Horse Police

কর্তব্যের জোড়া চাপ, প্রতিযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা ঘোড়-পুলিশে

‘অল ইন্ডিয়া পুলিশ ইকোয়েসট্রিয়ান চ‌্যাম্পিয়নশিপ অ্যান্ড মাউন্টেড পুলিশ ডিউটি মিট’-এ ২০২৪ সালে সোনা জিতে ফিরেছিল কলকাতা পুলিশেরঘোড়সওয়ার বাহিনীর ঘোড়া। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালেও সেই জয়যাত্রা অব্যাহত ছিল।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৬
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পর পর দু’বছর সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা থেকে সোনা জয়। তবু এ বার সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে দোলাচলে কলকাতা পুলিশের অশ্বারোহীবাহিনী। এক দিকে কলকাতায় ক্রিকেট বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচ, অন্য দিকে ম্যাচের পর্ব শেষ হলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন— ‘কর্তব্যে’র জোড়া চাপে আদৌ এ বছর ওই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা যাবে কিনা, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা বাহিনীর অন্দরে। যদিওপ্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যেই নবান্নে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনিশ্চয়তার ‘কালো মেঘ’ সরিয়ে প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিও চলছে জোর কদমে।

‘অল ইন্ডিয়া পুলিশ ইকোয়েসট্রিয়ান চ‌্যাম্পিয়নশিপ অ্যান্ড মাউন্টেড পুলিশ ডিউটি মিট’-এ ২০২৪ সালে সোনা জিতে ফিরেছিল কলকাতা পুলিশেরঘোড়সওয়ার বাহিনীর ঘোড়া। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালেও সেই জয়যাত্রা অব্যাহত ছিল। সে বারও স্বর্ণপদক জিতেছিল কলকাতা ঘোড়সওয়ার বাহিনীর ঘোড়া। চলতি বছরে মধ্যপ্রদেশে এই সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। যদিও আদৌ এ বছর তাতে যোগ দেওয়া হবে কিনা, সেই অনিশ্চয়তা প্রতিযোগিতা শুরুর তিন সপ্তাহ আগেও।

জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ দিন ধরে এই সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা চলবে। কিন্তু চলতি বছরেরফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে টি-২০ বিশ্বকাপের আসর বসছে ভারতে। তার অংশ হিসাবে ইডেন গার্ডেন্সে আটটি ম্যাচ রয়েছে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি আরওজোরালো করতে হচ্ছে। ফলে ‘কর্তব্য’ নাকি ‘প্রতিযোগিতা’— এই দ্বন্দ্বে এখন জটিল পরিস্থিতি। বাহিনী সূত্রের খবর, প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে সে ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ দিন ভিন্‌ রাজ্যে থাকতে হতে পারে।প্রতিযোগিতার ১৪ দিন ছাড়াও ঘোড়া নিয়ে যাওয়া-আসা মিলিয়ে সময় লাগবে আরও এক সপ্তাহেরও বেশি। ফলে কলকাতায় খেলা চলাকালীন এত দিন ধরে ঘোড়সওয়ারবাহিনীর একটা বড় অংশ ভিন্‌ রাজ্যে প্রতিযোগিতায় চলে গেলে সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের ম্যাচের নিরাপত্তায় কী হবে, সেই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে বাহিনীর একাংশকে।

তবে সূত্রের খবর, শুধু একটি কারণ নয়। এ বার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়েছে আরও একাধিক কারণ। ইডেনেবিশ্বকাপের ম্যাচের সঙ্গে ইতিমধ্যে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দামামাও বেজে গিয়েছে। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্বাচন নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে মিটিং-মিছিলের চাপ বাড়বে শহরে। বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে নিছক প্রতিযোগিতার জন্য কর্মীদের আদৌ ছাড়া হবে কিনা, তা নিয়ে আশঙ্কা থাকছে। সেই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের খরচও রয়েছে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। প্রতিযোগী ঘোড়াগুলিকে ট্রেনে করে নিয়ে যাওয়া ও আনার জন্য বিশেষ কামরা ভাড়া করতে হয়। সে জন্য কয়েক লক্ষ টাকার প্রয়োজন। সব মিলিয়ে নবান্নের অনুমতির প্রয়োজন হয়।

তবে বাহিনীর তরফে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি চেয়ে চিঠি ইতিমধ্যেই নবান্নে পাঠানো হয়েছে। মাসখানেক আগে নবান্নে চিঠি পাঠানোর সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যদিওপ্রতিযোগিতা শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ আগে এখনও তার কোনও জবাব আসেনি বলে খবর। ফলে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এত ‘কিন্তু’র পরেও প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে অনুমতি মিললেকোন কোন ঘোড়াকে প্রতিযোগিতায় নিয়ে যাওয়া যেতে পারে, তা ইতিমধ্যেই ঠিক করে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে তার বিকল্পও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিয়মিত সকাল-বিকেল তাদের নিয়ে চলছে অনুশীলন। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘আমাদের তরফে যা যা করণীয়, সব করা হচ্ছে। অনুশীলনেও কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। বাকিটা সময় বলবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন