—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আইএসআইয়ের শিক্ষাঙ্গনে নির্বিচারে গাছ কাটার অভিযোগ নিয়েও এ বার বিতর্কের সূত্রপাত ঘটল। গত ডিসেম্বরে রাজ্য বন দফতরের সাহায্যে ওই বৃক্ষ-নিধন যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় গুরুত্বের এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগের তির প্রতিষ্ঠানের চিফ এগ্জিকিউটিভ (সিই) তথা আইএসআই কাউন্সিলের অ-সদস্য সচিব রবীন্দ্র কুমারের বিরুদ্ধে। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, গাছ কাটার ছাড়পত্র আদায়ের জন্য ওই আধিকারিক আদৌ সংশ্লিষ্ট বরাহনগর পুরসভার অনুমতি নেননি। তথ্য জানার অধিকার আইনবলে নথি ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, পুর চেয়ারম্যানের সইয়ের জায়গায় আইএসআইয়ের সিই-র সই রয়েছে। অভিযোগ, ছাড়পত্র ছাড়াই রহস্যময় ভাবে গাছ কাটায় শামিল হয় বন দফতর। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিই রবীন্দ্র কুমার।
সোমবার তিনি বলেন, “গোটা গাছ কাটার প্রক্রিয়াই রাজ্য বন দফতরের নির্দেশ মেনে, তাদের সহযোগিতায় হয়েছে। বন দফতরই ৬৫টি গাছ চিহ্নিত করে দেয়। আমপানের পরে ক্যাম্পাসে গাছ পড়ে সমস্যা হয়েছিল। এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই শিকড়-আলগা, মরা গাছ কাটার কথাওঠে। গাছ কাটা, গুঁড়ি নিলাম— সবই বন দফতরের তত্ত্বাবধানে ঘটেছে।” তবে রবীন্দ্র মানছেন, সবুজ, সতেজ গাছও কাটার অভিযোগ উঠেছিল। এর পরে গাছ কাটা বন্ধ করে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গাছ কাটার বিষয়ে আইএসআইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকর্তা অয়নেন্দ্রনাথ বসুকে অন্তর্বর্তী রিপোর্টও দিয়েছে।
এর মধ্যে সিই-র বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁকে ছুটিতে পাঠিয়ে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান শিক্ষকদের একাংশ। সিই কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিভাগের আমলা। সম্প্রতি কেন্দ্র প্রস্তাবিত আইএসআই বিলের মাধ্যমে এই উৎকর্ষ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা শুরু হয়েছে বলে উত্তাল আইএসআইয়ের ছাত্র-শিক্ষক সমাজ। সেই আবহে সিই-র বিরুদ্ধে অভিযোগ তাৎপর্যবহ বলেও কারও কারও অভিমত। আইএসআইয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা অয়নেন্দ্রনাথ বসু বলেন, “সিই-র বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এসেছে, এটা ঠিক। তবে তা এখনও যাচাই করতে পারিনি। গাছ কাটার বিষয়েও চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে