Veterinary Hospital

শহরে প্রাণী চিকিৎসার উন্নত পরিকাঠামো কবে

কিন্তু পোষ্যের রক্তের গ্রুপ কী, তা তো জানাই নেই। গ্রুপ জানতে পোষ্যের অভিভাবককে ছুটতে হয়েছে চারদিকে। সহজ উপায় বাতলে দেওয়া হয়েছে, প্রথম বার যে কোনও গ্রুপের রক্ত দিলেই হল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৬:২১
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কখনও খাটের কোনায় ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাচ্ছে সে। কখনও সরাসরি ধাক্কা খাচ্ছে দেওয়ালে। বাড়ির লোকের ধারণা হয়েছিল, হয়তো খেলতে গিয়ে টাল রাখতে পারছে না। কিন্তু ধীরে ধীরে তার দৃষ্টিশক্তি যে ঝাপসা হয়ে অন্ধত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বুঝতেই অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। যখন বোঝা গেল যে তার চোখে ছানি পড়েছে, তখন হন্যে হয়ে চিকিৎসার খোঁজ শুরু হল। তবে জানা গেল, ওষুধ দিয়েই চালাতে হবে যত দিন চলে। কারণ, এ শহরে পোষ্যের ছানি কাটানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থাই নেই।

অন্য একটি ঘটনায় পোষ্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু পোষ্যের রক্তের গ্রুপ কী, তা তো জানাই নেই। গ্রুপ জানতে পোষ্যের অভিভাবককে ছুটতে হয়েছে চারদিকে। সহজ উপায় বাতলে দেওয়া হয়েছে, প্রথম বার যে কোনও গ্রুপের রক্ত দিলেই হল। কিন্তু তার পরে আবার দিতে হলে চাই আগের গ্রুপের রক্তই। তা হলে তো আগে পরীক্ষা করে গ্রুপ জানা দরকার! কিন্তু অভিভাবককে বলে দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষা বলেও ঠিকঠাক রিপোর্ট মিলবে কিনা, তারই নিশ্চয়তা নেই!

এ শহরে প্রাণী চিকিৎসার পরিস্থিতি এমনই। শনিবার ‘পেট প্র্যাক্টিশনার্স ফাউন্ডেশন অব কলকাতা’ (পিপিএফকে) আয়োজিত প্রাণী-চিকিৎসা সংক্রান্ত এক আলোচনাচক্রে উঠে এল এমনই নানা দিক। সেখানে প্রাণী চিকিৎসার ক্ষেত্রে ‘ক্লিনিক্যাল অফথ্যালমোলজি’-র পাশাপাশি ‘রিজেনারেটিভ মেডিসিন’, ‘অ্যাডভান্সড রেডিয়োলজি’ এবং ‘ফিউচার উন্ড কেয়ার’-এর মতো একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বক্তা হিসাবে ছিলেন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে কলকাতায় আসা প্রাণী চক্ষু চিকিৎসক নরেন্দ্র চৌহান, প্রাণী চিকিৎসক মোজাম্মেল হক এবং প্রাণী চিকিৎসক সমিতকুমার নন্দী। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সভাপতি, প্রাণী চিকিৎসক আশুতোষকুমার বিশ্বাস।

প্রাণী চক্ষু চিকিৎসক নরেন্দ্র বলেন, ‘‘মানুষের ক্ষেত্রে যে আধুনিক পদ্ধতিতে ছানি কাটানো হয়, কুকুর-বেড়ালের ক্ষেত্রেও ২০১৬ সাল থেকে সেই পথে কাজ করে চলেছি আমরা। আধুনিক রেটিনা অস্ত্রোপচারও করেছি। কিন্তু বলতে বাধা নেই, এই চিকিৎসা সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে না। সহজলভ্য হচ্ছে না। কলকাতার মতো বড় শহরে প্রাণী চিকিৎসার পরিকাঠামোর দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন।’’

পিপিএফকে-র কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাণী চিকিৎসক অভিরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এ শহরে প্রাণীদের উন্নতমানের সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করানোর সুবিধা এখনও অপ্রতুল। চোখের পরীক্ষা, স্পাইন সার্জারির মতো জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে আধুনিক পরিকাঠামোর অভাব দেখা যাচ্ছে। পোষ্যের রক্তের প্রয়োজন পড়লে রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রযুক্তির পরিকাঠামো এবং উন্নত অস্ত্রোপচার কৌশল এ শহরে নিয়ে আসার ও সমস্ত প্রাণী চিকিৎসককে এক ছাতার তলায় এনে তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের এই সংস্থাকাজ করছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন