নালায় জমছে পলি, অবহেলায় পড়ে সাফাই-যন্ত্র

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুয়ায়ী, ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা কোনও ভাবেই মানুষ নামিয়ে পরিষ্কার করা যাবে না।

Advertisement

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৮ ০১:১৭
Share:

জায়গা নেই। তাই খোলা আকাশের নীচে ঝোপজঙ্গলের মধ্যে পড়ে আছে ‘ডি-সিলটেশন’ যন্ত্র। একটি-দু’টি নয়, প্রায় ১৫টি। বন্দর এলাকার মোমিনপুর পাম্পিং স্টেশনের পাশেই ঝোপের আড়ালে মুখ লুকিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা দামের ওই যন্ত্রগুলি।

Advertisement

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুয়ায়ী, ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা কোনও ভাবেই মানুষ নামিয়ে পরিষ্কার করা যাবে না। তার পরেই ২০১১-’১২ অর্থবর্ষে পুরসভা ১৫টি বরোর জন্য ৩০টি ‘ডি-সিলটেশন’ যন্ত্র কিনেছিল। পরে ধাপে ধাপে আরও ১১০টি যন্ত্র কেনা হয়। এক-একটি যন্ত্রের দাম প্রায় ন’লক্ষ টাকা। পুরসভার নিকাশি বিভাগের বরাদ্দ করা টাকাতেই কেনা হয় ওই সমস্ত যন্ত্র। সারা বছর ওই যন্ত্র দিয়েই ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালাপথ পরিষ্কার করার কথা।

কিন্তু নয় নম্বর বরো এলাকার ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোমিনপুর পাম্পিং স্টেশনের পিছনে ১৫টি যন্ত্র পড়ে রয়েছে প্রায় নতুন অবস্থায়। আশপাশে জন্মেছে আগাছা। ওই বরোতেই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। সেখানকার চারটি ওয়ার্ড মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা এলাকায়। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছিল ওই সব ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ অংশ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষার আগে নিকাশি ঠিক ভাবে সাফাই না করার ফলেই এমন অবস্থা। বর্ষার আগে পুরসভার বৈঠকে একই অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিভিন্ন বরোর চেয়ারম্যানেরাও।

Advertisement

এই বর্ষায় নয় নম্বর বরোর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড বানভাসি হয়েছে। এক দিনের বৃষ্টির জল সরতে লেগে গিয়েছে সাত দিন। মোমিনপুর লাগোয়া ৭৮ ও ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড় অংশে দিন সাতেক জল জমে ছিল। পরে পাম্প বসিয়ে জল সরানো হয়। ওই সব এলাকায় নিকাশি নালা পলিতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই জল সরেনি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। সে ক্ষেত্রে নিকাশি নালা সাফাইয়ের যন্ত্র পাম্প হাউসে কেন রেখে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই যন্ত্রগুলি নালা পরিষ্কারে ঠিক মতো ব্যবহার করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

নয় নম্বর বরোর চেয়ারম্যান রতন মালাকার অবশ্য বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘যন্ত্রের বিষয়টি সরাসরি নিকাশি দফতর দেখে। আমি কিছু বলতে পারব না।’’ পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারের কথায়, ‘‘ওই যন্ত্রগুলি চালাতে বিশেষ প্রশিক্ষণ না থাকলেও চলে। কেন সেগুলি ফেলে রাখা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’’ মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারক সিংহ বলেন, ‘‘ওই সব যন্ত্র খুব তাড়াতাড়ি রাস্তায় নামানো হবে। টেন্ডার ডেকে যন্ত্রগুলি কেনা হয়েছে। কিন্তু রাখার জায়গা নেই। সেই কারণেই পাম্পিং স্টেশনে রাখা হয়েছে।’’ কিন্তু খোলা আকাশের নীচে ঝোপ-জঙ্গলে ওই যন্ত্রগুলি পড়ে থাকলে খারাপ হয়ে যাবে না? তারকবাবু বলেন, ‘‘খুব তাড়াতাড়ি যন্ত্রগুলি কাজে নামবে। তেমন কিছু ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement