ED Director in Kolkata

ডিসি শান্তনু থেকে ব্যবসায়ী জয়, ইডি-নজরে বিধায়ক দেবাশিসও, কার সূত্রে কার নাম এল? সোনা পাপ্পুর সঙ্গেই বা কার কী যোগ?

বালিগঞ্জে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। আটক করা হয়েছে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে। অন্য একটি মামলায় ইডির নজরে দেবাশিস কুমারও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩১
Share:

সোনা পাপ্পুর মামলায় কলকাতায় সক্রিয় ইডি আধিকারিকেরা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভোটের আগে কলকাতা এবং শহরতলির দিকে দিকে সক্রিয় ইডি। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের হদিস পেতে তল্লাশি অভিযান চলছে। রবিবার ভোরে তাদের একটি দল হানা দেয় খোদ কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ফার্ন রোডের বাড়িতেও। বালিগঞ্জের বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর মামলাতে এই তল্লাশি বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তল্লাশি চলছে বেহালায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতেও। এ ছাড়া, অন্য একটি মামলায় ইডির নজরে রয়েছেন রাসবিহারীর তৃণমূল বিধায়ক তথা আসন্ন নির্বাচনে দলের প্রার্থী দেবাশিস কুমার। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু শান্তনু, জয় বা দেবাশিসের কি পারস্পরিক কোনও যোগসূত্র রয়েছে? কী ভাবে তল্লাশিতে এঁদের জুড়ল ইডি?

Advertisement

সোনা পাপ্পু বালিগঞ্জে পরিচিত নাম। অস্ত্র আইন-সহ একাধিক মামলায় পুলিশের খাতায় তাঁর নাম রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বালিগঞ্জে একটি অশান্তির ঘটনায় নতুন করে তিনি আলোচনায় উঠে আসেন। কাঁকুলিয়া এলাকায় সে দিন গুলি চলেছিল বলে অভিযোগ। একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলেও সোনা পাপ্পুকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। এই সংক্রান্ত মামলায় বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পেয়ে ইডি একটি ইসিআইআর করেছিল। সেই থেকে শুরু হয় কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত। ইডির দাবি, এই মামলায় যত জনের নাম এসেছে, তাঁরা প্রত্যেকেই আর্থিক লেনদেনের কোনও না কোনও সূত্রে যুক্ত। আর্থিক যোগসূত্র পাওয়ার পরেই প্রয়োজন অনুসারে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

সোনা পাপ্পুর সূত্রে বেহালার ব্যবসায়ী জয়ের নাম ইডির নজরে এসেছিল। এই দু’জনের বাড়িতে প্রায় একসঙ্গে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। জয়ের দফতরেও তল্লাশি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, জয় একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। রিয়েল এস্টেটের পাশাপাশি তাঁর জিম-ও রয়েছে। তাঁর বাড়ি থেকে ১ কোটি ৪৭ লক্ষ নগদ টাকা উদ্ধার করেছিল ইডি। এ ছাড়া, বেশ কিছু সোনাদানাও মেলে। সোনা পাপ্পুর বাড়িতে একটি পিস্তল পাওয়া গিয়েছিল। ইডি তা স্থানীয় থানায় জমা দেয়। এর পর সোনা পাপ্পু এবং জয়, দু’জনকেই একাধিক বার তলব করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাঁরা কেউ হাজিরা দেননি। এর মধ্যেই পাপ্পু সমাজমাধ্যমে ‘লাইভ’ করেন এবং ইডির অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হন। দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা তল্লাশি চালাতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে হেনস্থা করেছে। এর পরেও ইডির তলবে হাজিরা দেননি সোনা পাপ্পু। তাঁর পাশাপাশি জয়েরও অনুপস্থিতি ইডি ভাল চোখে দেখেনি।

Advertisement

সোনা পাপ্পুর মামলায় আইপিএস আধিকারিক গৌরব লালের নাম উঠে আসে। আগে তিনি কলকাতা পুলিশে ছিলেন। বর্তমানে হাওড়া পুলিশে রয়েছেন। ইডি তাঁকেও তলব করেছিল। তিনি নির্দিষ্ট সময়ে ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ইডির দাবি, জয়ের সূত্রেই এই মামলায় গৌরবের নাম এসেছে। অভিযোগ, জয়ের সঙ্গে তাঁর আর্থিক যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছে। তবে তা কী ধরনের যোগ, আদৌ লেনদেন বেআইনি কি না, কোথাও কোনও বিনিয়োগ হয়েছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জয়ের সূত্রে কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি তথা কলকাতা পুলিশের বর্তমান ডিসি শান্তনুর নামও ইডির নজরে আসে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, তাঁর সঙ্গেও কিছু আর্থিক যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাচক্রে, বালিগঞ্জে ডিসি-র বাড়ির ৫০০ মিটারের মধ্যেই সোনা পাপ্পুর বাড়ি। বেহালায় জয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় তাঁর একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। এই মামলায় তা থেকে প্রাপ্ত নথি তদন্তকারী সংস্থার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখান থেকেই একাধিক নাম উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রে দাবি। প্রত্যেকের সঙ্গেই কারও না কারও নগদ বা ব্যাঙ্কে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তবে তা বেআইনি কি না, আর্থিক নয়ছয় হয়েছে কি না, অপরাধের সঙ্গে লেনদেনের কোনও যোগ রয়েছে কি না এখনও স্পষ্ট নয়। তার কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে শান্তনুর আরও একটি বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালিয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রে দাবি, সেখানে তিনি নিজে থাকেন না। বেলার দিকে শান্তনুর পুত্রকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোন ইডির কিছু আধিকারিক। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পার্কস্ট্রিটের একটি কোচিং সেন্টারে। সেখান থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শান্তনুর পুত্র দাবি করেন, ইডির হানা ‘শুভেন্দু অধিকারীর চক্রান্ত’। ঘটনাচক্রে, তাঁকে যে কোচিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে সহযোগী সংস্থা হিসাবে যুক্ত সান গ্রুপ। তা আবার বেহালার ব্য়বসায়ী জয়ের সংস্থা।

Advertisement

বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিসের সঙ্গে অবশ্য সোনা পাপ্পুর মামলার কোনও যোগ নেই। জমি দখলের অন্য একটি মামলায় তাঁকে দু’বার তলব করেছিল ইডি। তিনি দু’বারই হাজিরা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের সঙ্গে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। ডাকলে আবার যাবেন। তবে প্রাথমিক ভাবে ইডির দাবি, সোনা পাপ্পুর এই মামলাটিতেও রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেবাশিসের বাড়িতে সম্প্রতি দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছেন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরাও।

বেআইনি ভাবে তোলাবাজি, রিয়েল এস্টেটের সম্পত্তি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে। ইডি তার ভিত্তিতেই তল্লাশি চালাচ্ছে। সক্রিয় অপরাধীর তালিকায় সোনা পাপ্পুর নাম না-থাকায় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করেছে কসবা থানার ওসিকে। রবিবার ভোর থেকে বেহালায় জয়ের বাড়িতে এবং বালিগঞ্জে ডিসি-র বাড়িতে তল্লাশি চলছে। জয়কে বাড়ি থেকে আটক করে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement