— প্রতীকী চিত্র।
দীর্ঘ আট বছর পুরসভার নির্বাচন না হওয়ায় হাওড়ার বেহাল দশা ফের প্রকট হল শুক্রবার বর্ষার প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই। প্রতি বারের মতো জলমগ্ন হয়ে পড়ে ২২টি ওয়ার্ড। সেই জমা জল শনিবারও কয়েক জায়গা থেকে নামেনি বলে দাবি। অভিযোগ, বর্ষার আগে নিকাশির সংস্কার যেমন করেনি আগের শাসকদল তৃণমূল, তেমনই রাজ্যে সদ্য ক্ষমতায় এসে বিজেপিও সেই কাজ শুরুই করতে পারেনি।
তবে কাজের বরাত ঘোষণার পরে হাওড়ার পচাখালের সংস্কারের মধ্যে দিয়ে শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিকাশিনালা সংস্কার শুরু হল। এ দিন সেই কাজ পরিদর্শন করেন রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই ও শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। যদিও প্রশ্ন উঠেছে, খালি গায়ে ও কোনও সুরক্ষা ছাড়া ওই দূষিত জলে কেন নামতে দেওয়া হল শ্রমিকদের? রুদ্রনীলের দাবি, ‘‘কয়েক জন খালি গায়ে নেমেছিলেন। এটা আমাদেরও নজরে এসেছে। দ্রুত এই কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার শিবির হবে। ওঁদের সুরক্ষা-কবচ নিয়েও কথা হবে।’’ পরে মন্ত্রী ও বিধায়ক বেলগাছিয়া ভাগাড় সংলগ্ন বি রোড, হরিশ কলোনি, পাম্পিং স্টেশন অঞ্চলও ঘোরেন।
পুরসভা জানিয়েছে, লিলুয়ার রানিঝিল থেকে বিরাডিঙি পর্যন্ত পচাখালের পলি তুলে সংস্কার হবে। কেএমডিএ একটি সংস্থাকে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে। এ জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া উত্তর হাওড়া, বালি ও শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নিকাশিনালা কী ভাবে সচল করা যায়, এ দিন তা-ও দেখা হয়।
পরিদর্শনের শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘‘দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিকের মধ্যে আবর্জনা ঢুকিয়ে শহরের ছোট-বড় নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়। ফলে বর্ষার জমা জল বেরোতে পারে না। নর্দমায় আর নোংরা ফেলা যাবে না। সরকার আইন করেছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নর্দমায় আবর্জনা ফেললে জরিমানা ও কঠোর শাস্তি হবে।’’
রুদ্রনীল জানান, নর্দমার জল সরাসরি গঙ্গায় ফেলা যায় না। অথচ হাওড়ায় সেটাই ফেলা হয়। এ বার থেকে নর্দমার জল কয়েকটি পকেটে নিয়ে গিয়ে ফেলার পরে পরিস্রুত করে তা গঙ্গায় ফেলা হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে