—প্রতীকী চিত্র।
পাকিস্তানের ভারত-বিরোধী এজেন্টদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হল, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানা এলাকার ক্ষীরাই পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শেখ মুরসালিন ও সুরজচকের গৌতম খাঁড়া। মঙ্গলবার দিনভর জেরা করার পরে রাতের দিকে তাদের গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন এবং প্রচুর ‘প্রি-অ্যাক্টিভেটেড’ সিম কার্ড উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। ধৃত দু’জনকে বুধবার বিধাননগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, “এসটিএফে একটি মামলা রুজু হয়েছিল। সেই মামলার সূত্রেই ওরা পিংলা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছে। ওই দু’জনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।”
জানা গিয়েছে, গৌতমের মোবাইল সংযোগের ব্যবসা রয়েছে। সেই সূত্রে তার কাছে অনেকেই আসতেন মোবাইলের সিম কার্ড কিনতে। গৌতম সেই সুযোগে গ্রাহকদের পরিচয়পত্র বা নথি রেখে দিত। পরে তা দিয়েই নতুন সিম কার্ড চালু করত। ওই সব সিমের নম্বর গৌতম পাঠাত মুরসালিনের কাছে। মুরসালিন সেগুলি পাঠিয়ে দিত পাকিস্তানে থাকা আইএসআই এজেন্টদের। ওই এজেন্টরা সেই সব নম্বর দিয়ে ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত। কিন্তু সিম কার্ড যে হেতু মুরসালিনের কাছে থাকত, তাই ওটিপি আসত তার কাছেই। মুরসালিন তা জানিয়ে দিত আইএসআই এজেন্টদের। ওটিপি-পিছু তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে পেত সে।
জানা গিয়েছে, মুরসালিন একাধিক বার তাইল্যান্ডে গিয়েছিল। খরচ দিয়েছিল পাকিস্তানি এজেন্টরা। সে পাকিস্তানেও গিয়েছিল কিনা, তা জানতে তার নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই চক্রটি পিংলায় সক্রিয় ছিল। ওই সময়ে প্রায় চারশোটি সিম অভিযুক্তেরা চালু করেছিল বলে অনুমান পুলিশের।
গৌতম ও মুরসালিন বেশ কয়েক বছর এলাকায় ঘুরে ঘুরে সিম কার্ড বিক্রি করেছিল বলে জানা গিয়েছে। মূলত সংখ্যালঘু এলাকাতেই সিম বিক্রি করা হত। গৌতমের পড়শি ভরত খাটুয়া বলেন, “দরিদ্র পরিবারের ছেলে গৌতম। স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছেন। বছর কয়েক আগে একটি টোটো কিনেছিল। তাতে করেই সিম বিক্রি করতে যেত। কোনও দোকান ছিল না। মূলত মুসলিম এলাকায় গিয়ে সিম বিক্রি করত। অনেকে যেমন নথি দিয়ে সিম কিনত, আবার নথি ছাড়াও সিম পাওয়া যেত।”
প্রসঙ্গত, সপ্তাহখানেক আগে বেনিয়াপুকুরের বাসিন্দা জাফর রিয়াজ নামে এক ব্যক্তিকে পাকিস্তানি চর সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। সে জুতোর ব্যবসার আড়ালে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তানে ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করার জন্য ওটিপি সরবরাহ করত বলে অভিযোগ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে