Water Logging Problems

বর্ষার মুখে নেতৃত্বহীন পুরবোর্ড, বাড়ছে জলযন্ত্রণার আশঙ্কা

কলকাতা পুরসভা থেকে মেয়র, মেয়র পারিষদ ছাড়াও একাধিক বরো চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৮টি তৃণমূল পরিচালিত।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৯:০১
Share:

কলকাতা পৌরসংস্থা। ফাইল চিত্র।

বর্ষা দরজায় কড়া নাড়ছে। এর মধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর আগেই পদত্যাগ করেছেন মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারক সিংহ। ফলে শহরবাসীর একাংশের প্রশ্ন, প্রতি বছর সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই যখন কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে, তখন বর্ষার মুখে পুর বোর্ড ও প্রশাসনের এই দ্বন্দ্ব কি জল জমার ভোগান্তি আরও বাড়াবে?

প্রতি বছর বর্ষা মোকাবিলায় কলকাতা পুরসভা, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করেন মেয়র। শহরের খাল ও নিকাশি ব্যবস্থাও সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ বছর সেই বৈঠক ও পরিদর্শন হয়নি। ৪ মে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে মেয়রের ঘরে ফাইল আদানপ্রদানও কার্যত বন্ধ ছিল বলে পুরসভা সূত্রের দাবি। একই পরিস্থিতি তৈরি হয় বিদায়ী মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারকের ক্ষেত্রেও। তিনি পদত্যাগের দিন দাবি করেন, আধিকারিকদের সঙ্গে বর্ষার বৈঠকের কথা বলেও পুর কমিশনারের সাড়া পাননি। সেই অসম্মানের জেরেই পদ ছাড়ছেন বলেও জানিয়েছিলেন তারক।

কলকাতা পুরসভা থেকে মেয়র, মেয়র পারিষদ ছাড়াও একাধিক বরো চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৮টি তৃণমূল পরিচালিত। এর মধ্যে কয়েক জন পুরপ্রতিনিধি দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন, কেউ আবার ফেরার। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বহু পুরপ্রতিনিধিকে এলাকায় সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। মেয়রের পদত্যাগ প্রসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শুক্রবার বলেন, ‘‘বর্ষা আসতে ১০ দিন বাকি। সেখানে ছেড়ে গেলেন ফিরহাদবাবু! তার জন্য আমাদের সমস্যা হবে না। আমাদের কর্মী, আধিকারিকেরা অনেক সচেতন।’’

মন্ত্রী এই দাবি করলেও প্রশ্ন উঠেছে, বর্ষা মোকাবিলায় পুরসভা কতটা প্রস্তুত? নিকাশি বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘জল সরানোর কাজ মূলত কর্মীরা করলেও মেয়র, মেয়র পারিষদ ও ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন এলাকার সমস্যা ও অভিযোগ তাঁদের মাধ্যমেই আমাদের কাছে পৌঁছয়। এ বার পুরো পরিস্থিতিই বদলে গিয়েছে।’’ তবে তাঁর আশ্বাস, প্রতিটি বরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিকাশি ও জঞ্জাল বিভাগের কর্মীদের বৃষ্টির সময়ে ম্যানহোল ও গালিপিট নিয়মিত পরীক্ষা করা, নিকাশি পথে বাধা দূর করা এবং সব পাম্পিং স্টেশন সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুরসভা সূত্রের খবর, পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। নবান্নেও মুখ্যমন্ত্রী পুর কর্তাদের সঙ্গে বর্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি ন’নম্বর বরো অফিসে নিকাশি বিভাগের আধিকারিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন তিনি।

তবে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না। শহরের জল নিষ্কাশন অনেকাংশে বিভিন্ন খালের উপরে নির্ভরশীল। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাব ও দখলদারির কারণে বহু খাল সরু হয়ে গিয়েছে। ফলে ভারী বৃষ্টিতে জল নামতে দেরি হয়। বেহালার মতো এলাকায় জল-যন্ত্রণার ছবি প্রায় প্রতি বর্ষাতেই দেখা যায়। সম্প্রতি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী চড়িয়াল খাল-সহ একাধিক নিকাশি পাম্পিং স্টেশন পরিদর্শন করে স্থানীয়দের অভিযোগ শোনেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বর্ষার মুখে এখন মেয়র ও মেয়র পারিষদ (নিকাশি)-শূন্য পুর বোর্ডের সামনে বড় পরীক্ষা একটাই— শহরবাসীকে জল জমার ভোগান্তি থেকে কতটা রেহাই দেওয়া যায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন