রাতের শহর

বাইকের দাদাগিরি চলছেই, ফের প্রশ্নে পুলিশের নজরদারি

ফের বেপরোয়া মোটরবাইক। এক রাতেই শহরের দুই প্রান্তে মৃত্যু দু’জনের। এবং ফের প্রশ্ন রাত-পথে পুলিশি নজরদারি নিয়ে। সোমবার রাতে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে হেস্টিংস এলাকায়। পুলিশ জানায়, দেড়টা নাগাদ বিদ্যাসাগর সেতুর এজেসি বসু রোডের দিকের ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরবাইক ডিভাইডারে ধাক্কা মারে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:২৭
Share:

ফের বেপরোয়া মোটরবাইক। এক রাতেই শহরের দুই প্রান্তে মৃত্যু দু’জনের। এবং ফের প্রশ্ন রাত-পথে পুলিশি নজরদারি নিয়ে।

Advertisement

সোমবার রাতে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে হেস্টিংস এলাকায়। পুলিশ জানায়, দেড়টা নাগাদ বিদ্যাসাগর সেতুর এজেসি বসু রোডের দিকের ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরবাইক ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। ছিটকে পড়েন দুই আরোহী। এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জাহিদ নাসিমকে (৩৫) মৃত বলে ঘোষণা করেন। নাসিম বাইকের পিছনে বসেছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক মহম্মদ আমির (২২) হাসপাতালে ভর্তি। এক ঘণ্টার ব্যবধানে রাত আড়াইটে নাগাদ দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে গড়িয়ার কামডহরি সেতুতে। পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় মোটরবাইক চালক রূপক সাহার (১৬) মৃত্যু হয়। পিছনের আসনে বসা সুমন চক্রবর্তী (১৪) এমআর বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ সূত্রে খবর, রূপক গড়িয়ার লক্ষ্মীনারায়ণ কলোনির বাসিন্দা, সুমনের বাড়ি বোড়াল এলাকায়।

কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে অগস্ট পর্যন্ত রাতের শহরে বেপরোয়া ভাবে বাইক চালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন আরোহী। সেই তালিকাতেই সেপ্টেম্বরে সংযোজন সোমবার রাতের এই দু’টি দুর্ঘটনা।

Advertisement

কিন্তু রাতের শহরে কী ভাবে অবাধে ঘুরছে বেপরোয়া বাইক? কী করে হেলমেটহীন অবস্থাতেও নজর এড়িয়ে চলে যাচ্ছেন আরোহীরা? পুলিশ তবে কী করে? লালবাজার সূত্রের খবর, রাতের কলকাতায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং নজরদারির অভাবের অভিযোগ তুলছেন পুলিশেরই একাংশ।

শহরের বাসিন্দারা অবশ্য জানাচ্ছেন, রাত ১০টার পরে ট্রাফিক পুলিশ রাস্তা থেকে সরে যেতেই বেপরোয়া বাইক-বাহিনীর দাপট শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই বাইকচালকদের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা অপ্রতুল। এমনকী রাতের শহরে রাজপথ ছাড়া অন্য কোনও জায়গাতেই বেপরোয়া বাইকের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। যার সুযোগ নেন সেগুলির চালকেরা। কখনও নিছক অ্যাডভেঞ্চারের শখে, কখনও বা গতির দৌড়ে একে অপরকে টেক্কা দিতে চলতে থাকে বাইক। তাঁদের আরও অভিযোগ, দুর্ঘটনা বা অপরাধের খবর পেলে তবেই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তার আগে কোনও পুলিশি নজরদারি থাকে না বলেই দাবি শহরবাসীর।

Advertisement

পুলিশের পাল্টা দাবি, রাতের দিকে শহরের বেপরোয়া মোটরবাইকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাস্তার মাঝখানে গার্ডরেল বসিয়ে গাড়ির গতিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে পুলিশেরই একটি অংশের দাবি, ঘটা করে রাতের শহরে ‘রোড পোলিসিং’ করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। অভিযোগ, পুলিশকর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে ওই তল্লাশি চালাচ্ছেন, তা আগে থেকেই জেনে যান এলাকার বেপরোয়া বাইক-বাজেরা। ফলে ওই এলাকা এড়িয়ে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে অন্য রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ান তাঁরা।

লালবাজারের বক্তব্য, রাত ১২টার পরে শহরের যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের হাতে থাকে না। ফলে বেপরোয়া বাইকচালকরা সেই সময় শহরের রাস্তায় বিধি না মানার সুযোগটা নেয়। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থাও নেওয়া হয় বলে জানান পুলিশকর্তারা। যুগ্ম কমিশনার সদর রাজীব মিশ্র বলেন, ‘‘বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। রাতে শহরের পথে পুলিশি নজরদারি প্রতি দিন থাকে। সেই নজরদারি আরও জোরদার করতে পরিকল্পনা চলছে।’’

তবে সচেতনতা না বাড়লে এই প্রবণতা যে রোখা কঠিন, তা মানছেন কলকাতা পুলিশের একাধিক কর্তাই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement