কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। —ফাইল চিত্র।
কলকাতার হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন রয়েছে, তা নিয়ে এ বার পর্যালোচনা বৈঠকে বসলেন পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারেন তিনি। সিপি অজয়ও ছিলেন ওই বৈঠকে। তার পরের দিনই, শনিবার সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক সারলেন কলকাতার নগরপাল।
কলকাতার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের নিয়ে শনিবার বৈঠকে বসেন পুলিশ কমিশনার। সেখানে পুলিশের অন্য পদস্থ আধিকারিকেরাও ছিলেন। জানা যাচ্ছে, কলকাতার কোন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন রয়েছে, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। কোন হাসপাতালে কতগুলি সিসি ক্যামেরা রয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে আরও কী কী প্রয়োজন— এই বিষয়গুলি উঠে এসেছে আলোচনায়। পাশাপাশি, হাসপাতালে ‘দালালচক্র’ পুরোপুরি বন্ধ করার জন্যও প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কোন হাসপাতালে কোন বিভাগের কত জন কর্মী রয়েছেন, হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী কত জন রয়েছেন, বাইরে থেকে কত জন নিরাপত্তাকর্মী নেওয়া হয়েছে— সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। সূত্রের খবর, বাইরে থেকে অযাচিত কেউ যাতে হাসপাতালে অবাধ প্রবেশাধিকার না-পান, তা নিশ্চিত করতেই এই তথ্যসংগ্রহ করা হচ্ছে।
পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্য দফতরকে নিজের হাতেই রেখে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পালাবদলের পরে সেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপরেই নজর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হাল নিয়ে তৎপর হয়েছেন তিনি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু শুক্রবার পৌঁছোন এসএসকেএম হাসপাতালে। স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, কলকাতার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন তিনি। কলকাতার পুলিশ কমিশনারও ছিলেন সেই বৈঠকে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বৈঠকে হাসপাতালগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সক্রিয় দালালচক্র এবং রোগী রেফার করে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর প্রবণতা নিয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও ভাবেই হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর সরাসরি নজরদারি চালাতে স্বাস্থ্য ভবনে একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ওয়ার রুমের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সরাসরি সংযোগ থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই বৈঠকের পরের দিনই এ বার কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশকর্মীদের নিয়ে বৈঠক সারলেন পুলিশ কমিশনার। কোন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী রয়েছে, কোথায় কী কী প্রয়োজন, সে সব বিষয়ে বিশদে খোঁজখবর নেন তিনি।