Manifesto of Left Front

বামফ্রন্টের ইস্তাহারে নেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো কোনও প্রকল্প! পরিবার পিছু স্থায়ী চাকরি, বেকার ভাতায় বাড়তি টাকার প্রতিশ্রুতি

গ্রাম এবং শহরে যথাক্রমে ২০০ এবং ১২০ দিনের কাজের ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের চালু করা ‘বেকার ভাতা’র নাম পরিবর্তন করে টাকা বৃদ্ধির কথা জানানো হয়েছে বামফ্রন্টের ইস্তাহারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩৬
Share:

বামফ্রন্টের ইস্তাহার প্রকাশ করলেন বিমান বসু। ছবি: পিটিআই।

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। সেই ইস্তাহারে নেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো কোনও প্রকল্প। তবে নারী নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়েছে বামফ্রন্টের ইস্তাহারে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, যদি তারা সরকারে আসে তা হলে প্রতিটি পরিবারের জন্য অন্তত একটি স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করবে। গ্রাম এবং শহরে যথাক্রমে ২০০ এবং ১২০ দিনের কাজের ব্যবস্থাও করা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে চালু করা ‘বেকার ভাতা’র নাম পরিবর্তন করে টাকা বৃদ্ধির কথা জানানো হয়েছে ইস্তাহারে।

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ নামে প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়। সরকার গড়ে সেই প্রকল্প চালু করেন তিনি। প্রথমে মমতার সরকার জানিয়েছিল, সাধারণ মহিলাদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং তপসিলি জাতি এবং জনজাতিদের জন্য মাসিক ৭০০ টাকা করে দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে বেড়েছে অর্থের পরিমাণ। এই বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য সরকার যে বাজেট পেশ করেছিল সেখানেও ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে’ টাকা বাড়ানোর কথা জানায় সরকার।

শুধু এ রাজ্যে নয়, দেশের বেশ কয়েকটি বিজেপিশাসিত রাজ্যেও ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারের’ ধাঁচে প্রকল্প রয়েছে। মহিলা ভোটব্যাঙ্ক টানতে অনেক রাজনৈতিক দলই ওই সব প্রকল্পে টাকা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু শনিবার পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য বামফ্রন্ট সরকার যে ইস্তাহার প্রকাশ করল তাতে তেমন কোনও প্রকল্পের কথা নেই। তবে বলা হয়েছে, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করা হবে। তমান্না হোক বা আরজি করের মৃত মহিলা চিকিৎসক— রাজ্যের সব নির্যাতিতার ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব কিন্তু স্বশাসিত বাহিনী তৈরি হবে।’

Advertisement

রাজ্যের শেষ বাজেটে মমতার সরকার জানিয়েছিল, মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ভাতা দেওয়া হবে। মাসিক দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু করেছে সরকার। বামফ্রন্টের ইস্তাহারে রয়েছে সেই ‘বেকার ভাতা’র কথাও। তবে তা অন্য ধাঁচে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বামফ্রন্ট। প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেতাজি সুভাষ যুবসেবক প্রকল্প’। ইস্তাহার অনুযায়ী, সমাজসেবা, উৎপাদনমুখী এবং উন্নয়নমূলক কাজে সমাজের যুব সম্প্রদায়কে নিয়োগ করা হবে। তাঁদের মাসিক ২০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। ‘কর্মভূমি পোর্টাল’-এর মাধ্যমে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে ইস্তাহারে।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নিয়োগে স্বচ্ছতা, সরকারি শূন্যপদ পূরণ, প্রত্যেক নিবন্ধিত বেকারকে কমপক্ষে দু’টি চাকরির সুযোগ তৈরি করার কথা জানানো হয়েছে বামফ্রন্টের ইস্তাহারে। রাজ্যের শিল্প, বিনিয়োগ, বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। বন্ধ কারখানা খোলা, চা-বাগান চালুর উদ্যোগের কথা রয়েছে ইস্তাহারে। একই সঙ্গে ভারী এবং মাঝারি শিল্প ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথাও বলেছে বামফ্রন্ট।

Advertisement

শিল্পের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা রয়েছে ইস্তাহারে। রয়েছে শ্রমিক অধিকার এবং সামাজিক সুরক্ষার কথাও। প্রবীণদের চিকিৎসার জন্য ‘স্বাস্থ্য সেবা’ প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, দরিদ্র প্রবীণ নাগরিকদের ৬০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতার কথা বলেছে বামফ্রন্ট। এ-ও বলা হয়েছে, রাজ্য বাজেটের ২০ শতাংশই ব্যয় করা হবে শিক্ষাখাতে। স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি মকুব, স্মার্ট ক্লাসরুম, বৃত্তিমূলক শিক্ষায় জোর, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে বামফ্রন্টের ইস্তাহারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement