মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক কষা হচ্ছে বলে ইমেল করা হল ভবানীপুর থানায়। দু’দিনের মধ্যে সেই ইমেল প্রেরণকারীকে গ্রেফতারও করল পুলিশ। শনিবার লালবাজার থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ওই ইমেল এবং যুবকের গ্রেফতারির কথা জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুয়ো খবর ছড়ানো ইমেল পাঠালে কঠোর পদক্ষেপ করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১৪ মে ভবানীপুর থানায় শুভেন্দুকে হত্যার পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি ইমেল আসে। তাতে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রীকে এক মহিলা হত্যার পরিকল্পনা করছেন। তিনি জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত এবং আত্মঘাতী হামলার জন্য বোমা প্রস্তুত করছেন। এই ইমেল পেয়েই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গার্ডেনরিচ থানার সাহায্যে ইমেল প্রেরণকারীর খোঁজ মেলে। ধৃতের নাম হাসনেম ইকবাল।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ইমেলটির বার্তা ভুয়ো। সেখানে যে মহিলার নাম করা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে যুবকের ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেই কারণে তাঁকে ফাঁসাতে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তিনি থানায় ওই ইমেল করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে যুবক এ কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত এর আগেও একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এমন ভুয়ো খবর দিয়ে ইমেল পাঠিয়েছেন। এমনকি, উড়ো ইমেল পাঠানো হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের দফতরেও। আগামী দিনে এমন কাজ কেউ করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। লালবাজারের বার্তা, এই ধরনের ইমেল যাঁরা পাঠান, দ্রুত হোক বা দেরিতে, তাঁরা ধরা পড়বেনই। তাই এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তাতেও কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। ঘটনাচক্রে, শুভেন্দু নিজে ভবানীপুরের বিধায়ক। ওই কেন্দ্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে তিনি পরাজিত করেছেন। নন্দীগ্রাম থেকেও শুভেন্দু জিতেছিলেন। তবে সেই আসন থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। ভবানীপুর থানায় তাঁর নামে হুমকি ইমেল যাওয়ার পর থেকে বাড়তি সতর্ক পুলিশ।