Voter List

বিবেচনাধীন: শেষ হল নিষ্পত্তির কাজ! সুপ্রিম কোর্ট নতুন নির্দেশ না-দিলে চূড়ান্তই হয়ে গেল এই ভোটের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা

নিয়ম মেনেই সোমবার রাত ১২টার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ হয়ে গেল। এই পর্যন্ত তালিকায় থাকা ভোটারেরাই ভোট দিতে পারবেন। তবে নতুন করে কোনও ভোটারের আর তালিকায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে কি না, তা নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের উপর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তির কাজ শেষ। সোমবার রাতে ১২তম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। সূত্রের খবর, এটাই প্রকাশিত হওয়া শেষ তালিকা। নিয়ম মেনেই সোমবার রাত ১২টার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ হয়ে গেল। এই পর্যন্ত তালিকায় থাকা ভোটারেরাই ভোট দিতে পারবেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট যদি নতুন কোনও নির্দেশ দেয়, তবে আবার ভোটার তালিকায় কিছু সংযোজন হতে পারে।

Advertisement

গত ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তবে সেই তালিকায় ৬০ লক্ষের কিছু বেশি নাম বিবেচনাধীন ছিল। তাঁরা এ বারে ভোট দিতে পারবেন, না কি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে নাম— তা নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছিল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ‘চূড়ান্ত’ করে দেওয়া বিচারকেরাই বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করেছেন। তথ্য যাচাই করে ঠিক করেছেন ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’ ভোটার। ‘যোগ্য’ ভোটারেরা স্থান পেয়েছেন ভোটার তালিকায়। আর ‘অযোগ্য’দের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে।

প্রশ্ন ওঠে, বিচারকদের বাদ দেওয়া ভোটারেরা কি ভোট দিতে পারবেন না? এই নিয়ে সরব হয় পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। এসআইআর মামলায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে নিজের মতামত রাখেন। গত কয়েক দিনে এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বেশ কয়েকটি শুনানিও হয়ে গিয়েছে। প্রায় প্রতি শুনানিতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ কোনও না কোনও নির্দেশ দিয়েছে। তারাই ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। বলেছিল, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য যাচাই করে বিচারকেরা যাঁদের নাম বাদ দিচ্ছেন, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন।

Advertisement

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। সোমবার ১২তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হয়ে গেল। এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা কত জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইন— দু’ভাবে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন বাদ পড়া ভোটারেরা। তবে এখনও পর্যন্ত কত জন ভোটার ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পেরেছেন, সেটাও স্পষ্ট নয়। যদিও কেউ কেউ ইতিমধ্যেই আবেদন করতে শুরু করেছেন।

ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের তথ্য নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব প্রাক্তন বিচারপতিদের। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ঠিক করে দিয়েছেন কারা ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকবেন। ট্রাইবুনালের নির্দেশে কয়েক জনের নাম, বিশেষত প্রার্থীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সূত্রের খবর, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা বেশ কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের মধ্যে কত জন ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন বা কত জনের নিষ্পত্তি হয়েছে, তা জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত।

Advertisement

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই আপাতত এ বারের ভোটের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কারা আছেন এই ভোটার তালিকায়? কমিশন সূত্রে খবর, ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা তো রয়েছেনই। এ ছাড়াও, কয়েক দিন যাবৎ অনেকে ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন। তথ্য যাচাই করে তাঁদের মধ্যে যাঁরা ‘যোগ্য’ তাঁরাও স্থান পেয়েছেন চূড়ান্ত তালিকায়। এ ছাড়াও, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা যে সব ভোটারকে বিচারকেরা ‘যোগ্য’ হিসাবে গণ্য করেছেন, তাঁরাও থাকছেন।

গত ৩০ মার্চের পর কেউ যদি ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করেন, তবে তা এ বারের ভোটের জন্য গ্রাহ্য নয়, আগেই জানিয়েছিল কমিশন। তবে সুযোগ ছিল বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের। ট্রাইবুনাল যদি কোনও ভোটারকে যোগ্য মনে করে, তবে তাঁদের নাম সোমবার পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল। যদিও সোমবার ১২টার পর থেকে আপাতত সেই সুযোগও আর থাকছে না।

২ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ট্রাইবুনাল চালু হওয়ার কথা ছিল। ১৯ জন বিচারপতি ভোটারদের আপিল নিষ্পত্তি করছেন। কিন্তু নির্ধারিত দিন থেকে তা চালু হয়নি। পরে তা চালু হলেও এখনও পর্যন্ত কত জন আবেদন করতে পেরেছেন বা কত জনে নিষ্পত্তি হয়েছে, তা জানা যায়নি। সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল রাজ্যের তরফে। আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করে জানান, যে সব ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে ভুল করে ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে মনে হচ্ছে, সেখানে কি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কোনও ব্যবস্থা করা যেতে পারে? সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সেই সিদ্ধান্ত তারা ট্রাইবুনালের উপরে ছেড়ে দিচ্ছে। ট্রাইবুনাল নতুন নথি দেখতে পারে। বিবেচনাধীন কোনও ভোটার যদি মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জমা দেন এবং তা দেখা না হয়, তা হলে আপিল ট্রাইবুনাল সেটি যাচাই করে দেখতে পারে। কিন্তু ট্রাইবুনালে থাকা ১৯ জন বিচারপতি কী নিয়ম মেনে নিষ্পত্তি করবেন, তা নিয়ে সংশয় ছিল অনেকের মনেই। তার সুরাহা করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একটি কমিটি গঠন করে প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশ্ন উঠছে, মঙ্গলবার থেকে যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করবেন বা যাঁদের নিষ্পত্তি হবে, তাঁরা কি এ বারের ভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন? নিয়ম অনুযায়ী, সেই সুযোগ নেই। তবে পরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট যদি এ সংক্রান্ত নতুন কোনও নির্দেশ দেয়, তা হলে পরিস্থিতি অন্য হতে পারে। নাম জুড়তে পারে আরও কয়েক জনের। যদিও সবটাই নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের উপরেই। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার আগের শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেছিলেন, ‘‘মনে রাখতে হবে—কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে।’’ তবে বাদ যাওয়া ভোটারদের নতুন করে আর ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই নিয়ম নতুন নয়। প্রতি ভোটেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের পরই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ হয়ে যায়। সোমবারই ছিল প্রথম দফার নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement