রয়াত নেতার ৬৫তম জন্মদিন পালনের মঞ্চ থেকে ঝান্ডা ছেড়ে একজোট হয়ে লড়াইয়ের কথাই বলল পিডিএস। সেই সঙ্গেই তারা সমালোচনা করল সিপিএমে প্রকাশ কারাটের লাইনের!
সাম্প্রদায়িক বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারকে রুখতে জোট বেঁধে লড়াইয়ের পক্ষে সম্প্রতি সওয়াল করেছিলেন ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব। সিপিএমের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আবার তাঁর জবাবি যুক্তিতে লিখেছেন, বিভিন্ন রাজ্যে শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট করে তাঁরা ভুল করেছিলেন। ফলে ওই সব রাজ্যে সিপিএমের নিজস্ব শক্তি বাড়েনি। কারাটের এই যুক্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলে সোমবার মৌলালি যুবকেন্দ্রের অনুষ্ঠানে পি়ডিএসের রাজ্য সম্পাদক সমীর পূততুণ্ড বলেন, ‘‘যেটা ভুল নয়, সেটাকে এখন ভুল বলা হচ্ছে! ভুল বরং হয়েছে বিহারে জোটে না গিয়ে। বিজেপি-র বিরুদ্ধে মহাজোটে বিহারে সিপিএমকেও ডাকা হয়েছিল। তারা যদি সেই আমন্ত্রণ স্বীকার করতো, সিপিএমের মধ্যে বিতর্কের মীমাংসা আগেই হয়ে যেত। বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে এই টানাপড়েন তৈরি হতো না!’’ বিহারে বিজেপি-বিরোধী মহাজোটে সামিল হওয়া উচিত ছিল বলে মত দিয়েছিলেন হাবিবও।
বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি দিয়ে সমীরবাবু প্রস্তাব দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাম, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে ঝান্ডা ছেড়ে যৌথ আন্দোলনের মঞ্চ গড়ে তোলা হোক। সফি-স্মরণেও সে কথা বলেছেন সমীরবাবু। অনুষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে সংসদে সফির দলনেতা ও প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ও লিখেছেন, প্রয়াত প্রাক্তন সাংসদ গণতন্ত্রের জন্য প্রশস্ত মঞ্চের গুরুত্ব বরাবর প্রচার করে গিয়েছেন।