বীর বিলিংকে হিমাচল প্রদেশের প্যারাগ্লাইডিং রাজধানী বলা হয়। ছবি: সংগৃহীত।
ক্যালেন্ডারের পাতার কিছু ছবি মনে স্বপ্ন বুনে দেয়। তেমনই এক স্বপ্নের স্থান বীর বিলিং, যেখানে রয়েছে মুক্তির ঠিকানা। এখানে রয়েছে রোমহর্ষক জীবনের রসদ, আবার শান্ত প্রকৃতির পরশ। এখানে যেমন হইহই করা যায়, তেমনই বৌদ্ধ মঠের প্রশান্তিতে আত্মমগ্ন হওয়া যায়। এ এক এমন ঠিকানা যা মুছিয়ে দিতে পারে মনের জমা কষ্ট, জীবনের ক্লান্তি। জোগান দিতে পারে বাঁচার নতুন রসদ।
হিমাচল প্রদেশের প্যারাগ্লাইডিং রাজধানী বলা হয় বীর বিলিংয়কে। এ এক এমন জনপদ, যেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, নিজস্ব খাবার যে কোনও পর্যটকের সফরকে বর্ণময় করে তুলতে পারে। গভীর ভাবে এই স্থানকে চিনতে হলে, এখানকার সংস্কৃতির শিকড়ে পৌঁছতে হলে থেকে যেতে হবে বেশ কয়েক দিন। কাংড়া ভ্যালি, ক্যাফে, স্থানীয় খাবার, বৌদ্ধ মঠ, হাইকিং আর প্যারাগ্লাইডিংয়ের আনন্দ নিতে হলে কী ভাবে ঘুরবেন?
ভুলতে পারবেন না তুষারাবৃত ধৌলাধার শৃঙ্গের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত।
রোমাঞ্চের স্বাদ: জীবনে যদি আকাশ থেকে পাহাড়-প্রকৃতি দেখার শখ থাকে, তা হলে এই ঠিকানা আপনার জন্যই। বীর বিলিংকে হিমাচল প্রদেশের প্যারাগ্লাইডিং রাজধানী বলা হয়। এখানকার বিস্তীর্ণ উপত্যকা প্যারাগ্লাইডিংয়ের জন্য আদর্শ। ভুলতে পারবেন না তুষারাবৃত ধৌলাধার শৃঙ্গের দৃশ্য, কাংড়া ভ্যালির রূপ। বীর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বিলিং থেকে প্যারাগ্লাইডিংয়ের উড়ান শুরু হয়। অবতরণ হয় বীর-এ এসে। পাহাড়ের মাথা থেকে গ্লাইডার ব্যবহার করে ওড়া যায়। ওড়ার সময়ে সঙ্গে দক্ষ একজন থাকেন, যিনি গ্লাইডারটিকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
মনাস্ট্রি
চোকলিং মনাস্ট্রি। ছবি: সংগৃহীত।
বীর বিলিংয়ে রয়েছে একাধিক মনাস্ট্রি। তার মধ্যে চোকলিং মনাস্ট্রি জনপ্রিয়। উজ্জ্বল রঙের কারুকাজ রয়েছে মনাস্ট্রির দেওয়ালে। এখান থেকে ধৌলাধারের অংশ বিশেষ দেখা যায়। পায়ে হেঁটে এখানকার তিব্বতি কলোনি ঘুরে দেখতে পারেন। অতি অবশ্যই খেয়ে দেখতে হবে এখানকার তিব্বতি খাবার। একাধিক ক্যাফে মিলবে।
গুনেহার গ্রাম এবং জলপ্রপাত
হেঁটে গুনেহার গ্রামের গুনেহার জলপ্রপাত পর্যন্ত পৌঁছতে পারলে উপভোগ করা যাবে প্রকৃতিকে। ছবি:সংগৃহীত।
বীর থেকে একদিন পায়ে হেঁটে এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে বেরিয়ে পড়ুন। হিমাচলের স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে চাইলে গন্তব্য তালিকায় রাখুন গুনেগার গ্রাম। পাহাড়ি পথ পৌঁছে দেবে জলপ্রপাতের কাছে। শীতল জলরাশি হাতে নিলে মুছে যাবে দীর্ঘ পথ হাঁটার ধকল। মু্গ্ধ করবে প্রকৃতি।
ক্যাফে
বীর বিলিংয়ের ক্যাফগুলি থেকে প্রকৃতি দর্শনের আমেজই আলাদা। ছবি:সংগৃহীত।
বীর বিলিং এলে এখানকার ক্যাফেগুলিতে ঢুঁ মারতে পারেন । পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে চা—ফি পানের মজাই আলাদা। এখানকার ক্যাফেতে সিড্ডু বা স্থানীয় খাবার যেমন মেলে তেমনই মেলে অত্যন্ত সুস্বাদু প্যানকেক, পিৎজ়াও। বিলিং থেকে দিনভর প্যারাগ্লাইডিং হয়। রঙিন গ্লাইডারগুলো দূর থেকে সুন্দর দেখায়। এখানকার ছাদখোলা ক্যাফে থেকে আকাশ দেখতে দেখতেই দিনের অনেকটা সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়।
সাইকেলে সফর
বীরের পাহাড়ি গ্রাম, চা-বাগানের মাঝ দিয়ে তৈরি হওয়া রাস্তা উপভোগের আদর্শ উপায় সাইকেল। ভাড়া করা সাইকেল নিয়ে দিনভর টো-টো করে ঘুরে বেড়াতে পারেন যেখানে ইচ্ছা। ভিড় এড়িয়ে চলে যেতে পারেন কোনও অজানা গ্রামে।সূর্যাস্ত দেখুন এমনই কোনও ভিউ পয়েন্ট থেকে।
সুযোগ-সুবিধা
ছবির মতো এমন জায়গায় সুন্দর কোনও হোম-স্টেতে থাকতে পারেন। এখানে বিভিন্ন মানের হোম-স্টে এবং হস্টেল আছে। ক্যাফেগুলিও খুব ব্যয়বহুল নয়। ফলে কম খরচেও জায়গাটি উপভোগ করা যায়।