ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন মা। সেই সুযোগেই ঘরের বাইরে খেলতে চলে এসেছিল পাঁচ বছরের যমজ দুই ভাই। খেলার ছলেই একটি বেড়ালের পিছনে ছুটতে শুরু করে তারা। আর তাতেই ঘটল বিপত্তি। পা পিছলে বাড়ির পিছনের খালে পড়ে গেল এক ভাই। অন্য জন তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয়েরা বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পরে ওই শিশুটির দেহ উদ্ধার করেন।
সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে টিটাগড়ে। পুলিশ জানায় মৃত ওই শিশুটির নাম বরুণ সাউ। উদ্ধারের পরে স্থানীয়েরা তাকে পানিহাটির বলরাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, খড়দহ থানার পি কে বিশ্বাস রোডের দেওয়ানজি বাগানের বাসিন্দা মুকেশ সাউয়ের দুই যমজ ছেলে বরুণ ও অরুণ। তাদের বাড়ির পিছনেই খড়দহ খাল। এ দিন দুপুরে ঘরেই খেলছিল দুই ভাই। তবে মা কমলাদেবী ঘুমিয়ে পড়ায় বাইরে বেরিয়ে পড়ে। একটি বেড়ালকে দেখে তাড়া করে দুই ভাই। বেড়ালের পিছনে দৌড়তে থাকে শিশু দু’টি। খালের পাড়ে গিয়ে বেড়ালটি লাফ দিয়ে পাঁচিলের উপর উঠে গেলে তাকে ধরতে লাফ দেয় বরুণও। তাতেই পা পিছলে খালে পড়ে তলিয়ে যায় সে। এই দৃশ্য দেখে খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে অরুণ।
স্থানীয়েরা জানান, অরুণকে কাঁদতে দেখে কয়েক জন এগিয়ে আসতেই জানা যায় বরুণ খালে তলিয়ে গিয়েছে। চেঁচামেচিতে জড়ো হন অন্যেরাও। প্রতিবেশীদের চেঁচামেচিতে কমলাদেবীর ঘুম ভেঙে গেলে তিনিও ছুটে আসেন। খবর পেয়ে আসে খড়দহ থানার পুলিশ। স্থানীয় কয়েকজন যুবক খালে নেমে খুঁজতে শুরু করেন। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে উদ্ধার হয় ওই শিশুর নিথর দেহ।