প্রতীকী ছবি।
মেদ ঝরাতে মাঝে মধ্যে এলাকারই লেকে সাঁতার কাটতে যেতেন এক যুবক। কিন্তু শুক্রবার সকালে সেই লেকের জলেই তাঁর ম়ৃতদেহ ভাসতে দেখা গেল। সাঁতার জানা সত্ত্বেও কি করে বরাহনগরের ওই যুবক জলে ডুবে মারা গেলেন তা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
পুলিশ জানায়, বরাহনগরের নীলমণি সরকার স্ট্রিটের বাসিন্দা ওই যুবকের নাম অমিত পোদ্দার (৩৭)। শ্যামবাজারে তাঁদের কাপড়ের দোকান রয়েছে। তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছে অমিতের। শরীরে অতিরিক্ত মেদ থাকায় মাঝে মধ্যে তিনি ভোরে বনহুগলি লেকে সাঁতার কাটতে যেতেন। ভোর ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত চলত সাঁতার। এ দিনও ভোরে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে লেকে পৌঁছন। সকাল সাতটা নাগাদ স্থানীয় জেলেরা লেকের জলে দেহটি ভাসতে দেখেন। তাঁরাই দেহটি টেনে আর আই সি ১ নম্বর ঘাটে নিয়ে আসেন।
এর মধ্যেই লেকের ঘাটের সামনে থেকে একটি ব্যাগও উদ্ধার হয়। ব্যাগে নাম ও ঠিকানা লেখা ছিল। স্থানীয়েরা ঠিকানা দেখে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পৌঁছয় বরাহনগর থানার পুলিশও। তবে ব্যাগে যে যুবকের নাম ও ঠিকানা পাওয়া যায় তা ওই উদ্ধার হওয়া যুবকেরই কি না সে বিষয়ে প্রথমেই নিশ্চিত হতে পারেননি কেউই। পরে অমিতের পরিবারের লোকেরা এসে মৃতদেহটি শনাক্ত করেন।
অমিতের এক আত্মীয় বলেন, ‘‘অনেক দিন ধরেই সাঁতার কাটতে আসত। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটবে তা ভাবতেই পারছি না।’’ উদ্ধারকারীরা জানান, অমিতের মুখ থেকে গ্যাঁজলা বেরোচ্ছিল। প্রশ্ন উঠেছে, অমিতবাবু সাঁতার জানতেন বলেই লেকের জলে নামতেন। তা হলে এ দিন কি এমন ঘটল, যাতে জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হল। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে কোনও ভাবে হাঁফিয়ে গিয়ে ওই যুবক ডুবে গিয়েছেন। তবে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।’’