তদন্তকারী হিসেবে নয়। রেড রোড-কাণ্ডে নিজেদের তদন্তের কাজে ফৌজের সঙ্গে যাতে তালমিল থাকে, সে জন্য সেনাবাহিনীকে এক জন অফিসার পাঠাতে বলল কলকাতা পুলিশ। যাঁর ভূমিকা হবে ‘সমন্বয়কারী’র।
১৩ জানুয়ারি রেড রোডে প্রজাতন্ত্র দিবসের মহড়া চলাকালীন গাড়ির ধাক্কায় বায়ুসেনা কর্পোরাল অভিমন্যু গৌড় মারা গিয়েছেন। মূল অভিযুক্ত-সহ তিন জন ধরা পড়েছে লালবাজারের বিশেষ তদন্তদলের হাতে। সেনা-পুলিশ যৌথ তদন্তের আর্জি জানিয়ে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিল ফোর্ট উইলিয়াম। লালবাজার তখনই বলে, যৌথ তদন্ত অসম্ভব, আইনে এ ধরনের তদন্তের এক্তিয়ার সেনাকে দেওয়া হয়নি।
আর মঙ্গলবার সে কথাই চিঠি দিয়ে ফোর্ট উইলিয়ামকে জানিয়ে দিয়েছে লালবাজার। তবে চিঠিতে এ-ও বলা হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে ‘সমন্বয়সাধনের’ স্বার্থে বায়ুসেনা এক অফিসারকে পাঠাতে পারে। তা উনি এসে ঠিক কী করবেন? পুলিশ কি ওঁকে সব নথি দেখাবে?
সে সম্ভাবনা অবশ্য বিশেষ নেই। ‘‘সমন্বয়কারী ফৌজি অফিসারকে সমস্ত কাগজপত্র দেখাতে বাধ্য নই। যেমন মনে করব তেমন দেখাব।’’— বলছেন লালবাজারের এক কর্তা। তাঁর মন্তব্য, ‘‘তদন্ত করছি। কী দেখাব, কী দেখাব না, পুরোটাই আমাদের ব্যাপার।’’
সেনাবাহিনী যদিও এখন বিতর্ক বাড়াতে চাইছে না। ফৌজি-সূত্রের খবর, তদন্তে সমন্বয় রাখতে বায়ুসেনার এক অফিসারকে দু’-এক দিনের মধ্যে লালবাজারে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র, উইং কম্যান্ডার এসএস বিরদি এ দিন বলেন, ‘‘পুলিশের তরফে মৌখিক ভাবে আমাদের জানানো হয়েছে যে, সময় মতো সব নথিপত্র দিয়ে দেওয়া হবে। সেগুলো আমাদের কোর্ট অফ ইনকোয়ারি-তে কাজে লাগবে।’’ তবে কবে নথি সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে কিছু ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন উইং কম্যান্ডার।
ধৃতদের শনাক্তকরণের উদ্যোগ চলছে। সেনাবাহিনীর দাবি, ঘাতক গাড়ির চালকের আসনে কে ছিলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু সেনা অফিসার ও জওয়ান সে দিন তো তা দেখেইছেন, উপরন্তু ফৌজি-ক্যামেরাতেও ধরা রয়েছে। কাল, বৃহস্পতিবার ওই সব ‘প্রত্যক্ষদর্শী’কে ডেকেছে পুলিশ। ওঁদের নিয়ে যাওয়া হবে প্রেসিডেন্সি জেলে, যেখানে রয়েছে ধৃত তিন জন— সাম্বিয়া সোহরাব, শাহনাওয়াজ খান ওরফে শানু ও জনি। কাল ‘টিআই প্যারেড’ হওয়ার কথা। অর্থাৎ, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলবেন, ওই তিন জনের মধ্যে কেউ সে দিন গাড়িটি চালাচ্ছিল কি না। মূল অভিযুক্ত সাম্বিয়ার বাবা মহম্মদ সোহরাবের হদিস এ দিকে এখনও করে উঠতে পারেনি পুলিশ। তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ওই ব্যবসায়ীর নামে এফআইআর রুজু হয়েছে, ফেরার অভিযুক্ত হিসেবে জারি হয়েছে ‘লুক আউট নোটিস’ও। এ বার সঙ্গে জুড়ছে অস্ত্র-আইন। কী রকম?
লালবাজারের খবর: মহম্মদ সোহরাবের হেফাজতে একটি লাইসেন্সড রিভলভার আছে। সেটি পুলিশকে জমা দেওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল। উনি কর্ণপাত না-করায় অস্ত্র আইনও প্রযুক্ত হয়েছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা-প্রধান দেবাশিস বড়ালের কথায়, ‘‘কোনও অভিযুক্তের লাইসেন্সড আগ্নেয়াস্ত্র থাকাও বেআইনি। সেটি জমা দিতে বলা হয়েছিল। সাড়া না-পেয়ে অস্ত্র-আইনেও মহম্মদ সোহরাবের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হচ্ছে।’’