দুর্ঘটনাগ্রস্ত সেই গাড়ি। রবিবার ময়দান থানায়। — নিজস্ব চিত্র।
রেড রোডে পুলিশের দু’-দু’টি গার্ডরেল ভেঙে গাড়ির ধাক্কায় জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় মহম্মদ সোহরাবের এক ছেলে এখন শ্রীঘরে। এ বার বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠল সোহরাব পরিবারের এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও। এবং এ ক্ষেত্রেও ধাক্কা গার্ডরেলেই!
পুলিশি সূত্রের খবর, শনিবার গভীর রাতে সোহরাবদের ওই আত্মীয়ের বেপরোয়া গাড়ি স্ট্র্যান্ড রোডে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তির কাছে ধাক্কা মারে রাস্তার উপর থাকা পুলিশের গার্ডরেলে। পুলিশ পরে গাড়িটিকে আটক করলেও চালকের খোঁজ পায়নি। তবে নম্বর থেকে তারা জানতে পেরেছে, ওই গাড়িটির মালিক ওয়াটগঞ্জ স্ট্রিটের এক বাসিন্দা। যিনি আবার রেড রোড কাণ্ডে অভিযুক্ত সোহরাব পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। কিন্তু রবিবার বেশি রাত পর্যন্ত ওই পরিবারের কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
গাড়িটি পুলিশের কব্জায় চলে যাওয়া সত্ত্বেও তার মালিক এখনও কেন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, তা নিয়েও রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশের একটি অংশের দাবি, ওই গাড়ির মালিক রেড রোডের ঘটনার আগের রাতে অভিযুক্ত সাম্বিয়া সোহরাবের সঙ্গে দইঘাটে একটি রেস্তোরাঁয় ছিলেন। সাম্বিয়াদের গাড়ির ধাক্কায় জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনা
নিয়ে পুলিশ তাঁকে এক প্রস্ত জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল।
কী ঘটেছে শনিবার রাতে?
পুলিশ জানাচ্ছে, শনিবার রাত ১২টা নাগাদ ইডেন গার্ডেন্সের দিক থেকে স্ট্র্যান্ড রোড দিয়ে দ্রুত গতিতে মিলেনিয়াম পার্কের দিকে যাচ্ছিল গাড়িটি। বাবুঘাট বাসস্ট্যান্ডের কাছে সেটি সোজা ধাক্কা মারে রাস্তার মাঝখানে থাকা গার্ডরেলে। ধাক্কা মেরেই চালক গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। গার্ডরেলের সঙ্গে ধাক্কায় ওই গাড়ির সামনের একটি অংশ দুমড়ে যায়। পরে গাড়িটিকে তুলে নিয়ে যায় ময়দান থানার পুলিশ।
প্রাক্তন বিধায়ক এবং তৃণমূল নেতা মহম্মদ সোহরাবের ছোট ছেলে সাম্বিয়া সোহরাব ১৩ জানুয়ারি রেড রোডে প্রজাতন্ত্র দিবসের মহড়া কুচকাওয়াজ চলাকালীন পুলিশের দু’টি গার্ডরেল ভেঙে বায়ুসেনার কর্পোরাল অভিমন্যু গৌড়কে ধাক্কা মেরেছিলেন বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। সেই ঘটনার পর থেকেই মহম্মদ সোহরাব এবং তাঁর বড় ছেলে আম্বিয়া সোহরাব পলাতক। কলকাতা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তোলপাড় তল্লাশি চালালেও রবিবার রাত পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ পায়নি।
তদন্তকারীরা জানান, শনিবার রাতে যে-বেপরোয়া গাড়িটি পুলিশের গার্ডরেলে ধাক্কা মেরেছিল, তার মালিক সোহরাবদের এক আত্মীয়। যাঁর বাড়ি ওয়াটগঞ্জে। পুলিশের দাবি, শুধু শনিবার রাতে নয়, ৭ এবং ১০ জানুয়ারিও গাড়িটি আরও
দু’জায়গায় ট্রাফিক আইন অমান্য করেছিল। ট্রাফিক আইন না-মানার জন্য ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলাও
করা হয়েছে।
লালবাজারের এক কর্তা জানান, ২০১৪ সালের জুলাইয়ে গাড়িটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ট্রাফিক আইন না-মানার জন্য গাড়িটির বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা করেছে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু রবিবার পর্যন্ত সেই ১০টি ঘটনার কোনওটিতেই গাড়ির মালিক কোনও জরিমানা দেননি।
এত দিন ধরে বারবার যান-বিধি ভেঙেও ওই গাড়ির মালিক জরিমানা না-দিয়ে পার পেয়ে গেলেন কী ভাবে, সেই প্রশ্ন উঠছে।