স্বামী সমর্থ সিংহের সঙ্গে ত্বিশা। ছবি: সংগৃহীত।
ভোপালের ত্বিশা শর্মার মৃত্যুতে তাঁর স্বামীর একটি ভিডিয়োবার্তা ঘিরে রহস্য বাড়ছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে করা সেই ভিডিয়ো এখন তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায়। ওই ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমেই কি তাঁদের সম্পর্কের ছবিটা স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছিলেন ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিংহ? স্বল্প দৈর্ঘ্যের সেই ভিডিয়ো (যদিও সেটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। সেখানে সমর্থ বলছেন, ‘‘ভালবাসাকে তখনই উপভোগ করা যায় যখন পরস্পরের প্রতি ঘৃণার সঞ্চার হয়। আর এই দিক থেকে আমরা দু’জনেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শত্রু।’’
বিয়ের সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই ত্বিশার মৃত্যু ঘিরে নানা তত্ত্ব ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে। যদিও সেই কথার মধ্যে অন্তর্নিহিত কোনও অর্থ ছিল কি না, ত্বিশা-সমর্থের সম্পর্কের কোনও রহস্য লুকিয়ে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। তবে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবেরা অনেকেই ত্বিশার মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না। শ্বশুরবাড়ির তরফে দাবি করা হয়েছে, ত্বিশা আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু নয়ডার এই তরুণী যে আত্মহত্যা করতেই পারে না, তা জোর গলায় বলছেন পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠেরা।
ত্বিশার মৃত্যুর পর তাঁর শাশুড়ি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংহ কিন্তু পুত্রবধূর চরিত্র, তাঁর ব্যক্তিত্ব, আচরণ এবং বড় হওয়ার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুধু তা-ই নয়, গিরিবালার অভিযোগ, নিজের ইচ্ছামতো গর্ভপাত করিয়েছিলেন ত্বিশা। মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। চিকিৎসাও করাচ্ছিলেন। তবে শ্বশুরবাড়ির সব অভিযোগকে মিথ্যা বলে পাল্টা দাবি করেছে ত্বিশার পরিবার। তাদের অভিযোগ, পুলিশও ঠিক মতো তদন্ত করছে না। সমর্থের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্তকে প্রভাবিত করছে। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে ত্বিশার শাশুড়ির অন্তর্বর্তী জামিনকে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ত্বিশার পরিবার।
ত্বিশার দাদা মেজর হর্ষিত শর্মার অভিযোগ, একটি বা দু’টি ঘটনা কাকতালীয় হতে পারে। কিন্তু পর পর বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটতে শুরু করে, তখন সেটাকে কী ভাবে কাকতালীয় বলে মেনে নেওয়া যায়? ত্বিশার মৃত্যু যে কোনও কাকতালীয় ঘটনার ফল নয়, সেই দাবি করেছেন হর্ষিত। তাঁর বোনের মৃত্যুর নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এবং এটি আত্মহত্যা হয়। সুপরিকল্পিত ভাবেই ত্বিশাকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি মেজর হর্ষিতের। তবে এর শেষ দেখে ছাড়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
নয়ডার বাসিন্দা ত্বিশা। তবে বিবাহসূত্রে থাকতেন ভোপালে। গত ১২ মে ভোপালের কাটরা হিল্স এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ। ত্বিশার বাপের বাড়ির পরিবারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী সমর্থ সিংহ এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ খুন করেছেন ত্বিশাকে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গিরিবালা। তিনি পাল্টা দাবি করেন, তাঁর পুত্রবধূ মাদকাসক্ত ছিলেন। দিন কয়েক আগেই ত্বিশা জানতে পেরেছিলেন তিনি সন্তানসম্ভাবা। আর তাতে মানসিক ভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তাঁর পুত্রবধূ, এমনই দাবি গিরিবালার। তিনি দাবি করেন, ত্বিশা মা হতে রাজি ছিলেন না। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও মাদক সেবন করেছেন। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। ভোপালের পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘‘ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মাদকের কোনও উল্লেখ নেই। আমরা তদন্তেও তেমন কিছু পাইনি।’’