ভবানীপুর বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের শোচনীয় পরাজয়ের কারণেই কী ইস্তফা (বাঁ দিকে) দেবলীনা বিশ্বাসের? প্রশ্ন কলকাতা পুরসভার অন্দরে। ছবি: সংগৃহীত।
কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বোরোর চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের দেবলীনা বিশ্বাস। সোমবার তাঁর পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর এলাকার অন্তর্গত ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের পর এই পদত্যাগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের একাংশ নেতৃত্বের দাবি, দলের শীর্ষনেতৃত্বের একাংশের নির্দেশেও এই পদত্যাগ হতে পারে।
প্রকাশ্যে আসা চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বোরো ৯-এর চেয়ারপার্সন দেবলীনা ১৯ মে হাতে লেখা একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। চিঠিটি তিনি পাঠিয়েছেন কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের উদ্দেশে। সেখানে তিনি লিখেছেন, তিনি বোরো কমিটির চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন এবং সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগপত্র দ্রুত গ্রহণ করার আবেদনও জানিয়েছেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলের ভরাডুবির জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেবলীনা। উল্লেখ্য, ৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা।
ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত কলকাতা পুরসভার ৭১, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড। এই পাঁচটি ওয়ার্ডের মধ্যে চারটিতেই তৃণমূল পিছিয়ে পড়ে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। বিশেষ করে বোরো ৯ এলাকার একাধিক বুথে বিজেপি উল্লেখযোগ্য লিড পেয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেবলীনা নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে চেয়ারপার্সনের পদ ছাড়লেন। যদিও এই বিষয়ে দেবলীনা প্রকাশ্যে এখনও বিস্তারিত কোনও মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, দলের সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেই তিনি প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কাউন্সিলর পদে থেকে মানুষের কাজ চালিয়ে যেতে চান।