দাঁড়িয়ে থাকা বাস, গাড়িতে পরপর আগুন

পুড়ে যাওয়া একটি বাসের মালিক, বাগুইআটির বাসিন্দা গৌতমপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁর বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। প্রথমে একটি ছোট গাড়িতে আগুন লাগে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০১৯ ০২:০৮
Share:

দগ্ধ: (উপরে) তখনও জ্বলছে বাগুইআটি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক বাস ও গাড়ি। শনিবার রাতে। (নীচে) আগুন নেভার পরে। রবিবার সকালে। ছবি: নিজস্ব চিত্র এবং স্নেহাশিস ভট্টাচার্য

গভীর রাতে আগুনে পুড়ে গেল রাস্তার পাশে পরপর দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি বাস, রেকার এবং গাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, ভিআইপি রোডের বাগুইআটি এলাকায়। খবর পেয়ে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। পরে আরও চারটি ইঞ্জিন গিয়ে ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতেই ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রের খবর, ঘড়ির কাঁটা তখন রাত দুটো পেরিয়েছে। স্থানীয় এক রিকশাচালক সেই সময়ে হঠাৎই দেখেন, বাগুইআটি এবং নারায়ণতলার মাঝে রাস্তার ধারে দাঁড় করানো কয়েকটি গাড়ি দাউদাউ করে জ্বলছে। ওই রিকশাচালক বাপি দাসঅধিকারী জানান, যাত্রী নামিয়ে তিনি তখন ফিরছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘হঠাৎ নজরে পড়ল, পরপর কয়েকটি গাড়ি জ্বলছে। তার ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে ভিআইপি রোড।’’ তত ক্ষণে স্থানীয় রিকশা এবং ট্যাক্সিস্ট্যান্ড থেকে অবশ্য পুলিশে খবর দেওয়া হয়ে গিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েক জন চালকের দাবি, প্রথমে আগুন লাগে একটি চার চাকার গাড়িতে। তার থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলিতে। একটি বাস থেকে এক জন খালাসিকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। পরে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তাতেও প্রাথমিক ভাবে আগুন আয়ত্তে আনা যায়নি। তখন এক দিকে বাসের টায়ার ফাটছিল। অন্য দিকে, হাওয়া থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল দ্রুত। তাই দমকলের আরও চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। অবশেষে প্রায় ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সবের মাঝে স্থানীয়েরাই দু’টি গাড়িকে সরিয়ে নিতে সমর্থ হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, চারটি বাস, একটি গাড়ি এবং একটি রেকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও স্থানীয়দের অন্য একটি অংশের মতে, ন’টি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে।

Advertisement

পুড়ে যাওয়া একটি বাসের মালিক, বাগুইআটির বাসিন্দা গৌতমপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁর বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। প্রথমে একটি ছোট গাড়িতে আগুন লাগে। সেখান থেকে পরপর বাসে ছড়িয়ে যায়। তাঁর বাস স্কুল-অফিসের পরিবহণে ব্যবহার করা হত। আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট না হলেও স্থানীয়দের অনুমান, শর্ট-সার্কিট থেকেই এই দুর্ঘটনা। তবে ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাতে ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী।

তিনিও জানান, একটি গাড়ি থেকে আগুন ছড়িয়ে বাস, রেকার, ট্যাক্সি মিলিয়ে মোট ন’টি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভিআইপি রোডের ধারে বহু জায়গায় এ ভাবে গাড়ি থাকে। ফলে শর্ট সার্কিট থেকে বা বাজ পড়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিলই। তাঁদের কথায়, যত্র তত্র গাড়ি রাখা বন্ধ করতে প্রয়োজনে পুরসভা ও পুলিশ মিলে নির্দিষ্ট জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করুক। বিধাননগর পুরসভার এক কর্তা জানান, রাস্তার ধারের পার্কিং সরানো নিয়ে আলোচনা চলছে।

Advertisement

দমকল সূত্রের খবর, আগুনের উৎস শর্ট-সার্কিট নাকি অন্য কোনও কিছু, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement