বজবজ

প্রকল্পের কাজ শেষ, তৃষ্ণা মিটবে পুরবাসীর

আক্ষরিক অর্থে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। বজবজে জেএনএনইউআরএম-এর অন্তর্গত জলপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১১-এ। শেষ হল ১৬-এ। নতুন পাইপলাইনের মাধ্যমে গার্ডেনরিচ জলপ্রকল্প থেকে এ বার সরাসরি পানীয় জল পাবেন বজবজ পুর-এলাকার বাসিন্দারা। বজবজ পুর-কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। এর ফলে বাসিন্দাদের পানীয় জলের সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে বলে জানাচ্ছেন পুর-কর্তৃপক্ষ এবং কেএমডব্লিউএসএ কর্তৃপক্ষ। উপকৃত হবেন মহেশতলা এবং পুজালি পুর এলাকার বাসিন্দারাও।

Advertisement
শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:১৫
Share:

পুরসভার পিছনে নবনির্মিত জলাধার।— নিজস্ব চিত্র

আক্ষরিক অর্থে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। বজবজে জেএনএনইউআরএম-এর অন্তর্গত জলপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১১-এ। শেষ হল ১৬-এ। নতুন পাইপলাইনের মাধ্যমে গার্ডেনরিচ জলপ্রকল্প থেকে এ বার সরাসরি পানীয় জল পাবেন বজবজ পুর-এলাকার বাসিন্দারা। বজবজ পুর-কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। এর ফলে বাসিন্দাদের পানীয় জলের সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে বলে জানাচ্ছেন পুর-কর্তৃপক্ষ এবং কেএমডব্লিউএসএ কর্তৃপক্ষ। উপকৃত হবেন মহেশতলা এবং পুজালি পুর এলাকার বাসিন্দারাও।

Advertisement

বজবজ, মহেশতলা ও পুজালি পুরসভা এত দিন গার্ডেনরিচ ওয়াটার ওয়ার্কসের থেকে জল পেলেও তা আসত একটি লাইনের মাধ্যমে। বজবজ পুর এলাকায় থাকত দু’টি ভাল্ভ। একটি মহেশতলার সীমানায়। অন্যটি, পুজালির সীমানায়। এক পুরসভা ভাল্ভ বন্ধ না করলে অন্য পুরসভা জল পেত না। ফলে চাহিদা মতো জল মিলত না বলে অভিযোগ। এই প্রকল্পে বজবজের নতুন লাইন চালু হলেই কেএমডব্লিউএসএ ওই দু’টি ভাল্ভ পুরোপুরি সিল করে দেবে। সে ক্ষেত্রে পুরনো লাইন থেকে জল পাবে শুধুমাত্র মহেশতলা এবং পুজালি। এতে এই দুই পুরসভা আগের তুলনায় পানীয় জল বেশি পাবে। এমনটাই জানাচ্ছেন মহেশতলা এবং পুজালির পুরপ্রধান যথাক্রমে দুলাল দাস ও ফজলুল হক।

কেএমডব্লিউএসএ সূত্রে খবর, বজবজের এই প্রকল্পের জন্য গার্ডেনরিচ ওয়াটার ওয়ার্কসে পাম্পিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। গার্ডেনরিচ ওয়াটার ওয়ার্কস থেকে বজবজ পুর এলাকা পর্যন্ত আলাদা করে প্রায় ১৪ কিলোমিটার লাইন পাতা হয়েছে। তৈরি হয়েছে ২.৫ লক্ষ গ্যালন ক্ষমতার জলাধার ও ১০৮০ ঘন মিলিমিটার ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্পহাউজ। বজবজ পুর হাসপাতালের পিছনে মাটির নীচের জলাধারটি তৈরি হয়েছে। গার্ডেনরিচ থেকে আসা জল এখানেই জমা হবে।

Advertisement

বজবজ পুর এলাকার নিউ সেন্ট্রাল মিল, অভিরামপুর, বজবজ থানার পাশে, ছ’ নম্বর গেটের কাছে, পুরসভার অফিসের পিছনে এবং বাদেকালী নগরে মোট ছ’টি ওভারহেড জলাধার হয়ে গিয়েছে। গড়ে ১২.৭ লক্ষ গ্যালন জল ধরতে পারবে জলাধারগুলি। এগুলিতে জল ওঠানোর জন্য ৬.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন হয়েছে। বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দিতে বজবজ পুর এলাকা জুড়ে ৯৪.৩ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন পাতার কাজও শেষ বলে জানাচ্ছেন পুর কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্পের মোট খরচ হয়েছে ৯৮ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা।

কাজ শেষ হতে এত দেরি কেন? বজবজ পুরসভার উপপ্রধান গৌতম দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন, মহেশতলা ডাকঘর মোড়ে পাইপলাইন বসানোর সময় সমস্যা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মামলা করেছিলেন। এর জন্য প্রায় আড়াই বছর কাজ আটকে ছিল। তাই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে এত দেরি হল। গৌতমবাবুর দাবি, এই প্রকল্পের ফলে বজবজ এলাকাবাসী চাহিদা মতো দিনে দু’বার করে জল পাবেন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement