Cow Market

সরকারি নির্দেশিকার পরে রাজ্যের বহু পশু-হাট বন্ধ

প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার দিনভর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার গরুর হাটে হাজার খানেক গরু কেনা-বেচা হত। এ দিন গোটা কুড়ি গরু এনেছিলেন কয়েক জন বিক্রেতা। কিন্তু ক্রেতার অভাবে সে গরু বিক্রি হয়নি। সোমবার ঝাড়গ্রামের বিনপুরে ও মঙ্গলবার ফেকো হাটে গরু কেনা-বেচা হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৭:৫৯
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

এক সপ্তাহ আগেও যে পশু-হাটে ভিড়ের চোটে পা ফেলার জায়গা মিলত না, তা মঙ্গলবার হয় বিলকুল ফাঁকা, না হলে বন্ধ। পশু বলি নিয়ে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার প্রভাব পড়েছে রাজ্য জুড়ে। গরু কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িতদের মুখে ব্যবসার ক্ষতির কথা। শুরু হয়েছেরাজনৈতিক তরজা।

প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার দিনভর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার গরুর হাটে হাজার খানেক গরু কেনা-বেচা হত। এ দিন গোটা কুড়ি গরু এনেছিলেন কয়েক জন বিক্রেতা। কিন্তু ক্রেতার অভাবে সে গরু বিক্রি হয়নি। সোমবার ঝাড়গ্রামের বিনপুরে ও মঙ্গলবার ফেকো হাটে গরু কেনা-বেচা হয়নি। পশু-হাট বসেনি মালদহের গাজলে। উত্তর দিনাজপুরের সব হাটে গরু বিক্রি কার্যত বন্ধ। জলপাইগুড়ির ক্রান্তির সাপ্তাহিক হাটে পশু-বাজার বসেনি। শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার হাটে গরু বিক্রি হচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বড় পশুর হাট বসে ইলামবাজারের সুখবাজারে। এ দিন সে হাট জনমানবশূন্য। দুই বর্ধমানে বন্ধ গরুর হাট। ভিড় কমেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের সরকারি পশু-হাটেও।

কারণ কী? বেলডাঙার হাট মালিক পক্ষের তরফে মহম্মদ মাহিরুল হক বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের দেওয়া পশু জবাই সংক্রান্ত সাম্প্রতিক নির্দেশিকার কপি হাটে টাঙিয়েছি। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জানিয়েছি। যার ফলে, ক্রেতা-বিক্রেতারা এ দিন হাটে আসেননি বললেই চলে।’’ স্থানীয় বিক্রেতা আবু বাক্কার বলেন, ‘‘সরকারি আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের নীচে গরু কোরবানি করা যাবে না। গরুর বয়সের শংসাপত্র লাগবে। তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। গরু নিয়ে রাস্তায় বেরোলে পুলিশি হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে, গো-রক্ষা বাহিনীর ঝামেলার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতি।’’ ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, পশু বলি সংক্রান্ত নির্দেশিকা ছাড়াও, পশু ক্লেশ নিবারণ আইন মানতে হলে, এক গাড়িতে অনেক গরু হাটে আনা-নেওয়া যাবে না। সেটিওসমস্যার কারণ।

‘বঙ্গীয় যাদব মহাসভা’র সহকারী সভাপতি সুনীল ঘোষ বলেন, ‘‘গোপালকেরা যে সব গরু দুধ দেয় না বা সন্তান প্রসব করে না সেগুলি বিক্রি করেন। আশা করব, রাজ্য সরকার গোপালকদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়াবে।’’ ঝাড়গ্রাম জেলা মুসলিম সমন্বয় কমিটি সভাপতি নবাব আলির কথায়, ‘‘গরু ব্যবসার সঙ্গে সব ধর্মের মানুষ জড়িত। সব মিলিয়ে বহু কোটি টাকার ক্ষতি। এ ভাবে চললে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষতিকরপ্রভাব পড়বে।’’

পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করে সমাজমাধ্যমে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের করা একটি ‘পোস্ট’ ‘উস্কানিমূলক’ দাবি করে নদিয়ার করিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপি নেতা গোলক বিশ্বাস। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তা ‘এফআইআর’ হিসেবে গণ্য হয়নি। ভাঙড়ে গরুর হাটে পরিস্থিতির প্রতিবাদে সভা করে সিপিএম।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন