ফাইল ছবি।
রাজ্যের কংগ্রেস তৃণমূলের বিরোধিতা করলে জাতীয়স্তরে তাঁরাও পাল্টা বিরোধিতা করবেন বলে সরাসরি হুমকি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশে বিজেপি-বিরোধী জোট গঠনের উদ্যোগের সময় তাঁর এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় লোকায়ুক্ত বিল নিয়ে আলোচনায় বিলের আওতা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ রাখার অভিযোগে বামেদের সঙ্গে গলা মেলায় কংগ্রেস। তার পরে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘আপনারা আমার বিরুদ্ধে ভোট দিলে আমিও কিন্তু আগামী দিনে আপনাদের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারি। ভুলে যাবেন না। এটা মনে রাখবেন।’’ তারপরই নিজের মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘‘যেমন দেখাবেন তেমন দেখবেন।’’
আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইতিমধ্যেই একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেছেন তৃণমূলনেত্রী। সেই লক্ষ্যে ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডে কংগ্রেস সহ সব বিরোধী নেতাদের এনে সমাবেশের কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলি যাতে বেশি সংখ্যক আসন পায় সেদিকেও নজর আছে মমতার। তাই এই রাজ্যে তিনি একা ৪২ টি আসনেই লড়তে চান। যার অর্থ এখানে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও নির্বাচনী বোঝাপড়া তিনি করবেন না। প্রদেশ কংগ্রেসও অবশ্য তৃণমূলের বিরোধিতা করবে বলেই জানিয়েছে। এদিন লোকায়ুক্ত বিলে সরকারের বিরুদ্ধে তারা ভোট দেয়।
তবে জাতীয় রাজনীতির পরিস্থিতি বিচার করে কংগ্রেস হাইকমান্ড এখন মমতার বিরুদ্ধে কোনও কড়া কথা বলেননি। বরং তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও কংগ্রেসের আপত্তি এমনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থায় তৃণমূলনেত্রীর এদিনের কড়া হুমকি কার্যত কংগ্রেস হাইকমান্ডকে চ্যালেঞ্জ জানানো বলেই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
আজ শুক্রবার শহরে আসছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার কথা রয়েছে।