Coronavirus

আলাদা বিধির আর্জি বিশেষ ভাবে সক্ষমদের পরিবারের

নিজের প্রয়োজনটুকুর কথাও ঠিক করে বলতে পারে না। বাবা-মায়েদের তাই প্রশ্ন, এমন সংক্রমণের আবহে ওদের শৌচাগারে নিয়ে যাওয়া, খাইয়ে দেওয়া, জামা বদলানোর মতো জরুরি কাজ কে করবেন?

Advertisement

জয়তী রাহা

শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২০ ০৩:০৩
Share:

প্রতীকী ছবি

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ব্যাপ্তি যতটা, শিশুদের মধ্যে এখনও ততটা ধরা পড়েনি। কিন্তু বিশেষ ক্ষেত্রে তারা সংক্রমিত হলে তা ভয়াবহ হবে, বলছেন কোনও কোনও চিকিৎসক। সংক্রমিত শিশুদের সর্দি এবং জ্বরের পাশাপাশি উপসর্গহীন নিউমোনিয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছে চিকিৎসক মহল। বিরল রোগে আক্রান্ত এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের অভিভাবকেরাও এই পরিস্থিতিতে শঙ্কিত। কারণ, তাদের বেশির ভাগেরই দুর্বল ফুসফুসের জন্য নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা থাকে।

Advertisement

এমন শিশুদের বাবা-মায়েদের প্রশ্ন, করোনা হলে তাঁদের সন্তানকে হাসপাতালে রেখে কী ভাবে চিকিৎসা সম্ভব? তাঁরা জানাচ্ছেন, নিজেদের কাজে ওদের কেউ একশো ভাগ, কেউ অর্ধেকেরও বেশি বাবা-মায়ের উপরে নির্ভরশীল। অনেকেই

নিজের প্রয়োজনটুকুর কথাও ঠিক করে বলতে পারে না। বাবা-মায়েদের তাই প্রশ্ন, এমন সংক্রমণের আবহে ওদের শৌচাগারে নিয়ে যাওয়া, খাইয়ে দেওয়া, জামা বদলানোর মতো জরুরি কাজ কে করবেন? এই পরিস্থিতি নিয়ে এখনও অবশ্য ভাবেনি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের কোভিড সেলের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, “কোভিড নিয়ে স্বাভাবিক পরিকাঠামো গড়তে ব্যস্ত প্রশাসন। এ সব ক্ষেত্রে ‘কেস টু কেস’ সিদ্ধান্ত হবে।”

Advertisement

এ দেশের মোট জনসংখ্যার ৬-৮ শতাংশ শুধু বিরল রোগেই আক্রান্ত। এর বাইরে রয়েছেন বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষেরা। তবু কেন আলাদা কোভিড প্রোটোকল থাকবে না, উঠছে প্রশ্ন। কারণ, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে ছোটদের কোভিড সংক্রমণের আশঙ্কা কম, তেমনটা মনে করছেন না চাইনিজ় ইউনিভার্সিটি অব হংকং-এর পেডিয়াট্রিক রেসপিরেটরি মেডিসিনের গবেষক গ্যারি ওং। তাঁর মতে, “শিশুদের সংক্রমিত না হওয়ার কোনও এপিডিমিয়োলজিক্যাল বা বায়োলজিক্যাল ব্যাখ্যা পাচ্ছি না। বড়দের মতো জনসমক্ষে না বেরোনোটা একটা যুক্তি হতে পারে। তবে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হলে বাবা-মা অথবা কেয়ারগিভারদের থেকে ওদের সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে।”

সেই ভয়ই পাচ্ছেন স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রফি (এসএমএ) আক্রান্ত দেবস্মিতার মা মৌমিতা ঘোষ। নিজে চিকিৎসক, পাশাপাশি ‘কিয়োর এসএমএ ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়া’-র পূর্ব ভারতের কো-অর্ডিনেটর তিনি। বছর নয়েকের মেয়ের দায়িত্ব স্বামী-স্ত্রী ভাগ করে সামলান। তার সুরক্ষায় প্রতিটি পদক্ষেপ মেপে ফেলছেন। তবু সন্ত্রস্ত মায়ের কথায়, ‘‘ওদের ফুসফুস দুর্বল। সংক্রমণ হলে কোথায় নিয়ে যাব মেয়েকে? আমরাই ওদের ভরসা। অভিভাবককে সঙ্গে থাকতে না দিলে ওদের রাখা অসম্ভব। কোভিড চিকিৎসা-বিধিতে সেই ব্যবস্থাটাই নেই।” চিন্তিত হান্টার সিন্ড্রোমে আক্রান্ত বছর আঠারোর আরিয়ানের বাবা, এমপিএস সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত শিবশঙ্কর চৌধুরী। তাঁর কথায়, “নিউমোনিয়া হওয়ায় আরিয়ানকে বছর দুই আগে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। বাড়িতেই অক্সিজেন মজুত থাকে। বেসরকারি সংস্থায় কাজ করি। রোজ অফিসে যেতে হচ্ছে। খুব চিন্তায় আছি।” একই ভয় নিয়ে অফিসে যাতায়াত করে দশ বছরের অটিস্টিক ছেলেকে সামলাচ্ছেন ঋতুশ্রী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, “ওদের জন্য আমাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। সুতরাং ওদের দেখভাল সাধারণ কাজ নয়।”

Advertisement

এই আশঙ্কা থেকেই বিরল রোগে আক্রান্ত ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ কোভিড প্রোটোকল আনার আবেদন করে ওঁরা মুখ্যমন্ত্রী-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দরখাস্ত করেছেন।

রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা, বর্তমানে কোভিড কোঅর্ডিনেটর প্রদীপ মিত্র বলছেন, “ওদের সামলে রাখতে এক জনকে সম্পূর্ণ নিয়োজিত থাকতে হবে। সেটা এই পরিকাঠামোয় অসম্ভব। তা ছাড়া বিশেষ পরিচর্যা অভিভাবক ছাড়া অন্যের পক্ষে সম্ভব নয়। আবেদন করলে ওঁদের অনুমোদন পেতে নিশ্চয়ই অসুবিধা হবে না।”

অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে এখানেই। মৌমিতা, শিবশঙ্কর বা ঋতুশ্রীর বক্তব্য, প্রোটোকল থাকলেও অনেক হাসপাতাল তা মেনে চলে না। সে ক্ষেত্রে প্রোটোকল না থাকলে কি কেউ শুনবে? সন্তান আক্রান্ত হলে সেই সময়ে ক’জন অনুমোদন নিতে সক্ষম হবেন? সেই সময় পাবেন তো?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement