‘জল ধরো, জল ভরো’

পুরসভার উদ্যোগে পুকুর সংস্কার বালিতে

মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই হাওড়া পুরসভার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিল বালি। তাই প্রথম থেকেই পিছিয়ে পরা বালিতে উন্নত নাগরিক পরিষেবা দিতে একগুচ্ছ প্রকল্প নিয়েছেন হাওড়ার মেয়র।

Advertisement

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০১৬ ০৮:৪২
Share:

মেয়র পারিষদের তত্ত্বাবধানে চলছে সংস্কার। — নিজস্ব চিত্র

মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই হাওড়া পুরসভার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিল বালি। তাই প্রথম থেকেই পিছিয়ে পরা বালিতে উন্নত নাগরিক পরিষেবা দিতে একগুচ্ছ প্রকল্প নিয়েছেন হাওড়ার মেয়র। মাত্র দশ মাসেই বালির রাস্তা, নিকাশি, উদ্যানের পরিচিত ছবিতে আমূল ‘পরিবর্তন’। মেয়র রথীন চক্রর্তীর নির্দেশে এ বার সেই তালিকায় এল দীর্ঘ দিন আগাছার জঙ্গলে ভরে থাকা মজা পুকুর সংস্কারের কর্মসূচি।

Advertisement

হাওড়া পুরসভা সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্পের কাজ অনেক আগেই হাওড়া শহরে শুরু হয়েছে। হাওড়া পুর-এলাকার প্রায় ৭০টি পুকুর সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। বালি সংযুক্ত হওয়ার পরে ওই প্রকল্পে সেখানেও কাজ শুরু করেছে পুরসভা। তবে এই সংস্কারের কাজে পুকুরের ব্যক্তি মালিকানার কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না। হাওড়া পুরসভার মেয়র পারিষদ (জল সম্পদ) অরুণ রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘মালিকানায় কোনও বদল ঘটবে না। শুধু এলাকার পরিবেশ‌ উন্নত করতেই পুকুরগুলিকে পুরসভা নিজের তহবিল থেকে খরচ করে সংস্কার করে দেবে।’’

পুরসভা সূত্রের খবর, ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্পের কাজের শুরুতে সমীক্ষা করতে গিয়ে হাওড়া শহরে যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, তেমনই অবস্থা বালিতেও। বালির ১৬টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ পুকুরই দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে মজে গিয়ে আগাছার জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গাছও জন্মেছে। দিনের বেলাতেও সেই জঙ্গলে কেউ ঢুকলে তাঁকে দেখা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, ওই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে বিভিন্ন পোকা-মশার উপদ্রবেও নাজেহাল হতে হচ্ছিল এলাকার বাসিন্দাদের। আবার বর্ষার সময়ে সাপের উপদ্রবও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement

অরুণবাবুর দাবি, অনেক সময়েই দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ পুকুর ব্যক্তি মালিকানার। কোথাও আবার একাধিক অংশীদার রয়েছেন মালিকানাতে। কখনও অর্থাভাবে, কখনও আবার অংশীদারদের মধ্যে আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে পুকুরগুলির কোনও সাফাই কিংবা সংস্কার হয়নি। কিন্তু এর ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে আশপাশের সব বাসিন্দাদের। তাই পুকুর যাঁর কিংবা যাঁদের, সেই অবস্থার কোনও পরিবর্তন না করেই এলাকায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে এই প্রকল্প নিয়েছে পুরসভা। অরুণবাবু আরও বলেন, ‘‘সকলের তো সুইমিং ক্লাবে যাওয়ার সামর্থ নেই। তাই পুকুর সাফাই হলে এলাকার ছোট বাচ্চাদের সেখানে সাঁতার শেখারও সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে বেকার যুবকদের কর্ম সংস্থানের জন্য রঙিন মাছ কিংবা অন্য মাছের চাষেরও সুযোগ থাকছে।’’

বালি সংযুক্ত হওয়ার পরে রাস্তা, নিকাশি, উদ্যানের পাশাপাশি বালিতে পুকুর সংস্কারের দিকেও জোর দেন রথীনবাবু। তাঁর নির্দেশ মতোই ১৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের থেকে নিজেদের এলাকার পুকুরের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়। পুরসভা সূত্রের খবর, বালি এলাকার লিলুয়া অরবিন্দ কলোনি, ভূজঙ্গধর লেন, জাজোডিয়া গার্ডেন, ঘুসুড়ি সরকারি আবাসন, চকপাড়া নতুন পল্লি, বেলুড় শিবলাল দত্ত লেনে ইতিমধ্যেই পুকুর সংস্কারের কাজ হয়ে গিয়েছে। বালির বীরেশ্বর চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং আরও কয়েকটি ওয়ার্ডে নতুন কাজে হাত দেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে। অরুণবাবু জানান, পুকুর সাফাইয়ের জন্য এত দিন পুরসভার দু’টি দল ছিল। সম্প্রতি মেয়র পারিষদের বৈঠকে তা বাড়িয়ে ৪টি করা হয়েছে। প্রতি দলে থাকছেন ১০ জন করে কর্মী।

Advertisement

পুরসভা সূত্রের খবর, পুকুর সংস্কারের পাশাপাশি সেগুলি পুরো মাত্রায় খনন করে পাড় বাঁধানোর জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই কাজের জন্য রাজ্য সরকার ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছে। তা দিয়ে ব্যাতাইচণ্ডী পুকুর এবং কই পুকুর খনন করে শাল খুঁটি দিয়ে পাড় বাঁধানোর কাজ চলছে। মেয়র রথীনবাবু বলেন, ‘‘বালির উন্নয়ন মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন। তাই সেটা বাস্তবায়িত করতে সব রকম কাজ করা হচ্ছে। হাওড়া শহর যতটা সাজবে, বালিও ততটাই সাজবে। কোনও কাজে কমতি রাখা হবে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement