কলকাতা পুরসভা। —ফাইল চিত্র।
ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ঢুকল না মার্চের ২০ তারিখেও! আজ ইদ। বেতন না পাওয়ায় খুশির ইদ ওঁদের কাছে বড্ড ফিকে। রংহীন।
কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে প্রায় ২০০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। যেগুলি এনইউএইচএম (ন্যাশনাল আরবান হেলথ মিশন)-এর অধীনে রয়েছে। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এনইউএইচএম-এর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির কিছু চিকিৎসক স্থায়ী কর্মী। তাঁদের বেতন কলকাতা পুরসভা বহন করে। বাকি অস্থায়ী চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্টের সংখ্যাটাই বেশি। তাঁদের বেতনের ৬০ শতাংশ দেয় কেন্দ্র দেয়। বাকি ৪০ শতাংশ বহন করে রাজ্য সরকার।
কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এরকম প্রায় ২৫০০ স্বাস্থ্যকর্মী গত মাসের বেতন এখনও পর্যন্ত হাতে পাননি। ওই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ জন মুসলিম ধর্মাবলম্বী রয়েছেন। অভিযোগ, ইদের মুখে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন মার্চের তৃতীয় সপ্তাহেও না পাওয়ায় তাঁরা হতাশাগ্রস্ত। অনেক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন যাঁদের মাসিক বেতন কুড়ি হাজার টাকার কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, দক্ষিণ কলকাতার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক মুসলিম স্বাস্থ্যকর্মীর অভিযোগ, ‘‘এমনিতেই বেতনের পরিমাণ স্বল্প। তার উপর ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এই মাসের ২০ তারিখেও হাতে পেলাম না। ইদটা এরকম বর্ণহীন কবে কেটেছে, মনে নেই।’’ দক্ষিণ কলকাতার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক মুসলিম চিকিৎসকের কথায়, ‘‘হাওড়া পুরসভা, গ্রামীণ এলাকার এনইউএইচএম-এর অধীন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বেতন হয়ে গিয়েছে বলে শুনেছি। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে এরকম সমস্যা কেন? ইদের কথা ভেবে পুর কর্তৃপক্ষের বাড়তি নজর দেওয়া দরকার ছিল।’’ এনইউএইচএম-এর অধীনে পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে গ্রুপ ডি কর্মীদের বেতনও খুব বেশি নয়। ফলত মার্চ শেষ হতে চললেও ফেব্রুয়ারির বেতন না মেলায় মাথায় হাত তাঁদের। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তাঁদের অনেকেই।
ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা জানাচ্ছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন সাধারণত মার্চের ১ অথবা ২ তারিখে হাতে পেয়ে যান তাঁরা। কিন্তু এ বার এই সমস্যা হচ্ছে কেন? কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের এক পদস্থ আধিকারিক শুক্রবার বলেন, ‘‘এনইউএইচএম-এর অস্থায়ী কর্মীদের বেতন প্রক্রিয়ায় নতুন অ্যাপ চালু হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ মতো এটা কার্যকর হয়েছে। ওই অ্যাপ সরলীকরণ করতে সময় লাগছে। বেতন রাজ্য সরকারের তরফে আরবিআই (রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া)-এ গিয়েছে। আশা করছি, দ্রুত টাকা পেয়ে যাবেন সবাই।’’ কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র তথা মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ বলেন, ‘‘একটা প্রযুক্তিগত ত্রুটি হয়েছে। আশা করছি, এক-দু’দিনের মধ্যে সবাই টাকা পেয়ে যাবেন।’’ কিন্তু শনিবার তো ইদ। সংখ্যালঘু মুসলিম কর্মীরা বিশেষ করে হতাশায় ভুগছেন। বেতন সময়মতো দিতে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হল না কেন? উত্তরে অতীন জানান, কেন্দ্রের নির্দেশের জন্যই এই বিলম্ব। রাজ্য বা কলকাতা পুরসভার কোনও গাফিলতি নেই।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে