চিটফান্ড কেলেঙ্কারি

জেরা হোক মুখ্যমন্ত্রীর, সারদায় সুর চড়াল বাম

আগে ছিল প্রতারিত আমানতকারী এবং এজেন্টদের নানা মঞ্চ থেকে প্রতিবাদ। বিধানসভা ভোটের আগে এ বার সরাসরি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকেই সারদা-সহ নানা বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার কেলেঙ্কারির ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি-র উপরে চাপ বাড়াতে চাইল বামফ্রন্ট।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:৫১
Share:

আগে ছিল প্রতারিত আমানতকারী এবং এজেন্টদের নানা মঞ্চ থেকে প্রতিবাদ। বিধানসভা ভোটের আগে এ বার সরাসরি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকেই সারদা-সহ নানা বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার কেলেঙ্কারির ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি-র উপরে চাপ বাড়াতে চাইল বামফ্রন্ট।

Advertisement

সারদা, রোজভ্যালি-সহ বিভিন্ন অর্থলগ্নি সংস্থার হাতে প্রতারিতদের জন্য টাকা ফেরত এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারির দাবিতে মঙ্গলবার বিধাননগরের সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআইয়ের আঞ্চলিক দফতরের অদূরে দিনভর ধর্না-অবস্থান চালিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই শাসক দলকে চাপে ফেলার চেষ্টার পাশাপাশিই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনও সেরে নিল বামফ্রন্ট। জমায়েতে এ দিন ভিড় হয়েছিল বিপুল। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে বড় সংখ্যায় এবং কলকাতা থেকেও কিছু মানুষ বাসে-গাড়িতে-ট্রেনে, মিছিল করে হাজির হয়েছিলেন বিধাননগরে। সমাবেশের মঞ্চ অবশ্য করা হয়েছিল সিজিও কমপ্লেক্স থেকে কিছুটা দূরে। বিশাল সংখ্যায় পুলিশ বাহিনীও ছিল তটস্থ! কিন্তু বিপুল জমায়েত সিবিআই দফতরের দিকে এগোনোর চেষ্টাই করেনি। তাঁরা যে তেমন কিছু পরিকল্পনা নিয়ে আসেননি, তা পরিষ্কার করে দিয়েই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, ‘‘যাঁরা নোটিস পেয়েছেন, তাঁরা সিবিআই দফতরে গিয়েছেন। আমরা নোটিস পাইনি। বরং, নোটিস দিতে এসেছি! কান ধরে অনেক টানাটানি হয়েছে। এ বার ডালপালার আড়াল থেকে মাথাটা টানুন!’’

বস্তুত, প্রায় তিন বছর ধরেই সারদা-কাণ্ড নিয়ে হইচই করছে বিরোধী বামেরা। কিন্তু তার মধ্যে পঞ্চায়েত, লোকসভা বা পুরসভার ভোটে ওই কেলেঙ্কারির বিশেষ প্রভাব পড়েনি। বিধানসভা ভোটের আগে এখন ‘অরাজনৈতিক মঞ্চে’র খোলস ছেড়ে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচির জায়গায় বিষয়টিকে নিয়ে যেতে চাইছে বামেরা। আর তা করতে গিয়েই বাম নেতৃত্ব এ দিন যেমন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নিশানায় রেখেছেন, তেমনই বিজেপি-তৃণমূলের ‘সখ্য’ নিয়েও সরব হয়েছেন। সূর্যবাবু বলেছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীকে আবার চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি সৎসাহস থাকলে বলুন ডেলোর বৈঠকে ছিলেন কি না? উনি আজ পর্যন্ত সৎসাহস দেখাননি। তাই নোটিস দিয়ে তাঁকে ডাকতে হবে!’’ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘পরের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ক্লিন চিট দিচ্ছেন তৃণমূলকে! দোষীদের ধরার কথা বলছেন না কেন? মুখ্যমন্ত্রীকে এখনই নোটিস দিয়ে জেরা করা হোক!’’ বিরোধী দলনেতার আরও কটাক্ষ, ‘‘তদন্তের নামে টিভি সিরিয়াল দেখতে চায় না লোকে!’’

Advertisement

বামেদের পাল্টা কটাক্ষ অবশ্য ফিরিয়ে দিয়েছে শাসক দলও। রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য, ‘‘পায়ের তলায় মাটি নেই! তাই ভোটের আগে নাটক করছেন! তদন্তটা আদালতের ব্যাপার। আর টাকা ফেরতেও সিবিআইয়ের কোনও ভূমিকা নেই। তা হলে সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থান কেন?’’ বিজেপি বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্যেরও বক্তব্য, ‘‘সারদা-কাণ্ডের সিবিআই তদন্ত হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। বামেদের কোনও অভিযোগ থাকলে তাঁদের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াই শ্রেয়। তবে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার পিতা সিপিএম, মাতা তৃণমূল! তাই সিপিএম কত দিন এই আন্দোলন চালাতে পারবে, জানি না!’’

বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু যদিও তার আগেই এ দিনের অবস্থান-মঞ্চেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘‘সিবিআইয়ের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তের দু’বছর হবে আগামী মে মাসে। আমরা সিবিআইকে বোঝাতে এসেছি, যে ভাবে তদন্ত চলা উচিত, সে ভাবে চলছে না। সারদায় সুবিধাভোগীদের সকলকে এখনও খুঁজে পাওয়া গেল না!’’ গৌতম দেব, মনোজ ভট্টাচার্য, হাফিজ আলম সৈরানি, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, মিহির বাইনের মতো বাম নেতাদের পাশাপাশি অবস্থানে হাজির ছিলেন ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন সংগঠনের তরফে অসীম চট্টোপাধ্যায়, সুবীর দে, আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তীরাও।

Advertisement

শুধু রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েই অবশ্য থামেননি বাম নেতারা। বিমানবাবু যেমন বলেছেন, টাকা ফেরত পেতে গেলে তৃণমূলের সরকারকে বদলে দিতে হবে। সে ভাবেই সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম চাঁছাছোলা ভাষায় বলেছেন, ‘‘কসম খেয়ে বলছি, বামফ্রন্ট সরকারে এলে সুবিধাভোগীদের সম্পত্তির প্রতিটা ইট বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তুলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে! মোদীভাই-দিদিভাইয়ের যা-ই সেটিং হয়ে থাকুক, আমরা আপসেট করে দেব!’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement