Cancer Awareness

কর্কট রোগের যন্ত্রণা ভুলে মঞ্চে খুদে রোগীরা, বাড়ছে সঙ্গে থাকার আশ্বাস

শহরের একটি সভাগৃহে কর্কট রোগে আক্রান্তদের নিয়ে শনিবারের এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল দীর্ঘ দিন ছোটদের কর্কট রোগ নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লাইফ বিয়ন্ড ক্যানসার’।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৬:৩০
Share:

মঞ্চে কর্কট রোগে আক্রান্ত শিশুরা। শনিবার, এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনুষ্ঠানে, শহরের একটি প্রেক্ষাগৃহে। ছবি: রণজিৎ নন্দী।

কেমোথেরাপির কারণে মাথার সব চুল প্রায় উঠে গিয়েছে। কারও হাতে লাগানো রয়েছে কেমোথেরাপির ওষুধ নেওয়ার চ্যানেল। তা নিয়েই কর্কট রোগে আক্রান্ত ১১ জন বাচ্চা সাবলীল ভাবে বলে গেল কাবুলিওয়ালা নাটকের সংলাপ। আবার, রোগের ব্যথা-যন্ত্রণাকে দূরে সরিয়ে নেচে মঞ্চ মাতিয়ে দিল সকলের কাছে ‘ছোট হৃত্বিক’ বলে পরিচিত আয়ুষ মাজি।

শহরের একটি সভাগৃহে কর্কট রোগে আক্রান্তদের নিয়ে শনিবারের এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল দীর্ঘ দিন ছোটদের কর্কট রোগ নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লাইফ বিয়ন্ড ক্যানসার’। পাঁচ বছরের যাত্রা পথে তারা ইতিমধ্যে এক হাজার আক্রান্তের পাশে দাঁড়িয়েছে। শহরে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ন’টি এবং শিলচর ও মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে চলে ওই সংগঠনের সহায়তা-ডেস্ক। সেখান থেকে ওষুধ, চিকিৎসা করাতে আসা-যাওয়ার খরচ, প্রয়োজনে থাকার ব্যবস্থাও করা হয়। সম্প্রতি মুম্বইয়ের আরও একটি হাসপাতালের সঙ্গে মউ সই করা হয়েছে।

‘নক্ষত্রদের সঙ্গে পরিচয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠান থেকে সংগঠনের চেয়ারম্যান পার্থ সরকার নতুন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘কর্কট রোগে আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিজনদের বিনামূল্যে সরকারি বাসে হাসপাতালে যাতায়াতের ব্যবস্থার প্রয়োজন। আগে দু’বার আবেদন করেও কিছু হয়নি।’’ পার্থর প্রস্তাব সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত, সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধর। বিগত পাঁচ বছর ধরে সমাজের বিভিন্ন স্তরের দাতাদের সহযোগিতায় পার্থদের পথ চলার কাহিনীও তুলে ধরা হয় তথ্যচিত্রের মাধ্যমে। তবে, আগামী দিনে আরও কয়েক হাজার শিশুর পাশে থাকার লক্ষ্যে পৌঁছতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সহযোগিতার কথাও উঠে আসে।

তাতে সহমত হয়ে ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের সিনিয়র পরামর্শদাতা, চোখের কর্কট রোগের চিকিৎসক আনন্দ গুপ্ত বলেন, ‘‘লন্ডন দুর্গোৎসব কমিটি বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশ নেয়। ওই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে এ বার আমরাও পাশে থাকার পরিকল্পনা করছি।’’ কয়েক বছর আগে কর্কট রোগে এক পা বাদ যাওয়া অঞ্জলি রায়ের নাচ দেখে সংগঠনের অন্যতম প্রতিনিধি হয়ে ওঠা অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘তখন থেকেই ভেবেছিলাম এই নক্ষত্রদের উজ্বল রাখা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সিঙ্গাপুরে সংগঠনের একটি শাখা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।’’ বাংলাদেশেও এই সংগঠনের খুদেদের নিয়ে অনুষ্ঠানের ভাবনাচিন্তার কথা তুলে ধরেন কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি তারিক চয়ন।

সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ‘নক্ষত্রেরা’ জ্বলজ্বল করতে পারে, সেই বার্তা দিতেই অনুষ্ঠানের শেষে খুদেদের সঙ্গে নিয়েই সকলে গাইলেন, ‘আমরা করব জয়, নিশ্চয়’।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন