মূল অভিযুক্ত টারজান সবে ১৮

arrest: গুলি-কাণ্ডে গ্রেফতার ৩

মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিল পটাশপুরের বিশ্বনাথপুরের আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা বাপি। বুধবার ভোরে বাড়ির অদূরে বিশ্বনাথপুর গার্লস স্কুলের সামনে বাপির গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়া যায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ০৭:২৭
Share:

থানায় ধৃতেরা। একেবারে ডান দিকে টারজান নায়েক। নিজস্ব চিত্র।

গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধারের দু’দিনের মাথায় পুলিশের জালে ধরা পড়ল তিন দুষ্কৃতী। জেরায় জানা গেল, এলাকায় শান্তশিষ্ট হিসাবে পরিচিত নিহত বাপি নায়েক আসলে চুরি-ডাকাতি চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। আর চুরির টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে বচসাতেই বাপির মাথায় গুলি করে খুন করে তার তিন সঙ্গী টারজান নায়েক, লক্ষ্মণ নায়েক এবং তাপস সোরেন। এদের মধ্যে টারজানের বয়স মাত্র ১৮ বছর। বাপির মাথায় সে-ই গুলি চালিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

Advertisement

মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিল পটাশপুরের বিশ্বনাথপুরের আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা বাপি। বুধবার ভোরে বাড়ির অদূরে বিশ্বনাথপুর গার্লস স্কুলের সামনে বাপির গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়া যায়। ওই দিনই এলাকায় গিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ধৃত তিন জনের বাড়ি বাপির পাড়াতেই। পুলিশ সূত্রের খবর, দেহ মেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এই তিন জনও ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। অন্যদের পাশাপাশি এদেরও পুলিশ প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তবে টারজানদের কথায় অসঙ্গতি থাকায় তাকে-সহ চারজনকে প্রথমে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ একজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও টারজান, তাপস এবং লক্ষ্মণকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই তিন জন স্বীকার করে যে, তারা বাপিকে খুন করেছে। এর পরেই বৃহস্পতিবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করে পটাশপুর থানার পুলিশ। যদিও ধৃত তাপসের বাবা পীতাম্বর সোরেনের দাবি, ‘‘সেদিন রাতে ৯টা নাগাদ ও বাড়ি চলে আসে। খুনের ঘটনার সঙ্গে আমার ছেলে যুক্ত নয়। কোনও দিন চুরি করতে ও যেত না।’’ ধৃতদের শুক্রবার কাঁথি আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

জেরায় ধৃতেরা পুলিশকে জানিয়েছে, টারজানই বাপির মাথায় গুলি করে। অন্য দুই দুষ্কৃতী লক্ষ্মণ এবং তাপস বাপির দেহ সরাতে সাহায্য করেছিল। পুলিশ জানতে পেরেছে, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পটাশপুরে একাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় বাপি এবং ধৃতেরা জড়িত। বাপি পাড়ায় এবং বাড়ির লোকের কাছে শান্ত-সরল স্বভাবের যুবক হিসাবে নিজেকে দেখালেও রাতে চুরি-ছিনতাইয়ে যুক্ত থাকত। কয়েক সপ্তাহ আগেও বাপি এবং অন্যেরা গাছের গুঁড়ি এবং কলা চুরি করেছিল।

ধৃতেরা পুলিশকে জানিয়েছে, চুরির সামগ্র পাচারের জন্য নিজের ইঞ্জিন রিকশা ব্যবহার করত বাপি। কখনও চুরির সামগ্রী বিক্রিও করতে সে। কিন্তু সেই সব সামগ্রী বিক্রির টাকার সঠিক ভাগ বাপি দিত না। একাধিকবার এমন ঘটায় টারজানরা বাপিকে খুন করার ছক কষে। সেই মতো একটি আগ্নেয়াস্ত্র পশ্চিম মেদিনীপুরে তাদের দলের আরেক পরিচিতের কাছ থেকে নিয়ে আসে।

খুনের পরিকল্পনা মতো মঙ্গলবার রাতে চারজন দুষ্কৃতী স্কুলের সামনে বাপির পথ আটকায়। সেখানে ভাগবাটোয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বচসা হয়। ওই বচসার মধ্যে টারজান বাপির মাথায় গুলি করে। বাপি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তাপস-লক্ষ্মণেরা তাকে টেনে স্কুলের দেওয়ালে আড়ালে ফেলে পালিয়ে যায়। সে সময় ঘটনাস্থলের উল্টো দিকে দেশি পিস্তলটিও ফেলে দেয়।

কারও যাতে সন্দেহ না হয়, সে জন্য ধৃতেরা রাতে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যায়। পরের দিন প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলেও গিয়েছিল। এগরার এসডিপিও মহম্মদ বৈদুজ্জামান বলেন, ‘‘চার জনের মধ্যে তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুরির জিনিসের বিক্রির টাকা ভাগবাটোয়া নিয়ে বাপিকে তাকে খুন করেছে বলে স্বীকার করেছে ধৃতেরা। আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement