দুর্ঘটনার জেরে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি তদন্তে অসন্তুষ্ট হাইকোর্ট তলব করল তদন্তকারী পুলিশ অফিসারকে।
বেলঘরিয়ার বাসিন্দা জনৈক ফাল্গুনী ভট্টাচার্যের অভিযোগ, অন্য একটি গাড়ির ধাক্কায় মোটরবাইক থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে তাঁর মেয়ে মধুপর্ণা (২৩) মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও, ঘটনাটি অন্য। পুলিশ জানায়, গত বছর মার্চ মাসে কামারহাটি ফাঁড়ির সামনে এক দুর্ঘটনায় ওই তরুণী মারা যান।
ফাল্গুনীবাবুর দাবি, তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে এবং প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন, পিছন থেকে আসা অন্য একটি মোটরবাইকের এক আরোহী তাঁর মেয়ের হাত ধরে টানে। তার ফলেই তাঁর মেয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হয়ে মারা যান। পুলিশি তদন্তে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল। ফাল্গুনীবাবুর আইনজীবী জয়ন্তনরায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন আদালতে জানান, বেলঘরিয়া থানার তদন্তকারী অফিসার ঘটনাস্থল থেকে দু’টি মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করেন। মধুপর্ণা পার্ক স্ট্রিটে কম্পিউটার ক্লাস শেষ করে বন্ধু আকাশ আসোপার মোটরবাইকের পিছনে বসে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজেয়াপ্ত বাইকের একটি আকাশের। দ্বিতীয় মোটরবাইকটি কার, পুলিশ জানার চেষ্টা করেনি। তার মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। মধুপর্ণার বন্ধু তথা ঘটনার মূল প্রত্যক্ষদর্শী আকাশকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
আদালতে ওই আইনজীবীদের আরও অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাসে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে জানতে পেরে নিম্ন আদালতে তড়িঘড়ি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার।
সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় একটি গাড়ি আকাশের মোটরবাইকে ধাক্কা মারে। তার ফলে ছিটকে পড়েন মধুপর্ণা। সাগর দত্ত হাসপাতালে ওই তরুণী মারা যান। কোন গাড়ি ধাক্কা মেরেছিল, চালকই বা কে, মালিকই বা কে, তা জানার কেন চেষ্টা করলেন না তদন্তকারী অফিসার। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। অভিযোগ শুনে মামলার তদন্তকারী অফিসারকে আগামী বৃহস্পতিবার আদালতে থাকতে নির্দেশ দেন বিচারপতি বাগচী।