বিবার সন্ধ্যায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বেহালার সখেরবাজার এলাকা। — নিজস্ব চিত্র।
বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেবের সভা ঘিরে রবিবার সন্ধ্যায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বেহালার সখেরবাজার এলাকা। বিজেপি-র সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিজেপির উপর দায় চাপাল শাসকদল তৃণমূলও।
রবিবার সন্ধ্যায় বেহালার সখেরবাজার এলাকায় বিজেপি নেতা তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সভা ছিল। বিজেপি-র দাবি, পরিবর্তন সঙ্কল্প সভায় বিপ্লবের ভাষণের পরেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। তৃণমূলের একদল কর্মী-সমর্থক জোর করে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। দু’পক্ষে বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা সভাস্থলে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় মঞ্চেও। ঘটনার জেরে ডায়মন্ড হারবার রোডে বেশ কিছু ক্ষণের জন্য যানচলাচল থমকে যায়।
রবিবার সন্ধ্যার এই ঘটনার পরেই সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি-র দাবি, বিপ্লবের সভায় যে পরিমাণ জমায়েত হয়েছিল, তা দেখেই আতঙ্কিত হয়ে হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। সরব হয়েছেন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে দেয় যে, ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল গভীর আতঙ্কে ভুগছে। গণতান্ত্রিক পথে জনগণের রায়ের মুখোমুখি হওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে তারা সন্ত্রাস ও হিংসাকেই একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।’’ পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন সুকান্ত। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তাঁরা হামলাকারীদের রুখতে কোনও পদক্ষেপ করেননি।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ঘটনাপ্রসঙ্গে বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগাযোগ নেই। কাছেই এক জায়গায় একটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট চলছিল। সেখানে গিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা অহেতুক ভাঙচুর চালান এবং খেলা পণ্ড করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে স্থানীয় জনতা ক্ষেপে গিয়ে বিজেপি-র গুন্ডাদের জবাব দেয়। সেখান থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে আমাদের কোনও যোগ নেই। যা হয়েছে বিজেপি-র উস্কানিতেই হয়েছে। বিজেপি-র তরফে উস্কানি না দেওয়া হলে এই ধরনের ঘটনা কখনওই ঘটত না।’’