প্রতীকী ছবি
মৃত্যুর পরে সাধারণ ভাবেই হয়েছে সৎকার। কিন্তু দু’দিন পরে রিপোর্ট পেতেই জানা গেল, ওই বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি জানার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন মৃতের প্রতিবেশী থেকে শ্মশানের কর্মীরাও। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মৃত্যু হওয়ার পরেও সেটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলা হল কী ভাবে?
গত ১৫ জুলাই ঘটনাটি ঘটেছে বেলুড়ের পালবাগান লেনে। ১৭ তারিখ রিপোর্ট আসার পরে পড়শিরা বলেন, ‘‘করোনার উপসর্গ নিয়েই বৃদ্ধ হাসপাতালে ভর্তি হন। তার পরেও কী ভাবে হাওড়া জেলা হাসপাতাল ও প্রাক্তন কাউন্সিলর স্বাভাবিক মৃত্যু বললেন, বুঝতে পারছি না।’’
৮ জুলাই থেকে জ্বরে ভুগছিলেন সত্তর বছরের ওই বৃদ্ধ। পরিজনেরা জানান, স্থানীয় চিকিৎসককে দেখানোর পরে ১২ জুলাই জ্বর কমে যায়। ১৩ তারিখ বেসরকারি সংস্থা থেকে লালারস পরীক্ষা করান বৃদ্ধ। তাঁর ছেলে বলেন, ‘‘১৪ জুলাই রাতে বাবার প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অক্সিজেন জোগাড় করতে না-পেরে বেহালায় দিদিকে জানাই।’’ সিলিন্ডার জোগাড় করে ট্যাক্সিতে চাপিয়ে পরদিন ভোরে বেলুড়ে আসেন বৃদ্ধার মেয়ে।
তাঁরা জানান, হাসপাতালে যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স এলেও শ্বাসকষ্ট শুনে ফিরে যায়। এর পরে ওই ট্যাক্সিতে করেই বৃদ্ধকে সত্যবালা আইডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখার পরে তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
বৃদ্ধের ছেলে বলেন, ‘‘হাওড়া হাসপাতালে অনেক ক্ষণ অপেক্ষার পরে ভর্তি নেওয়া হয়। তত ক্ষণে বাবা নেতিয়ে পড়েছেন। কিছু ক্ষণ পরেই মারা যান।’’ জেলা হাসপাতালের তরফে সাধারণ মৃত্যু ধরেই ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দেওয়া হয়।
সেখানকার সুপার নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কোভিড পরীক্ষার বিষয়টি পরিবার জানায়নি। ভর্তির কিছু ক্ষণ পরেই উনি মারা যান। তাই লালারস পরীক্ষা হয়নি। সেই কারণেই স্বাভাবিক মৃত্যু লেখা হয়েছিল।’’ ছেলের অবশ্য দাবি, ‘‘সব কথাই চিকিৎসকদের বলেছিলাম।’’
বৃদ্ধের দেহ পাড়ায় আনার কথা শুনেই আপত্তি জানান বাসিন্দারা। কারণ, তাঁর করোনা উপসর্গ ছিল এবং পরীক্ষার রিপোর্ট তখনও আসেনি। কিন্তু এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রাণকৃষ্ণ মজুমদারের হস্তক্ষেপেই দেহ পাড়ায় আনা হয় বলে অভিযোগ। প্রাণকৃষ্ণ বলেন, ‘‘হাসপাতাল স্বাভাবিক মৃত্যু বলে লিখেছিল। তাই দেহ পাড়ায় আনা হয়। পরে এলাকা জীবাণুমুক্তও করা হয়েছে।’’
বিষয়টি জেনে প্রথমে সৎকারে রাজি হননি বালি পাঠকঘাট শ্মশানের কর্মীরা। তবে প্রাক্তন কাউন্সিলরদের হস্তক্ষেপে সেখানেই সৎকার হয়। শ্মশানটি ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানকার প্রাক্তন কাউন্সিলর বলরাম ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমি হস্তক্ষেপ করিনি। আমাকে জানানোর পরে পুরো শ্মশানটি দমকল দিয়ে জীবাণুমুক্ত করিয়ে দিয়েছি।’’
তবে বৃদ্ধের রিপোর্ট দেখে চিন্তায় গোটা পরিবার। ছেলে বলেন, ‘‘আমার ন’মাসের বাচ্চাটারও জ্বর। আমরা সকলে পরীক্ষা করাতে চাই। কিন্তু কী ভাবে করাব, বুঝতে পারছি না।’’