Anandapur Fire Incident

কোথায় প্রথমে আগুন লাগল, কোথা থেকে ছড়াল, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে কী কী জানা গেল

রবিবার রাত ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের জোড়া গুদামে আগুন লাগে। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে দেড় দিনের বেশি সময় ধরে ধিকিধিকি করে জ্বলতে থাকে গুদামগুলি। ৭২ ঘণ্টা পর জানা গেল, ওই আগুন প্রথম কোথায় লেগেছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৮
Share:

আনন্দপুরের ভস্মীভূত গুদামের দৃশ্য। —ফাইল চিত্র

আনন্দপুরের জোড়া গুদামে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কিছু প্রশ্ন প্রকাশ্যে এসেছে। সকলের মনে ঘুরছে, কী ভাবে আগুন লাগল? আগুনের উৎস সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর জানা গিয়েছে, প্রথম আগুন লাগে ডেকরেটার্সের গুদামে! তার পর সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের মোমো কারখানাতেও। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল, যা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশেও।

Advertisement

রবিবার রাত ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের জোড়া গুদামে আগুন লাগে। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে দেড় দিনের বেশি সময় ধরে ধিকিধিকি করে জ্বলতে থাকে গুদামগুলি। আগুনের গ্রাসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেই ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রাণের সন্ধান করে দমকল এবং পুলিশ। যত সময় গড়িয়েছে ওই ধ্বংসস্তূপ এবং ভস্মীভূত গুদামের মধ্যে থেকে দেহাংশ উদ্ধার হয়। তবে সেই দেহের টুকরোগুলি কাদের, তা শনাক্ত করার উপায় ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষা করে দেহাংশগুলি শনাক্ত করা হবে। একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর জানা গিয়েছে, আগুন প্রথমে লাগে ডেকরেটার্সের গুদামে। ওই গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। রবিবার রাতে তাঁর ওই গুদামে ছিলেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে কেউ ফুলের কাজ করেন, কেউ আবার সাজানোর কাজে যুক্ত। বিভিন্ন জেলা থেকে তাঁরা কাজে গিয়েছিলেন। কাজ সেরে তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘুমোচ্ছিলেন। কেউ কেউ আবার টুকিটাকি নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আগুন লাগার পর কয়েক জন বার হতে পারলেও অনেকেই আটকে পড়েন। অনুমান, আগুন লাগার পরে ওই গুদাম ধোঁয়ায় ভরে যায়। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। ঘুমের মধ্যে অনেক দমবন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাময়িক ভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন কেউ কেউ। ফলে বার হওয়ার অবকাশ পাননি। গুদামের যে সব জায়গায় দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে, তা পর্যালোচনা করে ঘটনার এক রূপরেখা তৈরি চেষ্টা চলছে।

Advertisement

আগুন লাগার পর পর কেউ কেউ গুদামের সামনের দিক দিয়ে বাইরে বার হওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার পিছন দিকে চলে যায়। গুদামের নানা জায়গায় দাহ্য পদার্থে পূর্ণ ছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ডেকরেটার্স এবং মোমোর গুদাম একে বারে লাগোয়া নয়। মাঝখানে কিছুটা জায়গা ছিল। তবে সেই জায়গাও ভর্তি ছিল নানা জিনিসে। তার মধ্যে বেশির ভাগই দাহ্য পদার্থ। ফলে আগুন ডেকরেটার্সের গুদাম থেকে ছড়িয়ে পৌঁছে যায় মোমোর গুদামে। সেই গুদামেও নানা জায়গায় দাহ্য পদার্থে ভরা ছিল। আগুন সেখানে লেলিহান শিখা ধারণ করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে গোটা গুদাম আগুনের গ্রাসে চলে যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই গুদামের মধ্যে একটা অংশে রান্নার জায়গা ছিল। তা ছাড়াও দু’টি ঘর ছিল ওই গুদামের ভিতরে। ডেকরেটার্সের কারখানায় যাঁরা কাজ করতেন, তাঁদের অনেকেই সেখানে থাকতেন। ওই সব শ্রমিকদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত ছিল গুদামে। থাকার জন্য প্লাইউড ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করেছিলেন শ্রমিকেরা। সব কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। তবে রান্না হচ্ছিল, তা থেকে আগুন লেগেছে বা ছড়িয়েছে, সেই সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ আপাতত ফরেনসিক দলের হাতে আসেনি।

অনেকের মতে, গুদামগুলি ‘জতুগৃহ’ হয়ে ছিল। সামান্য আগুনের ফুলকিও তাতে ভয়ঙ্কর চেহারা নিতে পারে। বাস্তবে হলও তাই। গুদামগুলিতে আদৌও কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না প্রশ্ন উঠছে। দমকল বিভাগের মতে, ওই গুদামে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। তারা অভিযোগ দায়ের করে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া চলছে। কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। তবে আরও কিছু নমুনা সংগ্রহ বাকি রয়েছে। সেই নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।

নাজিরাবাদের আগুন শুধু দুই গুদামের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তা ছ়ড়িয়ে পড়েছিল আশপাশের অনেকটা জায়গাতেও। গুদামের পাশে থাকা খাটালও বাদ পড়েনি আগুনের প্রকোপ থেকে। ওই খাটালের মালিক বীরেন্দ্রকুমার যাদব জানান, আগুন লেগেছে টের পেয়ে তিনি প্রথমে ১০১ নম্বরে ফোন করেন। ওটা দমকলের নম্বর। তবে ফোন চলে যায় দমকলের বজবজ অফিসে। সেখান থেকে বীরেন্দ্রকে বলা হয় কলকাতার অফিসে ফোন করতে। যদিও শেষপর্যন্ত সেই ফোন আর করা হয়নি বীরেন্দ্রের। তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েন খাটালে থাকা গরু-মোষ সরাতে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement