কলকাতার কড়চা

পঙ্খের কাজ করা মেঝে, মেঝেতে কার্পেট পাতা, এক পাশে একটি পিদিম জ্বলছে— বালুচরী শাড়ি পরে সাদা চুলে লাল সিঁদুর টক্‌টক্‌ করছে— কর্তাদিদিমা বসে আছেন তক্তপোশে।’ মহর্ষিপত্নীর এ ছবি লিখেছেন অবন ঠাকুর।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৬ ০০:০০
Share:

শিল্পিত অতীতকে ফেরানোর উদ্যোগ

Advertisement

পঙ্খের কাজ করা মেঝে, মেঝেতে কার্পেট পাতা, এক পাশে একটি পিদিম জ্বলছে— বালুচরী শাড়ি পরে সাদা চুলে লাল সিঁদুর টক্‌টক্‌ করছে— কর্তাদিদিমা বসে আছেন তক্তপোশে।’ মহর্ষিপত্নীর এ ছবি লিখেছেন অবন ঠাকুর। একদা বালুচরি শাড়ি ছিল বাংলার বস্ত্রশিল্পের গৌরব। মুর্শিদাবাদের বালুচরে নবাবি আনুকূল্যে বেড়ে ওঠা এই শিল্প ঔপনিবেশিক পর্বে বিস্তার পায় সাগর পেরিয়ে বিদেশেও। রং, বুটির বাহারের সঙ্গে বিশাল আঁচলায় জমকালো চারকোনা ফ্রেমবন্দি ছবির বৈচিত্র বালুচরিকে অনন্যতা দিয়েছিল।

চিত্রা দেব (‘স্বপ্নলোকের বালুচরী’/দেশ) দেখিয়েছিলেন, কী ভাবে নবাবি আমলে মুঘল দরবারি চিত্রকলার প্রভাবের সঙ্গে বাংলার নকশি কাঁথা আর মন্দির টেরাকোটা মিলেমিশে গড়ে তুলেছিল বালুচরিকে। পলাশির যুদ্ধের আশেপাশে শাড়িতে নবাব-বেগমের প্রাধান্য, যুদ্ধের পর সাহেব-বিবি, আস্তে আস্তে স্টিমার-রেলগাড়ি।

Advertisement

উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকেই বালুচরির সুদিন অস্তমিত। দুবরাজ দাস (আনুমানিক ১৮১৪-১৯০৩) এই ধারার শেষ বিখ্যাত শিল্পী। সুভো ঠাকুর চেষ্টা করেছিলেন বালুচরিকে পুনরুজ্জীবিত করার। পুরনো পদ্ধতিতে বুনে আর খরচ পোষানো সম্ভব ছিল না। কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায় বেনারসে এই শাড়ি বোনান, কিন্তু সে শুধু অনুকরণ। বিষ্ণুপুরে অক্ষয় দাস জ্যাকার্ড লুম ব্যবহার করে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম রেখে যে ধারা শুরু করেন, তা আজ ব্যাপক রূপ নিয়েছে, কিন্তু হারিয়ে গিয়েছে মূলের সৌন্দর্য, পরিমিতিবোধ আর শিল্পীর উদ্ভাবনী শক্তি।

এ বার তন্তুজের সহযোগিতায় উইভার্স স্টুডিয়ো রিসোর্স সেন্টার সেই ঐতিহ্যকেই ফেরাতে উদ্যোগী। ১৮ নভেম্বর ৬টা থেকে বিড়লা অ্যাকাডেমিতে শুরু হচ্ছে ‘বালুচরি: বেঙ্গল অ্যান্ড বিয়ন্ড’ প্রদর্শনী, চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাতে প্রফুল ও শিল্পা শাহের বিখ্যাত ‘টাপি’ সংগ্রহ থেকে আনা ১৫০ বছরের পুরনো বালুচরিও থাকছে। ১৮-২৭ সেখানেই বস্ত্র ও হস্তশিল্প মেলা। ১৯ নভেম্বর সারা দিনের আলোচনায় থাকবেন জ্যোতীন্দ্র জৈন, জসলিন ধমিজা নাসিম হাফিজ সহ অনেকেই, সঞ্চালনায় রোজমেরি ক্রিল। সঙ্গে বাঁ দিকের ছবিতে বালুচরি তাঁতের সামনে দুবরাজ দাসের ছেলে (এন জি মুখার্জির আ মনোগ্রাফ অন দ্য সিল্ক ফেব্রিকস অব বেঙ্গল, ১৯০৩, বই থেকে)। ডান দিকে, একটি বালুচরি শাড়ির আঁচলার নকশা।

Advertisement

অতিথি শিল্পী

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় তাঁর ছবি-আঁকার সঙ্গে ঘরবসতি। গুলামমহম্মদ শেখ সুদীর্ঘ কাল শিল্পের ইতিহাস ও চিত্রকলার শিক্ষক ছিলেন ভাদোদরার মহারাজা সয়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে, এখন সেখানেই প্রফেসর এমেরিটাস। তাঁর করা ম্যুরাল স্থান পেয়েছে মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, ভোপাল বিধানসভা ভবনে। তাঁর ছবির প্রদর্শনী হয়েছে দেশে-বিদেশে, নিজেও কিউরেট করেছেন বিনোদবিহারী, কে জি সুব্রহ্মণ্যনের প্রদর্শনী। পেয়েছেন পদ্মভূষণ, অন্যান্য সম্মান। শিল্পস্নাত মানুষটি কলকাতার আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ান স্টাডিজ আয়োজিত ‘তরুণ মিত্র স্মারক বক্তৃতা’য় বলবেন ‘রিডিং পিকচার্স: ভিউয়ার্স ভিউ’ বিষয়ে। অনুষ্ঠান ২৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটেয়, রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচার-এর ব্রহ্মানন্দ হল-এ।

ভবন শতবর্ষ

রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ বা ‘ভারত সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন অ্যালবার্ট হলে। এর পর নানা জায়গায় ভাড়া বাড়িতে কাজ চলতে থাকে। ১৮৮৮ সালে ভিজিয়ানাগ্রামের মহারাজার অনুদানে মেরিয়া অলিভিয়া রোল্যান্ড-এর কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকায় ৬২ বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে ছোট্ট একটি বাড়ি সমেত ছ’কাঠা দশ ছটাক জমি কেনা হয়। পরে সেখানে ‘ভারত সভা ভবন’ নির্মিত হয়। ১৯১৬-র ৮ এপ্রিল ভবনটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন সভাপতি অম্বিকাচরণ মজুমদার। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাচীন এই রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনটির গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে বাড়িটি প্রথম সারির ‘ঐতিহ্যবাহী বাড়ি’ হিসেবে চিহ্নিত। সম্প্রতি দু’দিনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাড়িটির শতবার্ষিকী উদযাপন করা হল। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন বর্তমান সভাপতি সত্যব্রত চৌধুরী। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য

বাংলার মঞ্চগান

বহু কাল আগেই বাংলার মঞ্চনাট্যে সংলাপের পরিবর্ত জায়গা করে নিয়েছে গান, মঞ্চগান। বড় সংলাপের পরিবর্তে একটি গানই কার্যকর, বুঝেছিলেন গিরিশচন্দ্র। সেটা রাগসঙ্গীত, লোকসঙ্গীত, লঘুসঙ্গীত এমনকী পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সুরবিস্তারও হতে পারে। মধুসূদন-গিরিশচন্দ্র-দ্বিজেন্দ্রলাল-রবীন্দ্রনাথ থেকে শম্ভু-বিজন-উৎপল-অজিতেশের গানের পরম্পরায় এ বার ১৮ নভেম্বর সন্ধে ৭টায় আইসিসিআর-এর সত্যজিৎ রায় অডিটোরিয়ামে গবেষক-গায়ক দেবজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাংলার মঞ্চগান’। গানের সঙ্গে প্রসঙ্গ-কথাও। সন্ধে ৬টায় সূচনায় মেধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবৃত্তির কোলাজ ‘চেতনার রঙে’।

মার্গ নাট্য

ভরতের নাট্যশাস্ত্রে ‘চিত্র পূর্বরঙ্গ’-র উল্লেখ রয়েছে। এটিকে বিশেষ ধরনের নৃত্য-গীতের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলাই রীতি। সম্প্রতি, নাট্যচর্চার প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিক মোড়কে মানুষের কাছে তুলে ধরতে, মায়ানমারে তালিম নিয়ে একই ধঁাচে মিনার্ভা থিয়েটারে পিয়াল ভট্টাচার্য ও তাঁর গোষ্ঠী ‘চিদাকাশ কলালয়’ ‘চিত্র পূর্বরঙ্গ’ উপস্থাপন করলেন ‘মার্গ নাট্য’ শীর্ষক নৃত্য-গীতানুষ্ঠানে। ইনস্টিটিউট অব সোশাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পাঁচটি ভাষায়— সংস্কৃত, বাংলা, হিন্দি, ব্রজবুলি ও অবহট্ট-এর মাধ্যমে উপস্থাপিত হল বিমূর্ত গীতি-নাট্য ‘ভানক’। এতে নান্যদেবের ভারত-ভাষ্যের সপ্ত-কল্প গীতির গানগুলি ব্যবহৃত হল। তারবাদ্য হিসেবে ছিল কচ্ছপী বীণা, মট্টকোকিলা ও বিপঞ্চী বীণা। আর তালবাদ্য ছিল, দর্দ্দুর, পণব, মৃদঙ্গ ও বাঁশি।

মানসী

উদ্বাস্তু শুধু যুদ্ধ-দাঙ্গায় হয় না। অসুখও ঘরছাড়া করে মানুষকে, যদি তা হয় মনের অসুখ। না-দেখা, না-শোনা মনোরোগীরা বাস করেন নানা মানসিক হাসপাতালে, কোনও একদিন ঘরে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে। তাঁদের জীবনে ফেরানো, ঘরে ফেরানোর কাজটি প্রায় দুই দশক ধরে করে আসছেন রত্নাবলী রায়। আবাসিকদের কর্মক্ষম করে তাঁদের মনে সাহস, প্রত্যয় ফিরিয়ে আনতে হাসপাতালে শুরু করেছেন ক্যান্টিন, লন্ড্রি। সেখানে কাজ করে পারিশ্রমিকও পান রোগীরা। বাড়ি ফেরানোর কঠিন কাজটা অবশ্য এত বছরেও সহজ হয়নি। কখনও পরিবারের খোঁজ মেলে না, কখনও তারা নিতে নারাজ। সমাজে এঁদের সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে শুরু করেছেন ‘জনমানস’ প্রকল্প। সম্প্রতি তাঁর ‘অঞ্জলি’ সংস্থা হাত দিয়েছে মানসিক রোগীদের যৌনতার বোধ, প্রকাশের ক্ষমতা ও রীতি, যৌনজীবনের অধিকার নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরির কাজে। মনোরোগীদের জীবনচর্যার এই বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে কাজের জন্য রত্নাবলীকে মানবাধিকার পুরস্কার দিল ‘হিউমান রাইটস ওয়াচ’ সংস্থা। মনোরোগীদের অনুমতি না নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ‘শক থেরাপি’ আর তাঁদের একাকী বন্ধ করে রাখার প্রথা বন্ধ করেছেন রত্নাবলী। এ তারও স্বীকৃতি।

ফিল্ম পত্রিকা

যে বহুত্ব বা বৈচিত্রের মধ্যে আমাদের বসবাস, সেই ভারতীয়তার স্বাদ এদেশের সিনেমাতেও। কত রকমের ছবি তার বিবিধ বিষয় আর আঙ্গিক নিয়ে, আঞ্চলিক থেকে গোটা দেশের সমাজ-সংস্কৃতি নিয়ে সপ্রশ্ন। সে সব নিয়েই সর্বভারতীয় বিশিষ্ট আলোচকদের লেখায় ঋদ্ধ ইন্ডিয়ান ফিল্ম কালচার (সম্পা: গৌতম কল প্রেমেন্দ্র মজুমদার)। ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ-এর এই জার্নালটির এ বারের বিষয়ই ‘ইন্ডিয়ান সিনেমা’ (সঙ্গে তারই প্রচ্ছদ)। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব শুরুর একটু আগেই এটি যেমন বেরল, তেমনই বেরল নর্থ ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটির সুবর্ণজয়ন্তী স্মারকপত্র স্বর্ণাঞ্জলি (সম্পা: জ্যোতিপ্রকাশ মিত্র চন্দন গোস্বামী)। পঞ্চাশ-পেরনো এই ফিল্ম সোসাইটি নিয়ে বহু জনের স্মৃতিচারণের সঙ্গে এখানে প্রকাশিত সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণালের রচনার পুনর্মুদ্রণ। সঙ্গে বেশ কিছু দুর্লভ ছবি, কলকাতার সিরিয়াস ফিল্ম চর্চাকে মনে পড়িয়ে দেবে।

পুস্তক সপ্তাহ

লীলা মজুমদার বলেছিলেন, ‘বইয়ের মধ্যে অঙ্কুর আছে, মনের জমিতে পড়লেই চারা বেরোয়।’ আবার, যে বক্তা বলেছিলেন, বইয়ের ঘ্রাণ নিলেই বই পড়ার নেশা ধরে যায়, তিনি বিশেষ অত্যুক্তি করেননি। শৈশব থেকেই বইয়ের ঘ্রাণ যার প্রিয়, তার শিক্ষা শুধু পরীক্ষা পাশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে এবং ভারত সরকারের নির্দিষ্ট করে দেওয়া সপ্তাহকে মূলত মাথায় রেখেই এ বার ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন বুক পাবলিশিং এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলিত উদ্যোগে চন্দ্রমুখী কাদম্বিনী সভাগৃহে (২০ নভেম্বর পর্যন্ত, দুপুর ২টো থেকে) পালিত হচ্ছে জাতীয় পুস্তক সপ্তাহ। ১৬, ১৭ এবং ১৮ তিন দিনের এক আলোচনা সভারও আয়োজন হয়েছে। যথাক্রমে ‘বুক কালচার’, ‘লাইব্রেরি’ এবং ‘পাবলিশিং’ বিষয়ে বলবেন বিশিষ্টরা।

অন্য হ্যামলেট

শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট এমনিতেই ব়ড় দ্বিধায় ভোগে, এর ওপর যদি তার গায়ে অ্যাবসার্ড নাটকের হাওয়া লেগে যায়, কাণ্ডটা কেমন হবে তার মালুম পাওয়া যাবে বহুব্রীহি নাট্যগোষ্ঠীর নতুন প্রযোজনা ‘রোজেনক্রান্টজ অ্যান্ড গিল্ডেনস্টার্ন আর ডেড’-এ। টম স্টপার্ড রচিত এ-নাটকে হ্যামলেট মুখ্য নয়, প্রান্তিক চরিত্রগুলি প্রাধান্য পাচ্ছে, আর ওয়েটিং ফর গোডো-র মতো নাটকের নির্যাস এসে যেন এক কমেডির বাতাবরণ তৈরি করে দিচ্ছে ট্র্যাজেডির ধ্রুপদী গাম্ভীর্য ভেঙে, আবার ভেতরে-ভেতরে ঘটে যাচ্ছে এক অন্তর্ঘাতও। জানালেন নির্দেশক অশোক বিশ্বনাথন, ‘নাচ-গান-সরসতার মেজাজে এক ঝলমলে মঞ্চ-উপস্থাপনা, উত্তর-আধুনিক দৃষ্টিকোণে, শেক্সপিয়ারের ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে।’ অশোকের সঙ্গে অভিনয়ে বিনয় শর্মা, সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়, তমাল রায়চৌধুরী প্রমুখ। ১৭-১৮ নভেম্বর, সাড়ে ৬টায় জি ডি বিড়লা সভাঘরে। সহযোগিতায় ব্রিটিশ কাউন্সিল।

খেলনা-পুতুল

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে অজস্র পোড়ামাটির খেলনা। তার অনেকগুলিতেই আছে রীতিমতো উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয়। পুতুল ছাড়াও পশুচালিত খেলনাগাড়ি, মাটির গরু-মোষ, কুঁজওলা ষাঁড়, ভেড়া, বাঁদর, গণ্ডার, কুকুর, নানা ধরনের পাখি সিন্ধু অঞ্চলের নানা প্রত্নক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছে। খেলনা থেকে পোড়ামাটি শিল্পের উৎকর্ষ ছাড়াও শিশুদের জন্য বিনোদনের ইতিহাসও ফুটে ওঠে। জানা যায় সমাজ-অর্থনীতি-ধর্ম-সংস্কৃতির নানা তথ্য। ভারতীয় সংগ্রহশালায় হরপ্পা থেকে পাওয়া এমন সব খেলনা পুতুল নিয়ে এ বার এক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, উপলক্ষ শিশু দিবস। মূল সংগ্রহশালা ভবনে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন ১৪ নভেম্বর, দেখা যাবে ১৫-২০ নভেম্বর ১০-৫টা।

