গাছ থাকায় তৈরি হয়েছে সমস্যা। ছবি: শৌভিক দে।
পার্কের গাছ কাটা নিয়ে সমস্যা। ফলে কাজ শুরু হলেও কলকাতা পুরসভার ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের কনভেন্ট রোডে বুস্টার পাম্পিং স্টেশন ও জলাধার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সমস্যা না মিটলে জলাধারের আয়তন ছোট করতে হতে পারে বলে পুর-কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
কলকাতা পুরসভার জল সরবরাহ দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল বিভাস মাইতি বলেন, “এলাকায় কোনও বিকল্প জায়গা না থাকায় পুরসভার পার্কের মধ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এই পার্কের গাছ কাটা নিয়ে সম্প্রতি সমস্যা তৈরি হয়েছে।” বিভাসবাবু জানান, গাছ না কাটলে জলাধারের আয়তন ছোট করতে হবে। সে ক্ষেত্রে, জলাধারের জলধারণ ক্ষমতা কমে যাবে।
কলকাতা পুরসভার মধ্য এবং দক্ষিণ অঞ্চলে জল সরবরাহের জন্য পুরসভা কনভেন্ট রোডে বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ঠিক হয়েছিল টালা থেকে এই বুস্টার পাম্পিং স্টেশনে প্রতি দিন ৩০ লক্ষ গ্যালন পানীয় জল আসবে। এখান থেকেই মৌলালি, আনন্দ পালিত রোড, সিআইটি রোড, পার্ক সার্কাস, তপসিয়া-সহ আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের দু’পাশে অধিকাংশ এলাকায় জল সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল। পুরকর্তৃপক্ষের আশা ছিল দেড় বছরের মধ্যেই এই কাজ শেষ হবে।
সমস্যা কোথায় হল?
কনভেন্ট রোডের পুরসভার এই পার্ক লাগোয়া একটি নার্সারি আছে। পুরসভা প্রথমে এই নার্সারিটি স্থানান্তরিত করে সেখানে পাম্পিং স্টেশন তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সমীক্ষায় দেখা যায়, ওই জমিটি পাম্পিং স্টেশন তৈরির পক্ষে ছোট। পাম্পিং স্টেশন তৈরি করতে গেলে নার্সারি লাগোয়া মাঠটিও দরকার। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা এই মাঠটি প্রকল্পের কাজে লাগানোর বিরোধীতা করেন।
বাসিন্দাদের একাংশ এই মাঠে নিয়মিত খেলা হয় বলে পাম্পিং স্টেশন তৈরিতে আপত্তি করেন। এর পরে পুরসভার সঙ্গে আলোচনা হয়। পুর-কর্তৃপক্ষের দাবি, আলোচনায় ঠিক হয় মাঠের কিছু অংশ ছেড়ে দিয়ে পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ হবে। কিন্তু মাঠের কিছু অংশ ছাড়লেও এই প্রকল্পের জন্য বেশ কিছু গাছ কাটা যাবে। বাসিন্দাদের একাংশ ফের আপত্তি জানান। গাছগুলি কাটলে এলাকায় কার্যত সুবজের অস্তিত্ব থাকবে না বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁরা বিকল্প ব্যবস্থার দাবি করেন। পুরসভা সূত্রে খবর, এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। স্থানীয় কাউন্সিলর কংগ্রেসের অরুণকুমার দাস বলেন, “বাসিন্দাদের একাংশের দাবি নিয়েই পুরসভার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। পুরসভা প্রকল্পের কিছুটা অংশ সরানোর সিদ্ধান্তও নেয়। গাছ কাটা নিয়ে সমস্যার বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।”