বিপজ্জনক বাড়ি: প্রয়োজনে আইন বদল

শহরে বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ইতিমধ্যেই সদিচ্ছা দেখিয়েছে পুর প্রশাসন। এ ব্যাপারে শহরের বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নিয়ে বৈঠকও হয়েছে।

Advertisement

অনুপ চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৬ ২৩:৫১
Share:

শহরে বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ইতিমধ্যেই সদিচ্ছা দেখিয়েছে পুর প্রশাসন। এ ব্যাপারে শহরের বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো সমাধানের পথ খুঁজতে প্রশাসন ও আইনজ্ঞদের নিয়ে গড়া এক বিশেষ কমিটির রিপোর্টও কয়েকদিন আগে জমা পড়েছে পুরসভায়। তবে ওই সমাধানের কাজ যে দ্রুততার সঙ্গে করা হবে বলে প্রথম বৈঠকে বলা হয়েছিল, তা না হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলেছেন, ‘‘জটিল বিষয়। তাড়াহুড়োর কোনও কারণ নেই।’’ ওই সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে পুর আইন সংশোধন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তবে তাতে বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটের (যদি ভাড়াটে থাকেন) কোনও রকম স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

Advertisement

পুজোর আগে উত্তর কলকাতার পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটে একটি বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে দু’জনের মৃত্যুর পরে শহরজুড়ে ওই ধরনের বাড়ির স্থায়ী সমাধানে পুর প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো পুরভবনে গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি বৈঠক ডাকেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। বৈঠকের মূল সুর ছিল দুর্ঘটনা, জীবনহানি রুখতে শহরের কোথাও আর বিপজ্জনক বাড়ি রাখা যাবে না। শহরের বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় রাজ্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সমাধানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে একটি রিপোর্ট দেবে পুরসভার কাছে। ওই বৈঠকের পরে মেয়র জানিয়েছিলেন এক মাস পর ২৮ অক্টোবর পরবর্তী বৈঠকেই সমাধানের চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু এক মাস পার হয়ে দু’মাস হতে চলল। আর কোনও বৈঠক হয়নি ঠিকই, তবে আইনজ্ঞদের সেই রিপোর্ট ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার কাছে জমা পড়েছে। বিলম্বের কারণ হিসেবে মেয়রের যুক্তি, ‘‘খুবই জটিল বিষয়। সব কিছু দেখে শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’

কমিটির প্রধান প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায় শনিবার বলেন, ‘‘রিপোর্টে সমাধানের একটা রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এ বার তা কতটা গ্রহণযোগ্য সে সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে পুরবোর্ড।’’ পুরসভার এক আইনজ্ঞ জানান, পুরসভার বর্তমান যা আইন আছে তাতে বিপজ্জনক অংশ ভেঙে ফেলা যেতে পারে, আবাসিকদের সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ভেঙে দিয়ে নতুন করে গড়ার ক্ষমতা পুরসভার নেই। আর সে কারণেই বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি পুর প্রশাসন। এ বার পুরসভার হাতে সেই ক্ষমতা দেওয়ার জন্যই আইন সংশোধনের কথা এসেছে রিপোর্টেও। কী ভাবে তা করা যায় তারও সূত্র দেওয়া হয়েছে ওই রিপোর্টে বলে জানান প্রণববাবু।

Advertisement

সেপ্টেম্বরে পুরসভার বৈঠকে শহরের বিপজ্জনক বাড়ির সংস্কারের পথ সুগম করতে পুর আইনে নতুন একটি শব্দ ‘অকুপায়ার’ যোগ করার প্রস্তাব উঠেছিল। অর্থাৎ বর্তমানে যিনি বা যাঁরা সংশ্লিষ্ট বাড়িতে বাস করছেন। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী ‘অকুপায়ার’ ভাড়াটে, বাড়ির মালিক অথবা শরিক, যে কেউই হতে পারেন। তিনি ওই বাড়ির যতটি অংশ জুড়ে বসবাস করছেন, বাড়ি সংস্কারের পর তিনি ততটা অংশই ফেরত পাবেন। বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে নতুন করে বাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে বাড়ির মালিক যদি অপারগ বা অনিচ্ছুক থাকেন তা হলে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কোনও প্রোমোটারের মাধ্যমে তা গড়ে তোলার পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক আইনজ্ঞ। পুরসভা সূত্রের খবর, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টেও তেমন সুপারিশ করা হয়েছে।

উত্তর কলকাতার বাড়ি মালিকদের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সুকুমার রক্ষিতের অভিযোগ, ‘‘বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে পুর প্রশাসন একটা পদক্ষেপ করছে, অথচ সেখানে বাড়ি মালিক সংগঠনের কাউকে ডাকা হয়নি। বাড়ি সংস্কারের ক্ষেত্রে কোথায় বাধা, কেন আমরা অপারগ এ সব শোনাও প্রয়োজন ছিল পুরকর্তাদের।’’ তিনি জানান, বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে নতুন করে তা বানাতে বাড়ির মালিক অপারগ হলে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে
প্রোমোটারকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এমনও শোনা যাচ্ছে সে ক্ষেত্রে প্রোমোটারকে সহায়তা করবে পুর প্রশাসন। বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রে সেই সহায়তা মিলবে কি না, তা অবশ্য জানতে পারেননি সুকুমারবাবুরা। পুরসভার বিল্ডিং দফতরের এক আধিকারিক জানান, রিপোর্ট যাচাই করে দেখার কাজ চলছে। কোনও কিছুই এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement