‘আপনাদের ডেপুটেশন দিতে আসতে হবে না’, রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য মঙ্গলবার এমনই বার্তা দিয়েছিলেন আশাকর্মীদের। তবে তাঁর পরামর্শ উপেক্ষা করে বুধবার সকাল থেকেই আশাকর্মীরা পথে নেমেছেন। তাঁদের স্বাস্থ্যভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড। স্বাস্থ্যভবনের বাইরে পুলিশি নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বসানো হয়েছে লোহার ব্যারিকেড। বুধবার সকাল থেকেই দিকে দিকে চলছিল পুলিশের ধরপাকড়। আশাকর্মীদের অভিযোগ, গন্তব্যে পৌঁছোনোর আগেই বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক আশাকর্মীই পুলিশের ‘বাধা’ পেরিয়ে সল্টলেকে স্বাস্থ্যভবনের কাছে পৌঁছেছে। তবে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেডের বাইরে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা।
সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আশাকর্মীদের আটক করার অভিযোগ উঠেছে। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক আশাকর্মীই ট্রেনে চেপে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছোন। তাঁদের অভিযোগ, স্টেশনের মধ্যেই তাঁদের আটকে দিচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন। স্টেশনের বাইরে বার হতে দেওয়া হচ্ছে না। ফিরতি ট্রেনে বাড়ি ফিরে যায়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শুধু হাওড়া স্টেশনে নয়, শিয়ালদহ স্টেশনেও একই ভাবে ধরপাকড় চলছে। তবে বেশ কিছু ক্ষণ স্টেশনে আটকে রাখার পর তাঁদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ। তার পরেই বিক্ষোভকারীরা রওনা দেন সল্টলেকের উদ্দেশে। প্রতিবাদে ডোমজুড়ের শলপে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন আশাকর্মীদের একাংশ। ব্যাহত হয় যান চলাচল।
হাওড়া স্টেশনে আশাকর্মীদের জমায়েত। —নিজস্ব চিত্র।
আসানসোল, ডেবরা, বসিরহাট, বারুইপুর— রাজ্যের প্রায় সর্বত্র একই ছবি। আশাকর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের কাউকে স্টেশনে যাওয়ার আগেই আটকানো হচ্ছে, কাউকে আবার রাস্তায়। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে চৈতালি সর্দার নামে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে রাস্তা থেকে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। তারই প্রতিবাদে হিঙ্গলগঞ্জ থানার সামনে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরাতেও থানার মধ্যে বিক্ষোভ দেখান আশাকর্মীরা। বুধবার সকালে ডেবরা এলাকা থেকে বাস ও ট্রেনে করে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৬০ জন আশাকর্মীকে আটক করে ডেবরা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযোগ, বাস থেকে নামিয়ে এবং রেলস্টেশনে পৌঁছোনোর আগেই আশাকর্মীদের ধরে সোজা থানায় নিয়ে আসা হয়। থানার ভিতরে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে।
আসানসোলেও আশাকর্মীদের বাস আটকায় পুলিশ। বাসে থাকা আশাকর্মীদের থানায় বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। রানিগঞ্জ রেলস্টেশন, অন্ডাল, দুর্গাপুর, কাঁকসাতেও আটকে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। শুধু তা-ই নয়, থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক জন আশাকর্মীকেও পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানার ভেতরে বসিয়ে রাখে বলে জানা গিয়েছে।
স্বাস্থ্যভবনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যভবন ঢোকার অনেক আগেই পুলিশ লোহার ব্যারিকেড বসিয়েছে। স্বাস্থ্যভবন চত্বরে পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। কেউ যাতে ব্যারিকেড টপকে উল্টো দিকে যেতে না-পারে, তা বন্দোবস্ত করেছে পুলিশ। মাইকিং করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। যত বেলা গড়াচ্ছে ওই ব্যারিকেডের সামনে জড়ো হচ্ছেন আশাকর্মীরা। অনেকে সেখানে বসেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান। তবে যে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর পুলিশ।
স্থায়ী সাম্মানিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা, অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া প্রদান-সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন আশাকর্মীরা। নিজেদের দাবি আদায়ে ২৯ দিন ধরে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন তাঁরা। বুধবার স্বাস্থ্যভবনে ডেপুটেশন জমা দিতে যাওয়ার কথা আশাকর্মীদের। যদিও আশাকর্মীদের এই আন্দোলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, আশাকর্মীদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মন্ত্রীর বার্তা, ‘‘আশাকর্মীদের উপরে মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতি রয়েছে। তাই ভরসা রাখুন। রাজনৈতিক স্বার্থে পাতা কোনও ফাঁদে পা দেবেন না।’’