সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে আশাকর্মীদের বিক্ষোভ। —নিজস্ব চিত্র।
স্বাস্থ্য ভবনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরেও সন্তুষ্ট হতে পারলেন না আশাকর্মীরা। ফলে কর্মবিরতি তাঁরা চালিয়ে যাবেন। যদিও কলকাতায় বুধবার অবস্থানের সিদ্ধান্ত থেকে তাঁরা সরে এসেছেন। আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন।
বুধবার সকাল থেকে আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে কলকাতায় দফায় দফায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধর্মতলা এবং সল্টলেকে আশাকর্মীদের ব্যারিকেড করে আটকে দেয় পুলিশ। পরে সন্ধ্যার দিকে আশাকর্মীদের প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য ভবনে ঢোকেন এবং স্বাস্থ্য অধিকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। স্বাস্থ্য ভবনের অন্যান্য আধিকারিকও সেখানে ছিলেন। ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়। বেরিয়ে আশাকর্মীরা জানান, তাঁদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক বার্তা দিতে পারেনি স্বাস্থ্য ভবন। ফলে আন্দোলন চলবে।
আশাকর্মীদের দাবি, তাঁদের ভাতা বৃদ্ধির কোনও নিশ্চয়তা দেয়নি স্বাস্থ্য ভবন। তবে বলা হয়েছে, বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হবে। বৈঠকে স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের সুর নরমই ছিল, দাবি বিক্ষোভ কর্মসূচির অন্যতম নেত্রী ইসমাতারা খাতুনের। তাঁর কথায়, ‘‘যার জন্য আমরা লড়ছি, সেই ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কেউ সন্তোষজনক কিছু বলেননি। তবে ওঁদের সুর নরম ছিল। জানিয়েছেন, বকেয়া ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রতিবাদ চলবে। বৃহস্পতিবার আমরা ধিক্কার দিবস পালন করব। ব্লকে ব্লকে ধর্না হবে। ভাতা বৃদ্ধি না করা হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটা ছাড়া আমাদের আর উপায় থাকবে না।’’
আশাকর্মীদের বিক্ষোভকে ‘রাজনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বৈঠক শেষে বেরিয়ে ইসমাতারা বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বলেছিলেন, কেন্দ্র টাকা না দিলেও প্রকল্প চালাতে অসুবিধা হবে না। রাজ্য টাকা দেবে। সেটার কী হল? বহু রাজ্যে এখানকার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দেওয়া হয় আশাকর্মীদের ভাতা হিসাবে। মন্ত্রী বলেছেন, আমরা বাড়তি দু’হাজার টাকা পাই। গল্প ফেঁদেছেন। আমাদের কেউ ১০ হাজার টাকা পান না। রাজনৈতিক রং দেখে আশাকর্মীরা পরিষেবা দেন না। আমাদের ভাতা বৃদ্ধি করতেই হবে। সব জেলায় আমরা ধিক্কার দিবস পালন করব। কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।’’
আশাকর্মীদের বিক্ষোভের জেরে বুধবার দিনভর কলকাতায় যানজট ছিল। সেক্টর ফাইভ, নিউটাউনে অফিস যাওয়ার পথে ইএম বাইপাসে দীর্ঘ ক্ষণ থমকে ছিল যান চলাচল। মধ্য কলকাতার এজেসি বোস রোড, এসএন ব্যানার্জি রোডেও ছিল ভিড়ের চাপ। হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনে স্বাস্থ্য ভবনে অভিযানকারী আশাকর্মীদের জন্য নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি হয়েছে। শহিদ মিনারে আইএসএফ-এর কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। আশাকর্মীদের একটি দল শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল শুরু করেছিল। ধর্মতলার আগেই নিউ মার্কেট থানার অদূরে তাদের আটকে দেওয়া হয়। এখানে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে এক জন আহত হয়েছেন।