ইডি দফতরে যেতে না পারার কারণ জানালেন রথীন ঘোষ এবং সুজিত বসু। — ফাইল চিত্র।
ভোটের কাজে ব্যস্ত বলে দুই বিদায়ী মন্ত্রী এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কাছে সময় চেয়েছিলেন। ভোট মেটার পর বুধবার ছিল তৃণমূলের সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার দিন। কিন্তু দু’জনেই আলাদা ভাবে জানালেন, তাঁরা ইডি দফতরে যেতে পারছেন না।
ইডির একটি সূত্রে খবর, প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, শৌচাগারে পড়ে গিয়ে তিনি পায়ে চোট পেয়েছেন। চিকিৎসক তাঁকে দিন দশেকের জন্য বিশ্রাম নিতে বলেছেন। আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত ইডিকে জানিয়েছেন, ভোট পরবর্তী হিংসায় তাঁর দলের অনেক কর্মী আক্রান্ত। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ব্যস্ত। তাঁকে যেন আরও কিছু দিন সময় দেওয়া হয়।
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজ্যের দুই মন্ত্রীকেই ভোটের আগে তলব করা হয়েছিল। বস্তুত, প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিতকে সম্প্রতি একাধিক বার তলব করেছে ইডি। সুজিত প্রায় প্রতি বারই ইডির কাছে সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ভোটের কাজে ব্যস্ত, তাই হাজিরা দিতে পারবেন না, এই মর্মে আবেদন নিয়ে আদালতেও গিয়েছিলেন তিনি।
হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ জানিয়েছিল, ১ মে সুজিতকে হাজিরা দিতে হবে ইডি দফতরে। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী। প্রায় ৯ ঘণ্টা পরে ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি সাক্ষী হিসাবে এসেছিলাম।’’ তিনি এ-ও বলেছিলেন, ‘‘ব্যবসা করা কখনও কোনও অপরাধ নয়। চুরি করাটা অপরাধ।’’ তবে ইডি তদন্ত করছে। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করে যাবেন।
আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী রথীনও ভোটের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলে ইডির কাছে সময় চেয়েছিলেন। ভোটের ফলপ্রকাশের একদিন পর তাঁকেও তলব করা হয়েছিল ইডি দফতরে।২০২৩ সালের অক্টোবরে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রথম বার রথীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে। রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের মধ্যেই মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে রথীন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে শেষমেশ ২৩৯৯ ভোটে জয়লাভ করেন।
ইডি সূত্রে খবর, রথীন এবং সুজিতের হাজিরার জন্য আবার তারিখ জানানো হবে।