বেআইনি: ট্যাংরার ক্রিস্টোফার রোডের হেলে যাওয়া একটি বাড়ির মধ্যেই ফের শুরু হয়েছে নির্মাণ। মঙ্গলবার। ছবি: রণজিৎ নন্দী।
পাশাপাশি গড়ে ওঠা দু’টি বহুতল একটি অন্যটির উপরে বিপজ্জনক ভাবে হেলে পড়েছিল গত বছরের জানুয়ারি মাসে। দু’টি বাড়ির মধ্যে কোথাও ব্যবধান ছিল সাত ইঞ্চি, কোথাও বা দশ ইঞ্চি। যে ছ’তলা বহুতলের জন্য পাশের পাঁচতলা বহুতলটি হেলে পড়েছিল, সেটির উপরের তলটি কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ ভেঙে দিয়েছিল গত বছরের জানুয়ারিতেই। কিন্তু মঙ্গলবার ট্যাংরার ১১/২ ক্রিস্টোফার রোডের ওই ঠিকানায় গিয়ে দেখা গেল, ছ’তলা বহুতলটির উপরের ভাঙা অংশে ফের নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। সেই ভাঙা অংশের একাধিক জায়গায় ইট গেঁথে পাঁচিল তোলা হচ্ছে।
ভাঙা অংশে ফের বেআইনি ভাবে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় পাশের পাঁচতলা বাড়ির বাসিন্দারা প্রবল আতঙ্কে রয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এর পরে হয়তো ধীরে ধীরে উপরের দিকে আরও কয়েকটি তল তৈরি করা হবে। ওই বহুতলের পাশে বসবাস করা অত্যন্ত ঝুঁকির হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন তাঁরা! প্রসঙ্গত, গত বছরের জানুয়ারিতে ট্যাংরার ক্রিস্টোফার রোডে বহুতল হেলে পড়ার ওই ঘটনার পরে দু’টি বহুতলের প্রোমোটারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এলাকার বাসিন্দাদের প্রশ্ন, অত বড় ঘটনার পরেও কোন সাহসে অভিযুক্ত প্রোমোটার ভেঙে দেওয়া বেআইনি অংশে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করতে পারেন?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, পাশের আবাসনের এক বাসিন্দা বললেন, ‘‘গত বছরের জানুয়ারি মাসে হেলে পড়া বাড়িটির দিকে সকলের নজর ছিল। পুরসভা বেআইনি অংশ ভেঙে দেওয়ার পরেও ফের সেখানে নির্মাণ হচ্ছে। বিষয়টি পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের নজর এড়িয়ে গেল কী ভাবে?’’ আর এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘মেয়র ঘোষণা করেছিলেন, কোথাও অবৈধ নির্মাণ হচ্ছে কিনা, জানতে বিল্ডিং দফতরের ইঞ্জিনিয়ারেরা ওয়ার্ডে ঘুরবেন। বেআইনি নির্মাণ দেখলেই নোটিস দিয়ে থানায় এফআইআর করবেন। কিন্তু মেয়রের বলার পরেও বাস্তবে যে কী ঘটছে, পাশের বাড়িটাই তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।’’
এই প্রসঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিম এ দিন সাফ বলেন, ‘‘বেআইনি নির্মাণ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ট্যাংরায় ওই হেলে পড়া বহুতলের ছ’তলার বেআইনি অংশ ফের দ্রুত ভেঙে ফেলা হবে।’’ ওই বহুতলে ফের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পিছনে কি পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের নজরদারিতে গাফিলতি রয়েছে? কেন তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারলেন না, অথবা জেনেও আটকালেন না? উত্তরে মেয়রের যুক্তি, ‘‘পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারেরা সজাগ রয়েছেন। ভোটের সময়ে বেআইনি নির্মাণের প্রবণতা বাড়ে। সম্প্রতি ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে গাফিলতির অভিযোগে বিল্ডিং দফতরের এক ইঞ্জিনিয়ারকে শো-কজ় করা হয়েছে।’’ ট্যাংরার ১১/২ ক্রিস্টোফার রোডের বাড়িটি কলকাতা পুরসভার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে। ওই এলাকার পুরপ্রতিনিধিসন্দীপন সাহা শিক্ষা বিভাগের মেয়র পারিষদ। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে এন্টালি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তিনি। অভিযোগ শুনে সন্দীপন বলেন, ‘‘পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ ও পুরসভা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। বেআইনি নির্মাণ কোনও মতেই মেনে নেওয়া যাবে না।’’
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রের খবর, ভোট ঘোষণা হতেই বেআইনি নির্মাণের রমরমা বেড়ে যায়। ভোটের কাজে সকলে ব্যস্ত থাকায় একশ্রেণির অসাধু প্রোমোটার রাতের অন্ধকারে শহর জুড়ে বেআইনি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। প্রতিটি নির্বাচনের সময়েই এটা হয়। বিল্ডিং বিভাগের এক আধিকারিকের দাবি, ‘‘ভোটের সময়ে বেআইনি নির্মাণ রুখতে কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের সক্রিয় থাকতেবলা হয়েছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে