তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরের মঞ্চে। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন অভিষেক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদের কথা আগেই জানা গিয়েছিল। বারুইপুরের মঞ্চ থেকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে আঙুল তুলে কথা বলছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। আমি বলেছি, আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত। বাঙালি কী, দিল্লিতে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন।’’
বারুইপুরে অভিষেকের সভায় জনসমাগম। ছবি: তৃণমূল সূত্রে প্রাপ্ত।
গত সাত বছরে বাংলা থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা বিজেপি তুলে নিয়ে গিয়েছে। দাবি অভিষেকের। মঞ্চে সেই পরিসংখ্যান দেন তিনি। অভিযোগ, হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও ১০০ দিনের প্রকল্প চালু করেনি বিজেপির সরকার। গরিবের আবাসের টাকাও দেয়নি।
মহারাষ্ট্রে গিয়ে বাংলায় কথা বলার অপরাধে গ্রেফতারির অভিযোগ। হেনস্থার শিকার বালুরঘাটের বাসিন্দা বিজেপির বুথ সভাপতি। তা সত্ত্বেও সুকান্ত মজুমদার একটা ফোন করে সাহায্য করেননি, অভিযোগ অভিষেকের। তৃণমূল লড়াই করে বিজেপির সেই বুথ সভাপতিকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নিজেদের বুথ সভাপতিকে যে বিজেপি রক্ষা করতে পারে না, তারা বাংলার মানুষকে কী ভাবে রক্ষা করবে? এরা শুধু কাড়তে জানে, দিতে জানে না।’’
শুভেন্দুর বক্তব্যের অডিয়ো মঞ্চে শোনাচ্ছেন অভিষেক। সেখানে শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘এর চেয়ে তো ইউনূসের সরকার ভাল চলছে।’’ অভিষেকের তোপ, ‘‘বাংলাদেশে নৃশংস ভাবে দীপু দাসকে মারা হয়েছে। বিজেপির নেতা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে সেখানে ভাল ভাবে সরকার চলছে। এরা নিজেদের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলে।’’
এসআইআরের আতঙ্কে গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে যে সমস্ত ভোটার এবং বিএলও-র মৃত্যুর খবর এসেছে, তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন অভিষেক। তোপ দেগেছেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।
‘এসআইআরে মৃত’দের বারুইপুরের মঞ্চে তুললেন অভিষেক। র্যাম্পে তাঁদের হাঁটানো হচ্ছে। দু’জন ব্যক্তি এবং এক জন মহিলাকে র্যাম্পে তোলা হয়েছে। দু’জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ এবং এক জনের বাড়ি কাকদ্বীপে। অভিযোগ, তাঁদের মৃত বলে দেখানো হয়েছে এসআইআর-এর তালিকায়।
মঞ্চে উঠেছিলেন মনিরুল মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি এবং মায়া দাস।
ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস বিতর্ক নিয়েও বারুইপুরে সরব অভিষেক। বলেন, ‘‘গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রির জন্য হামলা চালিয়েছে, তা হলে কিছু বলার নেই। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন, কুকুর-মানুষ সকলের মধ্যে আমি বিরাজমান। এর জবাব বাংলা দেবে। কে কী খাবে, কী বিক্রি করবে, কী পরবে, সেটা কি বিজেপির দালালেরা ঠিক করবে? আমাদের সংস্কৃতিকে ওরা বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেয়। যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, বাংলার মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকালে জবাব পাবে। ২০২৬-এও ব্যতিক্রম হবে না।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘একটা বিধানসভায় পাঁচ হাজার চাকরিও বিজেপির সরকার দিয়েছে? দেখাতে পারবে? প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’’
বারুইপুর থেকে অভিষেক বলেন, ‘‘আমি কথা দিয়েছি, ২০২১-এর চেয়ে তৃণমূলের ভোট ২০২৬-এ বাড়বে। একটা হলেও আসন বাড়বে। আপনারা কথা দিন, সেই একটা আসন যেন এই জেলা থেকে হয়। ভাঙড়ও এ বার আমাদের জিততে হবে। যত পরিশ্রম দরকার, করতে হবে। সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে লড়তে হবে। আপনারা যেখানে বলবেন, আমি যাব।’’
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরুর জন্য কেন দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে বেছে নিলেন? অভিষেক বলেন, ‘‘আমরা কোনও শুভ কাজে গেলে, বড় কাজে গেলে মা-বাবার আশীর্বাদ নিতে হয়। কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা আমার কর্মভূমি। এই মাটিতে যেন আমার মৃত্যু হয়। আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে তাই আমি লড়াই শুরু করলাম।’’
সায়নী ঘোষের পরেই বারুইপুরের মঞ্চে বলতে উঠলেন অভিষেক। মাইক হাতে র্য়াম্প-ধাঁচের মঞ্চে হাঁটতে হাঁটতে বক্তৃতা করছেন তিনি।
অভিষেক পৌঁছোনোর পর যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ মঞ্চে বলতে উঠেছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তিনি। মঞ্চে রয়েছেন বিমান বন্দ্য়োপাধ্যায়, লাভলি মৈত্ররা।
র্যাম্পের ধাঁচে সভামঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল বারুইপুরে। অভিষেক পৌঁছে সেখানেই হাঁটেন। দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে হাঁটতে হাঁটতে হাত নাড়েন। এই সময়ে মঞ্চ থেকেই তাঁর নামে স্লোগান দেওয়া হতে থাকে।
‘এসআইআর-এর কারণে’ মৃত তিন জনের পরিবারকে শুক্রবার অভিষেকের সভায় ডাকা হয়েছে। এসেছেন শফিকুল গাজ়ি, হাফেজ় শাহবুদ্দিন এবং আবু তালেব সর্দারের পরিবারের সদস্যেরা। এই তিন জনের মৃত্যুর জন্যই এসআইআর-কে দায়ী করেছে পরিবার।
বারুইপুরের মাঠে তৃণমূলের সভা শুরু হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব আপাতত বক্তৃতা করছেন। এখনও অভিষেক সভাস্থলে পৌঁছোননি।
বারুইপুরে অভিষেকের সভার জন্য যে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে, তা বড়সড় কনসার্টকেও হার মানায়। মূল মঞ্চের প্রেক্ষাপটে রয়েছে প্রকাণ্ড এলইডি স্ক্রিন। মঞ্চের সামনেই ‘প্লাস’ চিহ্নের আকারে তৈরি রয়েছে র্যাম্প। সেখানে হেঁটেই সভায় আসা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে জনসংযোগ সারবেন অভিষেক। লোকসভা ভোটের আগে ব্রিগেড সমাবেশে র্যাম্প সংস্কৃতির সূচনা করেছিলেন অভিষেকই। সেই র্যাম্পে হাঁটু মুড়ে বসে মাথা নিচু করে প্রণাম করে শুরু করেছিলেন সভা। একই দিনে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের র্যাম্পে হাঁটিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন দলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরে যদিও প্রার্থী পরিচিতির বিষয় নেই। তবে ভোটের প্রচারের নতুন আঙ্গিককে এ বার সারা রাজ্যে সার্বিক রূপ দিতে চলেছে তৃণমূল।