বিক্রয়কর অফিস থেকে নটরাজ মূর্তি চুরির ঘটনায় ওই দফতরের একাংশ জড়িত বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, বেলেঘাটায় সদর দফতরের ভিতর থেকে যে ভাবে বিরাট ধাতুর নটরাজ মূর্তি-সহ বহু মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়েছে, তা ওই দফতরের কর্মীদের একাংশের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরেও দফতরের কর্মীদের তালিকা দেওয়া নিয়ে বিক্রয়কর দফতরের কর্তারা যেমন গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছেন, সেটাও স্বাভাবিক বলে মনে করছেন না পুলিশকর্তারা। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অবশ্য এই চুরির ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানায়, দোল এবং হোলির ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার অফিসে ঢুকে বিক্রয়কর বিভাগের অফিসারেরা দেখতে পান দরজার তালা খোলা। ঘরের ভিতরে থাকা আলমারির তালাও ভাঙা। উধাও বাজেয়াপ্ত হওয়া ৭-৮টি প্রাচীন মূর্তি। তার মধ্যে বহু পুরনো একটি নটরাজের মূর্তিও রয়েছে। তার পরেই দফতরের যুগ্ম কমিশনার ভবানন্দ দাস এন্টালি থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই নটরাজের বিষয়ে কর-কর্তারা খোলসা করে কিছু বলতে চাননি। তবে দফতরের একটি সূত্রের দাবি, প্রাচীন মূর্তি কারবারিদের কাছে ওই মূর্তির দর আকাশছোঁয়া।
তদন্তকারীদের দাবি, বিক্রয়কর দফতর থেকে যে পরিমাণ জিনিসপত্র চুরি গিয়েছে, তা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দফতরের ভিতরে একটি ম্যাটাডর ঢোকা প্রয়োজন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই অফিস চত্বরে বাইরের কোনও গা়ড়ি ঢুকলে, রেজিস্টারে তা লিখতে হয়। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে রেজিস্টারে কোনও গাড়ির উল্লেখ নেই। কেয়ারটেকারের কাছে চাবির গোছা থাকলেও সে দিন তা বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই মূর্তি এবং মূল্যবান জিনিসগুলি সম্প্রতি বাজেয়াপ্ত করে আনা হয়েছিল। ফলে সেগুলি দফতরের লোক ছাড়া বাইরের কারও জানা কার্যত অসম্ভব বলেও মনে করছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘দফতরের কর্মী-অফিসারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সেই তালিকা মেলেনি।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, ওই অফিসের গেটে পাহারায় থাকা পুলিশকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।