নতুন ছবি

কলকাতা এখন বেশ বদলে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি। বিমানবন্দর থেকে উড়াল পুল ধরে কত তাড়াতাড়ি চলে এলাম হোটেলে। ভাল লাগল। আগে যখন আসতাম, অনেক দিন পর্যন্ত এই বদলটা চোখে পড়েনি।’ বলছিলেন আদুর গোপালকৃষ্ণন। কেরল থেকে দু’দিনের জন্যে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে এসেছিলেন। প্রায়শই না এলেও মাঝেমধ্যে আসেন এখানে নিজের ছবি দেখানোর আমন্ত্রণ পেলে, বছর তিনেক আগে এই উৎসবেই তাঁর ছবির রেট্রো হয়েছিল। এ বারে নতুন ছবি ‘পিন্নেইয়াম’ দেখানো হল, শনিবার রবীন্দ্রসদনে দুপুরবেলা, উৎসবের শুরুতেই। আট বছর পর আবার ছবি করলেন আদুর (জ. ১৯৪১), তাঁর পঁচাত্তর পূর্ণ হল এ বার, কলকাতার দর্শকের রুচির প্রশংসা করে বললেন, ‘সুখ, ভালবাসা, সম্পর্ক, মূল্যবোধ ইত্যাদি যা কিছু আমাদের ভাল ভাবে বেঁচে থাকার পথ দেখায়, সে সব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছি নতুন ছবিতে।’ ইতিমধ্যেই টরন্টো ফেস্টিভ্যালের ‘মাস্টার্স সেকশন’-এ দেখানো হয়েছে ছবিটি, দেখানো হচ্ছে আরও নানা আন্তর্জাতিক উৎসবেও। যিনি ভারতীয় ছবিকে বিশ্বের সম্মান স্বীকৃতি এনে দিয়েছিলেন সেই সত্যজিতের উত্তরসূরিদের অন্যতম আদুরের এ ছবিটি কিন্তু ঠাঁই পায়নি গোয়ায় আসন্ন কেন্দ্রীয় সরকারের উৎসব ‘ইফি’র ইন্ডিয়ান প্যানোরামা-য়! কলকাতা তার উৎসবে ছবিটি দেখিয়ে সৎ শিল্পবোধের পরিচয় দিল। কলকাতায় এলেই প্রতি বার নিয়ম করে সত্যজিৎ রায় আর মৃণাল সেনের সঙ্গে দেখা করতেন, ‘এ বারও গিয়েছিলাম মৃণালদার সঙ্গে দেখা করতে’, জানালেন আদুর গোপালকৃষ্ণন।

শতবর্ষে

বাবু সমঝো ইশারে, এক লড়কি ভিগি ভাগি সি, হাল ক্যায়সা হ্যায় জনাব কা... পঞ্চাশের দশকের শেষে মুখে-মুখে ফিরত এ সব গান। মান্না দে, কিশোরকুমার, আশা ভোঁসলের গানগুলির সঙ্গে সরস হিন্দি ছবি ‘চলতি কা নাম গাড়ি’ও (১৯৫৮) সুপার হিট। সঙ্গে সে ছবিরই স্থিরচিত্র, শুটিংয়ের অবকাশে কিশোরকুমার মধুবালা অনুপকুমার আর গাড়িটা। আর এক জনও আছেন একেবারে ডান দিকে, তিনিই এ-ছবির পরিচালক সত্যেন বসু (১৯১৬-১৯৯৩)। বাঙালি ভুলে গিয়েছে তাঁকে, সে ভুল এমনই যে ইন্টারনেটে তাঁর পরিচিতির পাশে বিজ্ঞানী সত্যেন বসুর মুখচ্ছবি, এমনকী পরিচিতিতেও বিজ্ঞানীর জন্মস্থান। পরিচালকের জন্ম পূর্ণিয়ায়, তাঁর সাড়া তোলা দু’টি বাংলা ছবি ‘পরিবর্তন’ আর ‘বরযাত্রী’তে নিজেও অভিনয় করেন। ‘বরযাত্রী’ নিয়ে সপ্রশংস ছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ। তার পর বম্বে পাড়ি, হিন্দি ছবি। জীবনের নানা ওঠাপড়া নিয়ে মনভরানো ছবির এই পরিচালককে ‘জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধার্ঘ্য এ বারের কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে’, জানালেন অধিকর্তা যাদব মণ্ডল। ১৫ নভেম্বর সন্ধে সাড়ে ৭টায় নন্দন-৩-এ দেখানো হচ্ছে তাঁর ‘চলতি কা নাম গাড়ি’।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement