—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
সাইবার অপরাধে প্রতারিতের কাছে দ্রুত টাকা ফেরানো সুনিশ্চিত করতে উদ্যোগী হল লালবাজার। প্রতারণার টাকা ফেরতে পেতে যাতে প্রতারিতকে ডিভিশনাল সাইবার সেল বা থানার মধ্যে দৌড়ঝাঁপ করতে না হয়, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, লালবাজার চাইছে এখন থেকে প্রতারণার টাকা থানার তদন্তকারী বা এনকোয়ারি অফিসারের মাধ্যমে ফেরত পান প্রতারিত ব্যক্তি। তার জন্য সম্প্রতি লালবাজারের তরফে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। যাতে ছিলেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান সোমা দাস মিত্র-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন কেউ সাইবার প্রতারণার শিকার হলে তাঁকে প্রথমে থানায় অভিযোগ জানাতে হয়। তার পরে যেতে হয় ডিভিশনাল সাইবার সেলে। সেখানে জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করতে হয়। এক পুলিশকর্তা জানান, প্রতারণার পরে প্রতিটি মিনিটের গুরুত্ব আছে। লেনদেনের পর পরই জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অনলাইনে অভিযোগ করলে টাকা অন্য কোথাও বেরিয়ে যাওয়া থেকে আটকানো যেতে পারে। দেরি হলে সেই টাকা একাধিক অ্যাকাউন্টে হাতবদল হয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রের খবর, এখন টাকা আটকে গেলে তা ডিভিশনাল সাইবার সেল থেকে প্রতারিতকে জানানো হয়। অনেক সময়ে প্রতারিতের মোবাইলে সরাসরি ওই টাকা আটকের মেসেজ চলে যায়। পরে তা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রতারিতকে আবার থানা এবং ডিভিশনাল সাইবার সেলে ছুটতে হয়। পরে আদালতের নির্দেশ নিয়ে এসে তা ব্যাঙ্কে জমা দিলে তবেই ওই টাকা প্রতারিতের অ্যাকাউন্টে ফেরত আসে।
তবে এ বার লালবাজারের পুলিশকর্তারা ওই ব্যবস্থার সরলীকরণ করতে চাইছেন। যাতে প্রতারিতকে দু’জায়গার বদলে শুধুমাত্র থানায় গেলেই কাজ হয়। আর তদন্তের মতো টাকা ফেরত বা অভিযোগ, সবটাই যাতে থানার তদন্তকারী অফিসার করেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে লালবাজার জানিয়েছে। এর জন্য নতুন পদ্ধতি বা নির্দেশ জারি করা হবে। এক পুলিশকর্তার কথায়, ‘‘প্রতারিতের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ কমাতেই ওই ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা চলছে।’’ তবে কলকাতা পুলিশের কয়েকটি ডিভিশনে থানার তরফেই ওই টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানান।
সাইবার বিশেষজ্ঞের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ বছরে বিভিন্ন প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় ভারতীয়েরা ৫২,৯৭৬ কোটিরও বেশি টাকা হারিয়েছেন। তার মধ্যে ফেরত মিলেছে অর্ধেকের বেশি টাকা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে