ফিরহাদ হাকিম। —ফাইল চিত্র।
করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণকালে শহরের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও মজবুত করতে একঝাঁক স্যাটেলাইট হেল্থ সেন্টার বা প্রাথমিক পুর-স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। নানা প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হলেও এবার তা কার্যকর করার পথে অনেকটাই এগিয়েছে পুরসভা। সব ঠিকঠাক থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কলকাতা পুরসভা এলাকায় এক ডজনেরও বেশি নতুন স্যাটেলাইট হেল্থ সেন্টার চালু হতে চলেছে। এর মধ্যে খুব শীঘ্রই পাঁচটি কেন্দ্রের উদ্বোধন হওয়ার কথা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনাকালে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে জমি সঙ্কট ও শহরের ঘনবসতির কারণে উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। ফলে কাজ শুরু হতে বিলম্ব হয়। বর্তমানে শহরে মোট ২৪টি স্যাটেলাইট হেল্থ সেন্টার চালু রয়েছে। আরও ১৬টি চালু হলে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৪০। পাশাপাশি, আরও ৩২টি পুর-স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। এর বাইরে ভবিষ্যতে আরও আটটি স্যাটেলাইট হেল্থ সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এখন কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। তবে ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংখ্যার চাপ ও রোগীর সংখ্যা বিবেচনা করে অনেক এলাকায় একটি মাত্র হেল্থ সেন্টার যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই কারণেই প্রতিটি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ওয়ার্ডের দু’প্রান্তে পরিষেবা পৌঁছে যায় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও চিকিৎসা পাওয়া সহজ হয়। এই ভাবনাচিন্তা থেকেই স্যাটেলাইট হেল্থ সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা।
শীঘ্রই যে পাঁচটি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধন হতে চলেছে, সেগুলি হল— ৮১ নম্বর ওয়ার্ডে নিউ আলিপুর রেল স্লাইডিং সংলগ্ন দুর্গাপুর কলোনিতে, ৯৪ নম্বর ওয়ার্ডে পাইপ কলোনির কাছে প্রিন্স গুলাম মহম্মদ শাহ রোডে, কাশীপুর অঞ্চলে পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে কামেশ্বর চ্যাটার্জি রোডে, ৮৮ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্র মণ্ডল লেনে এবং ট্যাংরা এলাকার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে গোবিন্দ খটিক রোডে। পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই পাঁচটির পাশাপাশি আরও অন্তত ১১টি পুর-স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা স্যাটেলাইট হেল্থ সেন্টার নির্মাণের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দিনে কলকাতা শহরের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন পুর কর্তৃপক্ষ।